Published : 03 Jun 2026, 06:15 PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সাইপ্রাস মিশনে নতুন ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম।
বুধবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন বলে সরকারপ্রধানের উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম নতুন দায়িত্ব নিতে সাইপ্রাস যাওয়ার আগে আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা, পেশাদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ও গৌরব সম্মুন্নত রাখার বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম গত ৯ এপ্রিল সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি দেশের অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পেলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেইনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম। নতুন দায়িত্ব নিতে আগামী শুক্রবার তিনি নিই উইর্য়কে যাবেন।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে একজন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১০ জন সামরিক কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন। পশ্চিম সাহারার ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশের মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান।

১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান। পরের বছর সেখানে একই দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সালাম।
এছাড়া মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর সুদানে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু তায়েব মুহাম্মদ জহিরুল আলম লাইবেরিয়ায়, মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ আইভরি কোস্ট ও পশ্চিম সাহারায়, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাইপ্রাসে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইউএনএফআইসিওয়াইপি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর দীর্ঘতম সময় ধরে পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর একটি। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে এই মিশন শুরু হয়। বর্তমানে ১৮টি দেশের সহস্রাধিক সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করা মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে পদাতিক কোরে কমিশন পান। তিনি ‘অপারেশন কুয়েত পুর্নগঠন’ মিশনের নেতৃত্বে দেন।
তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত একটি ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেন এবং কক্সাবাজার এলাকার দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের চিফ ইন্সট্রাক্টর ও কমান্ডেন্ট, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি।
চাকরি জীবনে সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ বাহিনীর সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন মিনহাজুল আলম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইডি ডিগ্রি পান।