Published : 12 Sep 2026, 09:20 PM
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিতই আলোচনায় আসা ঢাকার মোহাম্মদপুরে এবার কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, “এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না, কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ মোহাম্মদপুরে থাকবে না।”
শনিবার বছিলা পুলিশ লাইন্সে মোহাম্মদপুরের নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক ‘বিশেষ মতবিনিময় সভায়’ উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রধান।
সন্ধ্যার আগমূহুর্তে ওই সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘উন্নতির দিকে’।
তবে পরিসংখ্যান দিয়ে বিষয়টি সবসময় ‘বিচার করা ঠিক নয়’ বলেও স্বীকার করেন তিনি।
সভায় মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকার নাগরিকরা এদিন তার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এর প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনার কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইকে ‘প্রধান সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলেছেন।
সভায় র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনারও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এমন হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, “আমরা একসাথে ঘোষণা করলাম। তার মানে এই নয় যে, এখনই কিশোর গ্যাং সব আমরা ধরে ফেলব। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা প্রতিদিন এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান করব এবং অতি সত্ত্বর এই মোহাম্মদপুর কিশোর গ্যাং মুক্ত হবে।
“কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ মোহাম্মদপুরে থাকবে না।”
একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “মাদক বিরোধী আমাদের যে অপারেশনগুলা প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে…আমাদের অভিযান চলবে।”
ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “ছিনতাইকারী তার হাতে ছুরি, মানে অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বলেন অথবা চাপাতি বলেন অথবা দেশি অস্ত্র বলেন, যেই ধরনের অস্ত্র যদি কোনো ছিনতাইকারীর কাছে থাকে এবং সেই অস্ত্র দিয়ে যদি সে কারো ওপর আক্রমণ করতে যায়, কারো ব্যাগ ছিনতাই করতে যায়, সেটা পুলিশ হোক, পাবলিক হোক তার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
“ঠিক যেখানে আমাদের অস্ত্র প্রয়োগ করার প্রয়োজন হবে, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে আমরা অস্ত্র প্রয়োগ করব।”
ঢাকার প্রত্যেক বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের সভা করার কথাও বলেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, “নাগরিকবৃন্দ চান যে, এই মোহাম্মদপুর এলাকায় একটা ছিনতাইও ঘটবে না। আপনারা চান এখানে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না। আপনারা চান এখানে কোনো মাদক থাকবে না। আপনাদের চাওয়ার সাথে পুলিশ কমিশনার হিসেবে আমি একমত।”
কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন পুলিশের ‘একার পক্ষে সম্ভব সম্ভব নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করব। আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং পর্যায়ক্রমে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছবো।”
এজন্য তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশকে আরও ‘জোরালো ভূমিকা’ রাখার আহ্বান জানান।
মোহাম্মদপুরের মাদকের স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা পুলিশের কাছে আছে জানিয়ে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “আমরা সেই লিস্ট ধরে ধরে অপারেশন করছি। আমি আজ এই সভার মাধ্যমে আমাদের এখানে, মোহাম্মদপুরে যারা আমাদের পুলিশের আছেন, সকল ফোর্সকে এই নির্দেশনা দিচ্ছি, মোহাম্মদপুরের প্রত্যেকটি মাদক স্পটে আমাদের অভিযান আরও জোরালো করতে হবে।”