Published : 08 Oct 2025, 06:48 PM
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ‘চূড়ান্ত রোডম্যাপ’ শুক্রবারের মধ্যে সরকারকে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি আলী রীয়াজ।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, "জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোটের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। ফলে এখনকার পরিস্থিতিটা হচ্ছে, গণভোটের পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে আর কী কী পদক্ষেপ নিতে পারি, যেটা নিশ্চিত করে যে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”
তিনি বলেন, "গত দিনের আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা এক জায়গায় আসতে পেরেছি একটি ধাপ হিসেবে। মনে করি, আজকের আলোচনার মধ্যে বাকি যে অংশগুলো আছে সেগুলো আমরা নিষ্পত্তি করতে পারব।
“গোটা দেশ অপেক্ষা করছে, আমরা সকলে মিলে এমন একটি ঐকমত্যের জায়গায় পৌঁছতে পারব, যাতে করে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের পথরেখাটা নির্ধারিত হয়।"
রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো সঙ্কলিত করে তার সঙ্গে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা যুক্ত করে ইতোমধ্যে জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় একমত্য কমিশন। কিন্তু এ সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
বিএনপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলে আসছিল। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েক দল চাইছিল, নির্বাচনের আগেই এ সনদ বাস্তবায়ন হোক।
মূলত এ বিরোধ নিয়েই এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ অচলাবস্থা নিরসনে গণভোটের প্রস্তাব তোলে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলো।
শুরুতে গণভোটের বিরোধিতা করলেও পরে সে অবস্থান থেকে সরে আসে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।
এখন তারা বলছে, গণভোট হতে পারে, তবে সেটা হতে হবে সংসদ নির্বাচনের দিনেই; আলাদা ব্যালট পেপারে।
৫ অক্টোবর দলগুলোর সঙ্গে চতুর্থ দফা বৈঠকের পর আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গণভোট আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলো ‘একমত’ হয়েছে।
এখন গণভোটের খুটিনাটি ও অন্যান্য বিষয় ঠিক করতে বুধবার আবার বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
সূচনা বক্তব্যে আলী রিয়াজ বলেন, বৈঠকে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট কোনো প্রস্তাব যদি আসে, কমিশন সরকারকে সেটাই উপস্থাপন করবে।
“কমিশন চাইবে যে সেটাই বাস্তবায়িত হোক। সকলের প্রচেষ্টায় অনেক দূর অগ্রগতি হয়েছে, গণভোটের ক্ষেত্রে আমরা সকলেই একমতে আসতে পেরেছি।
"আজকের আলোচনায় আমরা যদি চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছার ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া… গণভোটের জায়গায় যেতে হলে যে আইনি প্রক্রিয়া লাগবে, যাতে করে আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারি, গণভোটটা অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং কী কী বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেটার একটা ধারণা এসেছে।"
আলী রীয়াজ বলেন, "যেহেতু কিছু নোট অফ ডিসেন্ট আছে সেটাকে আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। সবগুলো একভাবে বিবেচনা করা যাবে, তা আমরা মনে করছি না। কারণ হচ্ছে যে সমস্ত রাজনৈতিক দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, তারা তাদের অবস্থানের দিক থেকে দিয়েছেন। ফলে আমাদেরকে দেখতে হবে যে জনগণের যে সম্মতি, সে সম্মতির ক্ষেত্রে যেন তারা এটা জেনে শুনেই সম্মতি নিতে পারে।
"রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু দলের এ বিষয়ে আপত্তি আছে যেটা জুলাই সনদে বিস্তৃতভাবে বলা হচ্ছে, কী কী কারণে কোন জায়গায় তাদের আপত্তি জায়গাটা আছে।"
গণভোট অনুষ্ঠানের একটি সময়সীমা যদি রাজনৈতিক দলগুলো ঠিক করতে পারে, কমিশনের কাজ তাতে সহজ হবে।
“আমরা আশা করছি, আজকে এই জায়গায় আমরা চূড়ান্ত করতে পারব। কিন্তু যদি প্রয়োজন হয়, আরো একদিন, বড় জোর দুদিন এজন্য ব্যয় করতে পারব। কিন্তু ১০ তারিখের মধ্যে আমরা এটা সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিতে চাই। আমরা আশা করছি সেটা দিতে পারব।”
কমিশনের সহ সভাপতি বলে, "আমরা চাই, আগামী ১৫-১৬ অক্টোবরের মধ্যে যাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের একটা অনুষ্ঠান করতে পারি। সেটা আমাদের লক্ষ্য, সেই সহযোগিতা করবেন ।"