Published : 23 Apr 2026, 04:38 PM
জুলাই আন্দোলনের আরেক হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক আফজাল নাছেরকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
শুনানি নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
এ নিয়ে তিন মামলায় আট দফায় মোট ২৭ দিন রিমান্ড হলো আফজাল নাছেরের।
২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন আফজাল নাছের। ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে ২৯ মার্চ গভীর রাতে সেনাবাহিনীর এই সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পরদিন জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় ওইদিন তাকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
এরপর বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আরো চার দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
তারপর জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ১৭ ও ২০ এপ্রিল দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ড হয় আফজাল নাছেরের।
রিমান্ড শেষে এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম মনিরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পরে উত্তরা পূর্ব থানার মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় আফজাল নাছেরের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন উত্তরা পূর্ব থানার এসআই মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।
আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে এই আসামি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য তার নির্দেশে ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড দরকার।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরি। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।
“উভয় পক্ষের শুনানি অন্তে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নেন মাহমুদুল হাসান। বিকাল ৪ টার সময় আজমপুর ফুটব্রিজের নিচে আন্দোলনকারীরা পৌঁছালে আসামিরা গুলি ছোড়ে। মাহমুদুল হাসানের শরীরে গুলি লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যা মামলা হয়।