Published : 15 Apr 2026, 09:45 PM
সারা দেশে আট দিনে সাড়ে নয় লাখ শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ‘জরুরি টিকাদান কর্মসূচি’ ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু হয়েছিল। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
“দেশের বাকি অংশে টিকাদান কার্যক্রম ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। ৫ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪০ জন শিশু টিকা পেয়েছে।”
তিন বিমানবন্দরে ‘ফ্রি ওয়াইফাই’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর (রাজশাহী), সৈয়দপুর বিমানবন্দর, ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন ও কক্সবাজার রেল স্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে।
“আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রামে হযরত শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।”
হাওর, বাওর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ব্রডব্যান্ড ওয়াইফাই সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১১টি ‘ওয়াইফাই হটস্পট’ স্থাপন করা হয়েছে। ৩৫৬ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার মোবাইল অপারেটরদের হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৬০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতিতে
চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থ বিভাগে ভর্তুকির চাহিদার পরিমাণ ৩৭ হাজার কোটি টাকা বলে তথ্য দিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “আমদানি, সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ও নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) মোট ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার ৪২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা দাঁড়াবে।
“সরকার শুধু আইপিপি (বেসরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র) থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের ফলে সৃষ্ট ঘাটতির বিপরীতে ভর্তুকি দিলেও আদানিসহ বিদ্যুৎ আমদানি, সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ও বিউবোর নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘাটতির কোনো অর্থ ভর্তুকি না দেওয়ায় মোট ঘাটতি ও ভর্তুকির চাহিদার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।”
বিউবোর দেনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, “আইপিপি ২০ হাজার ২৭১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, আদানি পাওয়ার ২ হাজার ৯০৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা, জয়েন্ট ভেঞ্চার ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা, পেট্রোবাংলা ১০ হাজার ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে ৭ হাজার ৩০৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দেনা রয়েছে বিউবোর।”
হজ ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল
এপ্রিলের ১৮ তারিখ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ১৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। ইতোমধ্যে শতভাগ হজযাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হয়েছে।”
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত এবং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
প্রথম পর্যায়ে একটি পাইলট স্কিমের আওতায় গত রোজার ঈদের আগে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং প্রতিটি পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া অন্যান্য উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির, বৌদ্ধ বিহার রয়েছে এমন ৭২টি উপজেলার প্রতিটি থেকে দুটি করে মোট ১৪৪টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার তথ্য দেন তিনি।
খাল খননে বরাদ্দ ৪২৫ কোটি টাকা
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ২০২৫-৩০ মেয়াদে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখনন/সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখননের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তথ্য দেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “বর্তমান এ কর্মসূচিটি অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) বরাদ্দে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪২৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। খালপাড়ে বনজ, ফলদ ও ওষুধি গাছ লগানো হবে, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, চাহিদা পূরণ ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি বলেন, “ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ভূমিকম্পের প্রস্তুতি বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করার পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
১৫ উপজেলার সকল কৃষক পাবেন কার্ড
প্রথম ধাপে আট বিভাগে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ‘ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র’ এই তিন শ্রেণির কৃষক গড়ে বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা পাবেন। এই কার্ড কৃষি ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।”
১৫ উপজেলার সকল কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সারা দেশে ‘ভূমি সেবা মেলা’ হবে।