০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেঙ্গুতে ‘রেকর্ড মৃত্যুর বছরে’ সাফল্য দাবি মেয়র তাপসের

ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের দাবি, সফলতার সঙ্গে এইডিস মশা নিধন করায় ঢাকা মহানগরীতে রোগী ২০১৯ সালের তুলনায় কম ছিল গত বছর। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে উল্টো কথা।

ডেঙ্গুতে ‘রেকর্ড মৃত্যুর বছরে’ সাফল্য দাবি মেয়র তাপসের
বুধবার মালিবাগ মোড় সংলগ্ন উড়ালসেতুর নিচে গণশৌচাগার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। পরে তিনি কথা বলেন ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এইডিস মশার বিস্তার রোধ নিয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Feb 2025, 08:56 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:05 PM

ডেঙ্গুতে রেকর্ড আক্রান্ত ও মৃত্যুর বছর ২০২৩ সালে ‘সাফল্যের সঙ্গে’ এইডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। 

তার দাবি, ‘মশা নিয়ন্ত্রণের কারণে’ ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর ‘ঢাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অর্ধেক কমেছে’; যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে বিপরীত চিত্র। 

বুধবার মালিবাগ মোড় সংলগ্ন উড়ালসেতুর নিচে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের গণশৌচাগার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই দাবি করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়, মেয়র তাপস বলেন, “২০১৯ সালে ঢাকা শহরে ১ লাখ ৫৫ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত বছর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ২০১৯ সালকেও ছাড়িয়ে যাবে। আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। 

“আমাদের মশককর্মী, যান-যন্ত্রপাতি, মানসম্পন্ন  কীটনাশক মজুদ ও কাউন্সিলরবৃন্দের সহযোগিতায় আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি। রোগীদের ঠিকানার ৪০০ গজের মধ্যে বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনাসহ বিভিন্ন জায়গা ও স্থাপনায় আমাদের মশককর্মীরা কাজ করেছে।”

সাফল্যের দাবি করে তিনি বলেন, “সফলতার সাথে এইডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি বলেই ২০২৩ সালে উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোগী ছিল ১ লক্ষ ১৩ হাজার। 

“সুতরাং ২০১৯ এর তুলনায় ২০২৩ সালে ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার কম ছিল। এ বছরও সকলের সহযোগিতায় ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।”

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ড হয়েছে ২০২৩ সালে। ঢাকায় ৯৮০ জন এবং সারা দেশে ১ হাজার ৭০৫ জন মারা যায় বছরটিতে। অথচ মেয়র তাপস দাবি করেছেন সাফল্যের

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ড হয়েছে ২০২৩ সালে। ঢাকায় ৯৮০ জন এবং সারা দেশে ১ হাজার ৭০৫ জন মারা যায় বছরটিতে। অথচ মেয়র তাপস দাবি করেছেন সাফল্যের

তবে ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের এই বক্তব্য আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে আছে বিস্তর পার্থক্য। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে ২০১৯ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। এদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটির রোগী ছিলেন ৫১ হাজার ৭৬২ জন।

সে বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে মারা দিয়েছিলেন ১৭৯ জন। ঢাকায় কত জন মারা গিয়েছিলেন, আলাদা করে সেই তথ্য নেই। 

চার বছর পর ২০২৩ সাল হয়ে উঠে ভয়ংকর। সেবার সারা দেশে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ রোগী শনাক্ত হন। এদের মধ্যে ঢাকার ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার ৮ জন।

অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ঢাকায় রোগী ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।

কেবল রোগীর সংখ্যা নয়, মৃত্যুর দিক দিয়েও ২০২৩ সাল ছিল বেদনাবিধুর। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসাবে সারা দেশে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় ওই বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত।  ঢাকায় সংখ্যাটি ছিল ৯৮০।

অর্থাৎ ২০১৯ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে যত মানুষ মারা গিয়েছিল, ২০২৩ সালে তার পাঁচ গুণ মারা যায় কেবল ঢাকা শহরে।

মালিবাগ মোড় সংলগ্ন উড়ালসেতুর নিচে গণশৌচাগার উদ্বোধন শেষে মেয়র তাপস দাবি করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য ‘সঠিক নয়’

মালিবাগ মোড় সংলগ্ন উড়ালসেতুর নিচে গণশৌচাগার উদ্বোধন শেষে মেয়র তাপস দাবি করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য ‘সঠিক নয়’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য ‘সঠিক নয়’ বলেও দাবি করেন তাপস। তিনি বলেন, “এক মাস আগে আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে আমরা বলেছি, আমাদেরকে ডেঙ্গু রোগীর যে তথ্য দেওয়া হয় তা পরিপূর্ণ সঠিক নয়, অসম্পূর্ণ। ফলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার রোগীদের তথ্য পেতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়। 

“ঢাকার বাইরে থেকে যে রোগী আসে তাদেরকে পৃথক করা কঠিন কোনো কাজ নয়। কারণ, তাদের বেশিরভাগই রেফারেল হয়ে আসে। তাদেরকে পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ করলে ঢাকার প্রকৃত রোগী শনাক্ত করা সহজ হয়।”

মেয়র বলেন, “যদি রোগীর হয় ১০ জন সেখানে যদি আমাদেরকে (ঢাকার বাইরের রোগীসহ) ১০০টা ঠিকানা দেওয়া হয়, তাহলে বাকি ৯০টা ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে আমাদের সময়ক্ষেপণ হয়। 

“যদি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয় তাহলে আমাদের পক্ষে সঠিকভাবে (এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসের) কাজটা করা কষ্টসাধ্য হয়। সঠিক তথ্য দিলে আমরা সঠিকভাবে কাজটা করতে পারি। ঢাকাবাসীকে আমরা আরও বেশি ফলপ্রসূ সেবা দিতে পারব।”

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকাও প্রত্যাশা করছেন মেয়র তাপস। তিনি বলেন, “প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২১ মে আমরা সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করব। ইতোমধ্যে তাদেরকে পত্র দেওয়া হয়েছে। 

“এছাড়া আমরা বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, থানা ও পুলিশ ফাঁড়িসহ সকল সরকারি, আধাসরকারি স্থাপনা ও আবাসনে চিরুনি অভিযান করব।” 

মেয়র তাপস জানিয়েছেন, তারা এইডিসের লার্ভা নিধনে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি-আধা সরকারি স্থাপনায় অভিযান চালাবেন। এরপর থেকে লার্ভা পাওয়া গেছে তাদের দায়িত্ব

মেয়র তাপস জানিয়েছেন, তারা এইডিসের লার্ভা নিধনে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি-আধা সরকারি স্থাপনায় অভিযান চালাবেন। এরপর থেকে লার্ভা পাওয়া গেছে তাদের দায়িত্ব

এই অভিযানে লার্ভা পাওয়া গেছে সেগুলো নিধন করা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, “পরবর্তীতে সেসব স্থাপনা ও আবাসনে যাতে এডিসের প্রজননস্থল সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, অঞ্চল-২ এর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সোয়ে মেন জো, কাউন্সিলরদের মধ্যে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের খ ম মামুন রশিদ শুভ্র ছিলেন।