Published : 04 Nov 2025, 05:29 PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তার ছাত্রীর জামিন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন বলে জানান অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা চৌধুরী সুমন।
এদিন ওই ছাত্রীর জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মাহমুদুল হাসান শহীদ।
শুনানিতে তিনি বলেন, “আসামি ঘটনার সাথে জড়িত নয়। পুলিশ অহেতুক হয়রানি করার জন্য গত ২১ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করে।
“আসামির বিরুদ্ধে এজাহারে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নাই। তিনি একজন কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং কিশোরী। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামির জামিনের প্রার্থনা করছি।”
কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা চৌধুরী সুমন জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, “এ আসামি হত্যা মামলার আসামি। নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
“তাকে জামিন দেওয়ার কোনো কারণ নেই। জামিন পেলে পলাতক হবেন। তার জামিনের ঘোর বিরোধিতা করছি।”
উভপক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নাকচ করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুবায়েদ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। প্রতিদিনের মত গত ১৯ অক্টোবর বিকালে ছাত্রীকে পড়ানোর জন্য তার বাড়িতে যান। সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী জুবায়েদের ক্যাম্পাসের ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বলেন, “জুবায়েদ স্যার, খুন হয়ে গেছে, কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে”।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাটি জুবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনে জানান। এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাস্থল গিয়ে দেখেন—জুবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ ছাত্রীর বাড়ির তৃতীয় তলায় উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে।
এরপর ২১ অক্টোবর এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা করেন। তিনি এজাহারে অভিযোগ করেন, ওই ছাত্রী, তার প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধু পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাল অস্ত্র দিয়ে জুবায়েদ হত্যা করেছে।