১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তাপপ্রবাহ বইছে ৫১ জেলায়, আরো ৩ মৃত্যু

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁসের মধ্যে মেহেরপুর, সিলেট ও নরসিংদীতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

তাপপ্রবাহ বইছে ৫১ জেলায়, আরো ৩ মৃত্যু

তীব্র গরমে একটানা কাজ করতে পারছেন না বেনাপোল স্থলবন্দরের শ্রমিকরা। তাতে পণ্য লোড-আনলোডে দেখা দিয়েছে ধীর গতি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Apr 2024, 08:49 PM

Updated : 21 Apr 2024, 11:39 PM

দিনের শুরুতে দেশের ৪৯ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও রোববার সন্ধ্যা নাগাদ তা আরও দুই জেলায় বিস্তৃত হওয়ার খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিন সন্ধ্যার বুলেটিনে সংস্থাটি জানিয়েছে, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে রাজশাহী, টাঙ্গাইল, যশোর ও কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে।

এর বাইরে মৌলভীবাজার, চাঁদপুর জেলাসহ ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে রংপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে।

রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, “বৃষ্টিপাত না থাকায় তাপপ্রবাহের এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২৩-২৪ এপ্রিল পর্যন্ত এমন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।”

এপ্রিল যে সবচেয়ে উষ্ণতম মাস তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এ মাসে তাপপ্রবাহের এমন প্রবণতা স্বাভাবিক। গেল বছর সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ঈশ্বরদীতে, আর ঢাকায় ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল।

“এবারও তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। কয়েকদিন পর তাপমাত্রা কমতে পারে।”

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে শনিবার; সেদিন যশোরে পারদ উঠেছিল ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তীব্র গরমের কারণে শনিবার স্কুল-কলেজে সাতদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পরদিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অনলাইনে ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁসের মধ্যে রোববার মেহেরপুর, সিলেট ও নরসিংদীতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার মৃত্যু হয়েছিল অন্তত দুইজনের।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন:

পুরানো খবর:

গরমে তিন জেলায় নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু

পুরানো খবর:

বৃষ্টি হয়ত আসবে, স্বস্তি ‘মিলবে না’