Published : 21 Dec 2025, 08:07 PM
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও হাই কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে হুমকির ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক এবং দুঃখজনক’ বলেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, “নয়া দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনের আবাসনে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ অযৌক্তিক ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটাকে ‘বিভ্রান্তিকর প্রপাগান্ডা’ হিসাবে বলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
“হাই কমিশনের সীমানার ঠিক বাইরে দুর্বৃত্তদেরকে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল, যা কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে। সংগঠিত এই আয়োজন নিয়ে হাই কমিশনকে আগে থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।”
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টা নাগাদ তিনটি গাড়িতে করে কিছু লোক এসে বাংলাদেশ ভবনের গেইটে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চিৎকার করে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কিছু কথাবার্তা বলছে- হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে; হাই কমিশনারকে ধরো। পরে তারা মেইন গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করে। ওরা চিৎকার করে চলে গেছে- এতটুকুই আমি জানি।”
সেই খবরের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব হিসাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়ালের একটি বক্তব্য প্রকাশ করে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘বিভ্রান্তিকর প্রপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়ে ঘটনার একটি বিবরণ সেখানে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রপাগান্ডা আমরা দেখেছি। সত্যটা হচ্ছে, ২০ ডিসেম্বর ২০-২৫ জন যুবক নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে জড়ো হয়ে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়েছে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আহ্বান জানিয়েছে।
“নিরাপত্তা বেষ্টনী লঙ্ঘন কিংবা নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরির মত কোনো প্রচেষ্টা সেখানে ছিল না।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, “কয়েক মিনিট পরই ওই দলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা। এই ঘটনার ভিডিও প্রমাণ প্রকাশিত হয়েছে।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশ মিশন বা কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত অঙ্গীকারাবদ্ধ।
দিল্লির এই প্রতিক্রিয়া অবগত হওয়ার হওয়ার কথা তুলে ধরে ঢাকা বলছে, “ভারতের বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার যে অঙ্গীকার করেছে, তা আমরা অবগত হয়েছি।”
বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর ভারত ‘নজর রাখছে’ মন্তব্য করে রাণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে রাখছেন আমাদের কর্মকর্তারা। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে আমাদের জোরালো উদ্বেগ জানানো হয়েছে। আমরাও দীপু দাসের বর্বর হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ভারতের এমন উপস্থাপনের সমালোচনা করে বাংলাদেশ বলছে, “একজন বাংলাদেশি নাগরিক যিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের, তার ওপর বিচ্ছিন্ন আক্রমণকে গোটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হিসাবে দেখানোর যে চেষ্টা ভারত সরকার করেছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।
“এই ঘটনার সন্দেহভাজনদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার অন্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় ভালো। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, নিজ নিজ দেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই অঞ্চলের সব সরকারের দায়িত্ব।”