Published : 24 Aug 2025, 12:07 PM
বঙ্গোপসাগরে ফের আরেকটি লঘুচাপের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর; এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেতও জারি করেছে সংস্থাটি।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক রোববার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইতোমধ্যে অবস্থান করা লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিতে হয়েছে।
“সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে শুরুতে বৃষ্টি না হলেও ২৭ অগাস্ট থেকে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।”
এরপর মাসের বাকি দিনগুলোয় বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এদিনের সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে মৌসুমি অক্ষের সাথে মিলিত হয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার আবহাওয়ার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
গেল এদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে নোয়াখালীতে; ১৩০ মিলিমিটার। এছাড়া, সীতাকুণ্ডে ৮৪ এবং চট্টগ্রামে ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস; সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ২৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।