১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সুপ্রিম কোর্টের ভবন নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির ‘প্রাথমিক সত্যতা’ মিলেছে: দুদক

দুদকের ভাষ্য, আটটি প্যাকেজের মধ্যে অন্তত চারটিতে কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 09:13 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার বিকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ অগ্রগতি তুলে ধরেন কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূলধন অংশে বিধিবহির্ভূতভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না রেখে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করে রাষ্ট্রের অর্থের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।”

দুদক সচিব বলেন, বুধবারের ‘এনফোর্সমেন্ট অভিযানে’ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশসহ এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নথিপত্র সংগ্রহ করে।

অভিযোগ ছিল, প্রকল্পে প্যাকেজ বিভাজনে অনিয়ম, ই-জিপি দরপত্রে কারসাজি, কাজের অস্তিত্ব ছাড়া বিল পরিশোধ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২৭৯ কোটি ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতের একমাত্র অনুমোদিত কাজ ছিল ‘ডব্লিও-ওয়ান’ প্যাকেজ। 

২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ১৫৫ কোটি ৭০ লাখ ৪ হাজার টাকায় সেই কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড বা এনডিইএলকে।

অভিযানে পাওয়া নথির বরাতে দুদক বলেছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি, সংশোধিত ডিপিপি কিংবা হেড অব প্রকিউরিং এনটিটির অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই খাতের কাজ আরও আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়।

ই-জিপির মাধ্যমে এসব কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় মেসার্স কামরুল এন্টারপ্রাইজ, মিম্পা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আরএস এন্টারপ্রাইজ, গ্রাম বাংলা, মেসার্স গোমতি এন্টারপ্রাইজ, রশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, কর্ণফুলী কন্সট্রাকশন ও মেসার্স শোধেষ ডেভেলপমেন্টকে।

প্যাকেজগুলোর মধ্যে ছিল নতুন বেকারি ও ক্যান্টিন নির্মাণ, বেসমেন্ট নির্মাণের অস্থায়ী কাজ, উদ্বোধন অনুষ্ঠানের ভেন্যু সংস্কার ও ক্যাটারিং, গাইড ওয়াল ও ড্রেনের কাজ, অ্যাপ্রোচ রোড, অস্থায়ী ড্রেন, সিআই শিটের বেড়া এবং বালু ভরাট ও ময়লা পরিষ্কারের কাজ।

দুদকের হিসাবে, আট প্যাকেজের বিপরীতে ‘আইবাস++’ প্রতিবেদনে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা পরিশোধের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে অভিযানের বিস্তারিত বিবরণীর আরেক অংশে আট ঠিকাদারকে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

দুদকের দল বলছে, আটটি প্যাকেজের মধ্যে অন্তত চারটির কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এসব কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে করা চুক্তিপত্র বা কাজের পরিমাপ বইও পাওয়া যায়নি।

অন্য চার প্যাকেজে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিবেদনে সেগুলো এনডিইএল করেছে বলে তুলে ধরা হয়েছে।

এনডিইএলের চুক্তি ও পরিমাপ বই পর্যালোচনাতেও তার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দুদকের তরফে বলা হয়েছে। 

অভিযানের বরাতে দুদক বলেছে, ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা মূল্যমানের দরপত্র অনুমোদনের ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর হলেও ১ কোটি ৯৪ হাজার টাকা মূল্যমানের অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ প্যাকেজের দরপত্র তার যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত হয়েছে।

এনফোর্সমেন্ট দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিপিপি, সংশোধিত ডিপিপি বা হেড অব প্রকিউরিং এনটিটির অনুমোদন ছাড়াই মূল কাজ আট ভাগ করে দরপত্র আহ্বান এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজের বাস্তব অস্তিত্ব ছাড়াই বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে ‘মূলত দায়ী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদকের দল।

তবে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

অন্য কর্মকর্তাদের দায়, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এবং অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট চিত্র বের করতে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।