Published : 15 Jul 2025, 03:54 PM
আসছে অগাস্ট মাস থেকে সারাদেশে ৫৫ লাখ পরিবারের মাঝে মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু করবে সরকার, যা চলবে টানা চার মাস।
গেলবারের তুলনায় এবার ৫ লাখ বেশি মানুষ এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আসছেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এই তথ্য জানিয়েছেন।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে।
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “গতবার ৫০ লাখ পরিবারকে চাল দেওয়া হয়েছিল। এবার অর্থ উপদেষ্টা সেটাকে ৫৫ লাখে উন্নীত করেছেন। ৫৫ লাখ পরিবার ৩০ কেজি করে চাল পাবে ছয় মাস। অগাস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর পর্যন্ত চাল পাবে।”
ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস বিরতি দিয়ে ফের ফেব্রুয়ারি মার্চ মাসে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে একটি পরিবার ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল পায়।

চালের বাজারের ঊর্ধমুখী প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম নিতে হয়। শুধু রেগুলেটরি কাজে হয় না। আস্থা বাজার কিছু উদ্যোগও নিতে হয়। বর্তমানে বাজারে সরকারও ক্রেতা হিসাবে রয়েছে। কেনাকাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আগামী অগাস্ট মাস থেকে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি শুরু হবে।”
বাজার ঠিক রাখতে সরকারি মজুদ বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে জানিয়েছেন আলী ইমাম মজুমদার।
তিনি বলেন, “সরকারি কোষাগারে ১৩ লাখ টনের মত খাদ্য মজুদ থাকতে হয়। এই কর্মসূচির ফলে তা কিছুটা কমে যাবে। সেজন্য আমন মওসুমে বন্যা হতে পারে এমন আশঙ্কায় আমরা চার লাখ টন চাল আমদানির চিন্তা করছি।
“গতবার প্রাইভেট সেক্টরকে ১৫ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এনেছিল ৫ লাখ টনেরও কম। এবার আমরা বেসরকারি পর্যায়ে ৫ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেব।”
বৈঠকে বলা হয়েছে, বোরো মওসুমে সাড়ে তিন লাখ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল। এই সময়ের মধ্যে আমরা তিন লাখ ৭৬ হাজার টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ হাজা্র টন বেশি সংগ্রহ হয়েছে।
এছাড়া সাড়ে ৯ লাখ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। ১৪ লাখ টন টার্গেট আছে। অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চাল সংগ্রহ শেষ হবে।