জলবায়ু অভিবাসন মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশির সংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৩৩ লাখে পৌঁছাতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 05:08 PM
Updated : 25 July 2022, 05:08 PM

জলবায়ুকেন্দ্রিক অভিবাসন মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে তা বাংলাদেশ এবং বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আয়োজনে সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন বিষয়ক নীতি সংলাপে এই আশঙ্কা তুলে ধরেন আলোচকরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতি বজায় রাখার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকার যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে তা তুলে ধরেন অনুষ্ঠানে।

বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশির সংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৩৩ লাখে পৌঁছাতে পারে।

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার তার উন্নয়ন পরিকল্পনা কাঠামোতে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা শুরু করেছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে একটা ‘অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় জাতীয় কৌশল’ প্রণয়ন করেছে।”

মন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বোঝা নিয়ে এই অঞ্চলে আমরা সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছি। জলবায়ু অভিবাসী ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গাফিলতি থাকা ঠিক হবে না।”

আবদুল মোমেন বলেন, “বাংলাদেশের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ধীরে ধীরে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা তৈরির মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মুখ খুলছে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের মতো দুর্বল দেশগুলোর পর্যাপ্ত অর্থ ও প্রযুক্তির চাহিদা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

আইওএম-এর উপমহাপরিচালক উগোচি ডেনিয়েলস বলেন, “আইওএম অভিবাসন নীতিমালা এবং প্রায়োগিক জ্ঞান সহায়তা প্রদানে বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যারা ইতোমধ্যে অভিবাসন করেছেন, করতে আগ্রহী এবং যারা অভিবাসন করেননি, সকলের সমস্যা সমাধানে আইওএম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

নীতি সংলাপে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস বলেন, “জলবায়ু অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ‘বাংলাদেশে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সহায়ক অবকাঠামো ২০২২-২০২৬’-তে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। জাতিসংঘ পরিবার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

সংলাপ চলাকালে আইওএম-এর মাইগ্রেশন অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশনের বিশেষ দূত মিস ক্যারোলিন ডুমাস ‘গ্লোবাল অ্যান্ড রিজিওনাল কনসালটেটিভ প্রসেস অ্যান্ড পলিসি ফ্রেমওয়ার্কস'-এর ওপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ড সচিবালয়ের প্রধান গোলাম রব্বানী ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবের প্রেক্ষাপটে মানব গতিশীলতা’ বিষয়ে আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এই নীতি সংলাপের উদ্দেশ্য, জলবায়ু পরিবর্তন-অভিবাসন সংক্রান্ত বৈশ্বিক এজেন্ডাকে আরও গতিশীল করা। মিসরের শারম-এল-শেখ শহরে আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে অভিবাসন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে যাতে বাংলাদেশ নেতৃত্বে দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

সংলাপে সরকার, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা অংশ নেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ, আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক জনাব সালিমুল হক, দুর্যোগ অভিবাসন প্লাটফর্ম সচিবালয়ের প্রধান এটেল সোলবার্গ এবং ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট দিলরুবা হায়দার এবং আইওএম বাংলাদেশ-এর মিশন প্রধান আব্দুসাত্তর এসোয়েভ এই সংলাপে অংশ নেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক