Published : 25 May 2026, 11:27 AM
কোরবানির ঈদে সরকারি ছুটি শুরুর প্রথম দিনে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন থেকে বেশিরভাগ ট্রেন সময়মত ছাড়লেও কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
তবে ট্রেনে ঈদযাত্রা ‘নির্বিঘ্নেই চলছে’ বলে দাবি করেছেন স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন।
সোমবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ভোর ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ১২টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে ধূমকেতু এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস এবং রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন তিনটি দেরিতে ছেড়েছে।
ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও, ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার সূচি ছিল, কিন্তু ওই ট্রেনটি ছেড়েছে ৮টা ১০ মিনিটে।
এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও, ট্রেনটির সম্ভাব্য ছাড়ার সময় দেওয়া হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট।
স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "কমলাপুর স্টেশন থেকে মোট ৬৭টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তনগর ট্রেন, বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার ট্রেন।
“প্রায় সব ট্রেনই সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে।”
সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এদিন যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনের যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। পরিবার, স্বজনদের নিয়ে অনেককে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায়।
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী সুপ্রিম কোর্টের পার্সোনাল অফিসার মো. আশিকুর রহমান স্ত্রী দুই সন্তান ও ছোট ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিরপুর থেকে কমলাপুরে আসেন সকাল পৌনে ৮টার দিকে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলনে, "সব সময়ই ট্রেনে বাড়ি যাই, তবে এবার ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। বলছে পৌনে ১০টায় আসবে, কিন্তু এই গরমে টিকে থাকাই কঠিন। আসলে কখন যে ট্রেন আসবে তার ঠিক নাই।"
রংপুর এক্সপ্রেসের আরেক যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, “ছুটি শুরু হয়েছে, পরিবার নিয়ে রংপুর যাচ্ছি। কিন্তু স্টেশনে এসে শুনলাম ট্রেন আসতে দেড়ি হবে। পরিবার নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ভোগান্তি হচ্ছে।"

দুই মেয়ে নিয়ে রংপুর ঈদ করতে যাচ্ছেন শারমিন সুলতানা নামের এক নারী।
তিনি বলেন, "ওদের বাবা দেশের বাইরে থাকে, তাই দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু ট্রেন নাকি অনেক দেড়িতে আসবে। গরমে আর সহ্য হচ্ছে না। মেয়েদের কষ্ট হচ্ছে।"
একই ট্রেনের আরেক যাত্রী লিজা রহমান বলেন, "উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোর সময়সূচি ঠিক থাকে না। আমরা গরমে কষ্ট করতে পারছি, কিন্তু বাচ্চাদের সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"
স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, "রংপুর এক্সপ্রেস কিছুটা দেরিতে আছে। রেললাইনের ওপর অনেক জায়গায় মানুষ খড় শুকায়, এজন্য ট্রেনকে গতি কমিয়ে চলতে হয়। এতে কয়েকটি ট্রেন দেরিতে এসেছে। এছাড়া যেসব ট্রেন আধা ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট দেরিতে ছাড়ছে, সেগুলো মূলত অপারেশনাল ডিলে।"
বিনা টিকেটে ভ্রমনের চেষ্টা
স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, বিনা টিকেটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিন স্তরের নিরাপত্তা পার হয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হয়।
“যাত্রীদের সুবিধার্থে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।"
তবে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যেই স্টেশনে বিনা টিকেটে প্রবেশের জন্য প্রায় ২০ জনকে জরিমানা করেছে ভ্রামমাণ আদালত।
ময়মনসিংহ থেকে টিকেট না করে কমলাপুরে আসেন সিলেটের যাত্রী ৫৫ বছর বয়সি মো. নূরুল আমিন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী মাজিস্ট্রেট দীপন দেবনাথের নজরে পড়েন তারাকান্দার বাসিন্দা আমিন। তাকে জেরার পর জানা যায় আমিন এসেছেন বিনা টিকেটে।
পরে ৫০ টাকা জরিমানাসহ ঢাকা থেকে সিলেটের ৪৬০ টাকার স্ট্যান্ডিং টিকেট আমিনকে ধরিয়ে দেন দীপন দেবনাথ।
দীপন দেবনাথ বলেন, "এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জনকে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করতে আসছে পেয়েছি। ১০ হাজার টাকার মত স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রি করেছে ভ্রামমাণ টিকেট বিক্রেতারা।"
তবে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।