Published : 10 Sep 2026, 12:09 AM
গাজীপুরে বাসার বারান্দার পাশে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়ে শিশু আহনাফ নিহানের বাম হাত কেটে ফেলার ঘটনায় তাকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ কেনো দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
একইসঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বুধবার এ রুলসহ আদেশ দেয়।
রুলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাওয়ার ডিভিশনের সচিব, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ভবন মালিক সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী মনিরা সুলতানা এবং কেয়ারটেকার মো. ইলিয়াসকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী হাবিবুর রহমানের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করা ব্যারিস্টার ইমাম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল কি না এবং বাড়ির পাশে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি, লাইন ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।”
ঘটনার মূল কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ছিল কি না তাও তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।”
রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর শহরের উত্তর ছায়াবীথি এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন খাইরুল ইসলাম। গত ২০ জুলাই বিকালে বাসার বারান্দার কাছে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দ হয়। এ সময় তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আহনাফ নিহান বারান্দার গ্রিল ধরে থাকলে ট্রান্সফরমার থেকে বৈদ্যুতিক ‘আর্ক ফ্ল্যাশ’ শিশুটির শরীরে লেগে আগুন ধরে যায়।
প্রথমে আহনাফকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। আগুনে শিশুটির শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গত ২৮ জুলাই অস্ত্রোপচারের সময় সংক্রমণ ও জটিলতার কারণে আহনাফের বাম হাত কনুইয়ের নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়।
রিটে বলা হয়, গত মার্চে ওই ভবনের বারান্দার একেবারে পাশে নতুন একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং মে মাসের শুরুতে সেখানে তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও কেয়ারটেকারকে নিরাপত্তা দেয়াল বা কাচের ঘের নির্মাণের অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছে বর্ণনা করে তার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা, কৃত্রিম হাত সংযোজন, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ উপার্জন ক্ষমতার ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে রিটে চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।
এছাড়া তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যয়ের জন্য বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ২৫ লাখ এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকাসহ মোট ৫০ লাখ টাকা তিন দিনের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গত ৯ অগাস্ট সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস দিয়ে ক্ষতিপূরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিটটি দায়ের করা হয়।