০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খণ্ডিত লাশ উদ্ধার: ট্যাটু দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন মা-বাবা, ৫ আসামি রিমান্ডে

একটি সেতুর নিচে থেকে গেল ৬ অগাস্ট ওই তরুণীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

খণ্ডিত লাশ উদ্ধার: ট্যাটু দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন মা-বাবা, ৫ আসামি রিমান্ডে
আদালতে হাজির করা হয় পাঁচ আসামিকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2026, 09:15 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

ঢাকার সবুজবাগে যে তরুণীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করা হয়েছে, তার পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। 

দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীকে শনাক্ত করেন তারা মা-বাবা।

ফালানীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে শনিবার চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মোমিন হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯), ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), মো. সুজন (২০), মামুন (২০) ও মো. রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি (১৯)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকি আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, গেল ৬ অগাস্ট সকাল ৯টার দিকে সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর খামারের পাশের সেতুর নিচে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডিত মাথা এবং পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। 

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর মাথা ও দুই হাত উদ্ধারের তার পরিচয় শনাক্ত করে। 

১৯ বছর বয়সি ফালানী নামের তরুণী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে।

পরে তার মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খণ্ডিত মাথার ছবি ও দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে তারা মরদেহটি তাদের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার আগের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভির ভিডিও দেখা যায়, ৩ অগাস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগীসহ গ্রেপ্তার আসামিদের এবং আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর অনেকক্ষণ একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। 

পরে এ আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তাকে আর কোথাও দেখা যায়নি। ৪ অগাস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ফারুক ও ফালানী বাদে অন্য অসামিরা কালভার্টের ওপর অবস্থান করেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তারা যে যার মতো করে চলে যান।

পুলিশ বলেছে, প্রাথমিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, আসামিদের পূর্ববর্তী স্বভাব-চরিত্র এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রতীয়মান হওয়ায় ওই পাঁচ আসামিকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়। 

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত, তাদের অবস্থান ও ঠিকানা সংগ্রহ এবং গ্রেপ্তারের জন্য গ্রেপ্তারদের রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোমিন বলেন, আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের জামিনের বিরোধিতা করে। 

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে, বলেন তিনি।

ফালানীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ৬ অগাস্ট সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই রাশেদুল হাসান।