ডেঙ্গুতে মৃত্যু পাঁচশ'র কাছাকাছি, আরও ২১৬৮ রোগী ভর্তি
এরইমধ্যে ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ঢাকাকে ছাড়িয়েছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপের বিস্তারের মধ্যে দেশে গত একদিনে মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২১৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; এসময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও আটজনের।
মঙ্গলবার নতুন রোগীদের নিয়ে এবছর হাসপাতালে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪ হাজার ৩৫৯ জন।
এরইমধ্যে ঢাকাকে ছাড়িয়েছে ঢাকার বাইরে হাসপাতালের রোগী ভর্তি হওয়ার পরিমাণ। এ বছর এখন পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৫০ হাজার ১৭০ জনকে; ঢাকার বাইরে এ সংখ্যা ৫৪ হাজার ১৮৯ জন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর এ সংখ্যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৯ সালে দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এবার বছরের চার মাস বাকি থাকতেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৯৩ জনের মৃত্যু হল। এক বছরে মৃত্যুর এ সংখ্যাও যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য বলছে, মঙ্গলবার দেশজুড়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকায় ৮৭২ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ১৩২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। মৃত আটজনের মধ্যে ঢাকায় তিনজন এবং ঢাকার বাইরে পাঁচজন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭ হাজার ৮২৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩ হাজার ৫৭০ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ৪ হাজার ২৫৯ জন।
এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। জুন মাসে যেখানে পাঁচ হাজার ৯৫৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৮৫৪ জনে। অগাস্টের ২২ দিনেই ৫২ হাজার ৫২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মাসের হিসাবে জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন, মে মাসে এক হাজার ৩৬ জন ও জুন ৫ হাজার ৯৫৬ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গুর প্রকোপের বিস্তারের মধ্যে শুধু রোগী ভর্তি নয়, মৃত্যুর সংখ্যাও এ বছর বেড়েছে। জুন থেকে এ রোগে মারা যাওয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকে; ওই মাসে মৃত্যু হয় ৩৪ জনের। জুলাইয়ে তা অনেক বেড়ে ২০৪ জনে গিয়ে ঠেকে। অগাস্টের ২১ দিনে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে; এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ২৪২ জনের।
এর আগে জানুয়ারিতে ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ২ জন, মে মাসে ২ জন এবং জুনে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে।
এ বছর এইডিস মশা শনাক্তে চালানো জরিপে ঢাকায় মশার যে উপস্থিতি দেখা গেছে, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু ঢাকা নয় ঢাকার বাইরেও প্রকোপ বেড়েছে ব্যাপক হারে। এ অবস্থায় সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে মারা গেছেন।
এইডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে দেশের ৬৪ জেলায় রেকর্ড এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সরকারি হিসাবে সে বছর মৃত্যু হয়েছিল ১৭৯ জনের।
