২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেঙ্গু: ভর্তি রোগীর সংখ্যায় ২০১৯ কেও ছাড়াল ২০২৩

এ বছর মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ জনে, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ

ডেঙ্গু: ভর্তি রোগীর সংখ্যায় ২০১৯ কেও ছাড়াল ২০২৩

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2023, 07:10 PM

Updated : 21 Aug 2023, 07:10 PM

ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যায় অতীতের সব রেকর্ড মুছে দিল ২০২৩ সাল।

গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ২১৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাতে দেশে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ জনে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর এই সংখ্যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৯ সালে সারাদেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এতদিন সেটাই ছিল রেকর্ড।

বাংলাদেশে আর কোনো বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা লাখের ঘর ছাড়ায়নি। ২০২২ সালে সারাদেশে ৬২ হাজার ৩৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

গত একদিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯ জনের। তাতে এ বছর মশাবাহিত এ রোগে মোট ৪৮৫ জনের মৃত্যু হল। ডেঙ্গুতে এক বছরে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকার ৮৭২ জন এবং ঢাকার বাইরের ১৩২৫ জন। মৃত ৯ জনের মধ্যে ৬ জন ঢাকার এবং ৩ জন ঢাকার বাইরের।

বর্তমানে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭ হাজার ৬৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী । তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৬০৭ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ৪০৭৯ জন।

এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। জুন মাসে যেখানে পাঁচ হাজার ৯৫৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৮৫৪ জনে। আর অগাস্টের ২১ দিনেই ৫০ হাজার ৩৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এছাড়া জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন, মে মাসে এক হাজার ৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জুনে সারাদেশে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জুলাইয়ে ২০৪ জনের মৃত্যু হয়। অগাস্টের ২১ দিনে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে, এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ২৩৪ জনের।

তার আগে জানুয়ারিতে ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এ্প্রিলে ২ জন, মে মাসে ২ জন এবং জুনে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে।

এ বছর এইডিস মশা শনাক্তে চালানো জরিপে ঢাকায় মশার যে উপস্থিতি দেখা গেছে, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে মারা গেছেন।