Published : 08 Oct 2025, 05:55 PM
গাজাগামী ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজগুলো দখল করে বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ আটক অধিকারকর্মীদের ইসরায়েলের একটি বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে সেদেশের নৌবাহিনী।
ফ্রিডম ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসা ‘আদালাহ - দ্য লিগাল সেন্টার ফর আরব মাইনোরিটি রাইটস ইন ইসরাইল’এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দৃক, শহিদুল আলম যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দৃক বলেছে, “আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের উপর ইসরায়েলের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।”
ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) এবং থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা (টিএমটিজি) এর দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিকে জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে দৃক।
এর আগে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহরের ৪০টির বেশি ত্রাণবাহী নৌযান ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় ঢোকার চেষ্টা করেছিল। ইসরায়েলি সেনারা সেগুলো দখল করে নেয় এবং জাহাজগুলোতে থাকা চার শতাধিক অধিকারকর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়।
এরপর আরও ১১টি জাহাজের আরেকটি নৌবহর ১ অক্টোবর গাজা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে, যার আয়োজক আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) এবং থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা (টিএমটিজি)।
এ বহরের ‘কনশানস’ নামের জাহাজটিতে দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ ২৫ দেশের সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ছিলেন। ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্বের অবসান এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা গাজা অভিমুখে রওনা হয়েছিলেন।
বুধবার সকালে ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম বলেন, “ইসরায়েলি হানাদার বাহিনী আমাদের জাহাজে উঠেছে এবং আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় ইসরায়েল যে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে সকল কমরেড ও বন্ধুদের ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরে দৃকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার ফিলিস্তিনি সময় আনুমানিক সকাল ৬টার সময় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা) গাজা থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল (২২০ কিলোমিটার) দূরে ফ্রিডম ফ্লোটিলার ‘কনশানস’সহ সর্বমোট ৮টি জাহাজকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘সহিংসভাবে দখল করে’ নেয় ইসরায়েলের বাহিনী।
ভোরে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে, কনশানসের গাজাগামী যাত্রীরা একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টারের আক্রমণের কথা জানান। ওই সময় ইসরায়েলি নৌবাহিনী একসঙ্গে থাউজেন্ড ম্যাডলিনস বহরের পালতোলা নৌকাগুলোও দখল করে নেয়।
দৃক বলছে, “পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ-সমর্থিত গণহত্যা ও বেআইনি গাজা অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে ফ্রিডম ফ্লোটিলার এই জাহাজগুলিকে দখল করার কোনো আইনি অধিকার ইসরায়েলের নেই।”
তাদের দাবি
১. গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে।
২. গাজায় ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধের অবসান হতে হবে।
৩. ফিলিস্তিনিদের কাছে সরাসরি মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে।
৪. ফ্রিডম ফ্লোটিলা গাজাগামী নৌবহর থেকে অপহৃত সকল সাংবাদিক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী এবং জাহাজের সকল নাবিককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
৫. ফ্রিডম ফ্লোটিলার গাজাগামী নৌবহরের উপর সামরিক আক্রমণের পূর্ণ আইনগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসরায়েল সরকার প্রায় ২ বছর ধরে গাজায় গণমাধ্যমকর্মীদের যাতায়াত ও সংবাদ প্রবাহ বন্ধ করে রেখেছে।