Published : 29 Jun 2026, 12:17 AM
ঢাকার কাঁটাবন এলাকার আল বারাকা টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতা আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত চালানোর কথা বলেছেন নিউ মার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন।
শুক্রবার রাতে আল বারাকা টাওয়ারের ১৩ ও ১৪ তলায় আগুন লাগে। এতে আবদুল্লাহ আল নোমানের চেম্বার পুড়ে যায়; নিহত হন সেখানে থাকা দুই কর্মচারী।
আবদুল্লাহ আল নোমান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত আইনজীবী হাসান আরিফের ছেলে। আগুনে পুড়ে যাওয়া চেম্বারটিতে একসময় হাসান আরিফ বসতেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে ব্যারিস্টার মোয়াজ ও আবদুল্লাহ আল নোমান চেম্বারটি পরিচালনা করছিলেন।
শনিবার ব্রিফিংয়ে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ঘটনার রাতে ১২টা ৪৭ মিনিটে দাপ্তরিক সহকারী আবদুস সালাম তাকে ফোন করে আগুন লাগার খবর দেন।
“সালাম জানান, রাত ১২টা ২৭ মিনিটের পর থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ‘নো রেকর্ড’ দেখাচ্ছিল। তার ধারণা, আগুন লাগার আগে কেউ সিসিটিভির মেমোরি কার্ড সরিয়ে ফেলেছে অথবা সেটি নষ্ট করে দিয়েছে।”
আবদুল্লাহ আল নোমানের বর্ণনা অনুযায়ী, “দাপ্তরিক সহকারী আবদুস সালাম ফোনে তাকে বলেন, ‘স্যার, আমাকে বাঁচান; চেম্বারে আগুন ধরছে, আমি তো বের হতে পারতেছি না।’
“এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।”
রোববার রাতে যোগাযোগ করা হলে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এ বিষয়ে আপাতত বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না; পরে এ নিয়ে কথা বলবেন।
নাশকতার অভিযোগের বিষয়ে নিউ মার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন বলেন, “প্রসিকিউটরের করা জিডি আমলে নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, “আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।”