Published : 09 Nov 2025, 12:29 PM
রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে ৯৭ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা ১৭ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার জন্য অনুমোদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
রোববার এক বার্তায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন তারা।
রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা করে সিআইডি।
সালমানের ভাই বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহাইল এফ রহমান, সালমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং সোহাইলের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানও এসব মামলার আসামি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সালমান এফ রহমান ও তার ভাই সোহাইল ফাসিহুর রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের ১৭টি প্রতিষ্ঠান ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৩টি এলসি বা ঋণপত্রের বিপরীতে পণ্য রপ্তানি করে।
নির্ধারিত সময় পার হলেও রপ্তানির প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার (৯৯৬ কোটি টাকা) দেশে না আনায় পাচারের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল সিআইডি।
মামলা করার সময় প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সংস্থাটি বলেছিল, বিদেশে রপ্তানি হওয়া পণ্যের বেশিরভাগই পাঠানো হয়েছে সালমানপুত্র আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং সোহাইলপুত্র আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের যৌথ মালিকানাধীন আরআর গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের শারজাহ (সংযুক্ত আরব আমিরাত) এবং সৌদি আরবের ঠিকানায়।
এই চারজনসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কাতেও পণ্য রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচারের তথ্য সিআইডি জানতে পারার কথা বলেছিল সিআইডি।
তদন্তের স্বার্থে সালমান এফ রহমান ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেছিল সিআইডি, যা মঞ্জুর করে আদালত।
আদালতের আদেশে গত ২৩ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা প্রায় ২৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করার কথা জানিয়েছিল সিআইডি।
মামলা করার ১৪ মাসের মধ্যেই ১৭ মামলার সবকটিতে অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা রোববার জানাল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৩ অগাস্ট সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। তবে তার ছেলে, ভাই ও ভাইয়ের ছেলে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে সংবাদম্যমে খবর এসেছে।