Published : 17 Aug 2025, 07:28 PM
বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি নামিয়ে ফেলার নির্দেশনার যে খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তা পত্রিকার খবরে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেছেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আর ছবি অবসারণ করা হয়ে থাকলেও এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো ‘সম্পর্ক নেই’।
রোববার ঢাকার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে নাম প্রকাশ না করে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, বিদেশে বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশন, কনস্যুলেট, কূটনীতিকদের অফিস এবং বাসভবন থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরানোর নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অঞ্চলভিত্তিক কয়েকজন রাষ্ট্রদূত/হাই কমিশনারকে টেলিফোনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে রিজওয়ানা বলেন, “এটা আদৌ কোনো বার্তা দেয় কিনা জানি না। আমি পত্রিকায় দেখেছি। সরকারি পর্যায়ের সব মহলের সিদ্ধান্ত হলে সেটা লিখিত থাকত। সরকার আদৌ এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা জানি না। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এটা আলোচিত হয়নি। সরকারি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হলে সভায় আলোচিত হবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের বেশি কিছু রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করার দাবি জানিয়ে আসছে। এর মধ্যে ছবি অপসারণের এমন উদ্যোগে ‘রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের আগ্রহ‘দেখছেন কেউ কেউ।
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের পদক্ষেপ কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে কিনা– সেই প্রশ্ন উপদেষ্টা রিজওয়ানাকে করেন একজন সাংবাদিক।
উত্তরে তিনি বলেন, “ছবি অবসারণ হয়ে থাকলে এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। একটা ছবির সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।”
এনসিপির একজন নেতা বলেছেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সরকারের পরিকল্পনা তো প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় নিজে স্পষ্ট করেছেন। এর সঙ্গে সরকারের অবস্থান বদলের সম্পর্ক নেই।”
এনসিপির ‘কিংস পার্টি’ তকমা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কী নামে ডাকল সেটা আসল নাম হয়ে যায় না। এনসিপির নাম এনসিপি। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়ত তাকে কিংস পার্টি ডাকছে। কিন্তু আমরা যারা উপদেষ্টা পরিষদে আছি, তাদের সাথে কোনো পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই।
“কখনও আমরা শুনি যে আমরা বড় একটা রাজনৈতিক দলের কথা শুনে সব করে ফেলতেছি। আবার শুনি কিংস পার্টির কথা শুনে সব করে ফেলতেছি। আবার শুনি ইসলামিক পার্টির কথা শুনে সব করে ফেলতেছি। যে যার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কথা বলে। সরকার সরকারের মত আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্তগুলো নেয়।”
এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে প্রচ্ছন্ন একটি দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে রিজওয়ানা বলেন, “এখন অবাধ বাকস্বাধীনতার সময়। যার যে রকম মন চায় সে সেরকম বলছে। তার রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো একটা কিছু সুইটেবল হলে সে এক রকম বলছে, সুইটেবল না হলে সে আরেক রকম বলছে।
“আমাদের পক্ষ থেকে এটার ব্যাখ্যা আসার প্রয়োজন নাই। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত দেবে। সারকারের সব কিছুতে মতামত দেওয়ার দরকার নেই।”