Published : 27 Jul 2026, 10:04 PM
বিকল হয়ে যাওয়ার আগে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালটিতে আগুন ধরে যাওয়ার কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তার ভাষায়, আগুন লাগার পরিণতি আরো ভয়াবহ হতে পারত। বিশেষ করে ঘটনার সময় একটি এলএনজি কার্গো টার্মিনালটির কাছাকাছি অবস্থান করছিল, যা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।
সমুদ্রপথে আনা এলএনজি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে। পরে সেটি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাতীয় গ্রিডে।
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট কারিগরি ত্রুটিতে ২১ জুলাই একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাবে পড়ে দেশজুড়ে।
সোমবার সচিবলায়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের হালনাগাদ তথ্য জানাতে টার্মিনালটি বিকল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, “এফএসআরইউতে আগুন লাগার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।”
তার ভাষ্য, ঘটনার সময় একটি এলএনজি কার্গো টার্মিনালের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। দ্রুত সেটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। এ কারণেই মেরামতে সময় লাগছে।
“এ ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা এক্সিলারেট, সামিট কিংবা বাংলাদেশ সরকারের কারও ছিল না। এটা আমাদের সবার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।”
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরো দুয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে আভাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করবে। যদি তাদের (প্রকৌশলীদের) পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোয়, তাহলে প্রথম ধাপে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
“এরপরের সপ্তাহে শতভাগ সক্ষমতা ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে সাধারণ সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়।
এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
তিনি বলেন, দুটি এফএসআরইউর একটি বিকল হয়ে যাওয়ায় আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
আরো পড়ুন
এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হতে আরো দুয়েক সপ্তাহ: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী