তার আগে আগামী জুলাই মাসে মতিঝিল পর্যন্ত পথে পরীক্ষামূলকভাবে চলবে মেট্রোরেল।
Published : 18 Jun 2023, 03:19 PM
ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল পথ আগামী অক্টোবরে খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোববার ডিএমটিসিএলের এক সেমিনারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্টোবরে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের চলাচল উদ্বোধন করবেন।
আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ এর পরিচালনা বিষয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে মেট্রোরেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, “মেট্রোরেলে আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি ভালোভাবে দেখা উচিত। আগামী অক্টোবর মাসেই উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”
আইনশৃঙ্খলা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে প্রয়োজনে জরিমানার নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “জরিমানা করে হলেও মেট্রোরেলের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হবে। জাতীর সম্পদ রক্ষা করতে সকলকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
গাড়িতে হুটার ব্যবহার না করা ও পরিবেশ রক্ষায় জোর দিয়ে কাদের বলেন, “আমি প্রটোকলের গাড়িতে হুটার ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি। প্রটোকলের গাড়িতে হুটার বন্ধ করতে হবে। যেখানে সেখানে হর্ন বাজানো কিংবা ময়লা আবর্জনা ফেলা যাবে না। প্রয়োজনে বিআরটিকে আইন তৈরি করতে হবে।
“নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ময়লা ফেলা ও ধূমপান করা যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় ইটভাটা বন্ধ করতে হবে, এর জন্য সব রকমের সহায়তা দেবে সরকার।”
এর আগে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল পথ আগামী ডিসেম্বরে আগেই খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল ডিএমটিসিএল। গত ১৮ মে ডিএমটিসিএল এমডি এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ওই সময়সীমা ধরেই আগামী জুলাই মাসে এই পথে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালু হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন। পরদিন থেকেই যাত্রী চলাচল শুরু হয় দেশের প্রথম এই বৈদ্যুতিক ট্রেনে। পরে ধাপে ধাপে এই পথের মাঝের নয়টি স্টেশন খুলে দেওয়া হয়।
২০১৬ সালে ২৬ জুন এমআরটি-৬ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ পথ পরিক্রমা পেরিয়ে সাড়ে ছয় বছর পর মেট্রোরেল চালু হয়। ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার সহযোগিতায়। উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এই লাইনের নাম দেওয়া হয়েছে এমআরটি-৬।
রোববার ডিএমটিসিএল আয়োজিত সেমিনারে জাইকার বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তমোহিদে ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়োমাকি মিনোওরি উপস্থিত ছিলেন।
জাইকার ইচিগুচি তমোহিদে বলেন, “আপনাদের এ ব্র্যান্ডিং সেমিনারে উপস্থিত হতে পেরে আনন্দিত। ঢাকা মেট্রো এমআরটি আমাদের সবচেয়ে সফল প্রকল্পগুলোর একটি। এটি বাংলাদেশ-জাপানের পারস্পরিক বিশ্বাস-বন্ধুত্বের এক অনন্য উদাহরণ।”
তিনি বলেন, “আপনাদের মত ঢাকা আমারও খুব প্রিয় শহর। ঢাকার মত এত জনবহুল শহরে এরকম প্রকল্প সম্পন্ন করা আসলেই চ্যালেঞ্জিং। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে জাইকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
“ডিএমটিসিএলের প্রকৌশলীরা প্রত্যেক বছর জাপানে যেতে পারবেন, এছাড়া জাইকা থেকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তাও অব্যাহত রাখা হবে।”
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ইয়োমাকি মিনোওরি বলেন, “আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ বাংলাদেশ-জাপানের আরেকটি যৌথ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এটি প্রমাণ করে যোগাযোগ খাতে জাপান-বাংলাদেশ কতটা অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত৷
“এটি ঢাকার জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং ‘উইন-উইন’ সিচুয়েশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।”
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী এবং ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-
মেট্রোরেলে চড়ে যোগাযোগের নতুন পর্বে ঢাকা