চুক্তি অনুমোদন: সৌদি প্রবাসীরা পাবেন আইনি সুরক্ষা, বললেন আইন উপদেষ্টা
“সেটা চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বা ঠিকমত বেতন না পাওয়ার ক্ষেত্রেও পাওয়া যাবে,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছে তা অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চুক্তিটি অনুমোদন করা হয়।
বৈঠক শেষে ফরেন একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, “সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি থাকেন। আইনি সুরক্ষার অভাবে ওনারা বেশ দুরবস্থার মধ্যে থাকেন। প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষার জন্য আমরা সৌদি আরবের সাথে একটা চুক্তি করতে পেরেছি।
“আশা করি প্রবাসীরা, সৌদি আরবের শ্রমিক যারা আছেন, ওনারা আইনগত সুরক্ষা পাবেন। সেটা চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বা ঠিকমত বেতন না পাওয়ার ক্ষেত্রেও পাওয়া যাবে।”
ভারতীয় উপমহাদেশে কেবল বাংলাদেশই সর্বপ্রথম সৌদি আরবের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি করতে পেরেছে, বলেন আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “আশা করি এটা সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ এবং অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। এমনকি সৌদি নিয়োগকর্তাদের কোনো ত্রুটি থাকলে সেক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে,” বলেন উপদেষ্টা।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা গেল ৬ অক্টোবর জানায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটির সঙ্গে এই চুক্তি বাংলাদেশের শ্রম বাজারের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কর্মী ও নিয়োগকর্তার অধিকার ও স্বার্থ ‘অধিকতর সুরক্ষিত’ হবে বলে আশা করছে সরকার।
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে ১৯৭৬ সাল থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে কর্মী নিয়োগ শুরু হলেও সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল না।
কেবল ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ এবং ২০২২ সালে দক্ষতা যাচাই সংক্রান্ত দুটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য।
