০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া অংশীদারত্ব জোরদারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তার কাছে হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 08:34 PM

Updated : 06 Oct 2026, 08:34 PM

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষিক সম্পর্ক আরো গভীর এবং শক্তিশালী করার জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মঙ্গলবার ঢাকায় উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন তিনি।

পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাব হল–ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘অন-অ্যারাইভাল’ ভিসা পুনরায় চালু; বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি ওষুধ পণ্য আমদানি; ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যকেজিংয়ের জন্য জি-টু-জি এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ কেনা; বাংলাদেশি আলুর জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল্য় বলেছে, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সহযোগিতা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে আলোচনা করেন।

পাঁচ দফা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক ইন্দোনেশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।

ইন্দোনেশিয়া যে বিশ্বের বৃহত্তম হালাল পণ্যের বাজার, সে কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান জানান।

ঢাকা সফরের নিমন্ত্রণ এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা বাংলাদেশের প্রস্তাবসগুলোকে স্বাগত জানান এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ লক্ষ্যে, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন ইন্দোনেশীয় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান চালু করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ার উপ-পরররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তার প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।

পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থনের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ইন্দোনেশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ যাতে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে এবং বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপের (আরসেপ) সদস্যপদ পেতে পারে, সেজন্য ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন হুমায়ুন করিব। পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী মাত্তা এ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাত্তা।