Published : 27 Aug 2026, 11:23 PM
চলতি বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোট শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন উপযোগী ইউপিগুলোর মধ্যে প্রথম ধাপের তফসিল আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন সিইসি।
স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের মধ্যে সামনে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৫০০টি উপজেলা এবং সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদে নির্বাচন রয়েছে। ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় ইউপি নির্বাচন দিয়েই এ ভোটপর্ব শুরু করার কথা রয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত ভোটের জন্য দুই মাস সময় রাখা হয়, সে কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, “শিডিউল যদি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দিই, ইলেকশনটা আগামী বছরে চলে যাবে। আগামী বছর ইলেকশন করলে আমাকে এ বছর শিডিউল দিতে হবে।
“আশা করছি, হয়ত আমরা সেপ্টেম্বরে শিডিউলটা ঘোষণা করতে পারব। তাহলে কিছু কিছু বছরের শেষে, কিছু আগামী বছরেও চলে যেতে পারে।”
এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের পর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সেজন্য তার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান সিইসি।
তিনি বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ভোটার সভারেন্টি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট হবে। আমাদের কমিটমেন্টের ঘাটতি নেই। রাষ্ট্রপতিকে বলেছি- জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, যে স্ট্যান্ডার্ডে করেছি তার চেয়ে ভালো বৈ কিছু হবে না। আমরা স্বাধীন, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য কাজ করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চেয়েছি। তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেছেন।”
উপনির্বাচনও সামনে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনও আয়োজন করতে হচ্ছে ইসিকে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। আইন অনুযায়ী, শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে এ উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সিইসি বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে এমন কিছু বিষয় থাকে, যা ইসির নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এর মধ্যে বন্যা, বর্ষাকাল, দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে।
নির্বাচনে স্কুলগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটের সময় নির্ধারণ করতে হয়।
সিইসি বলেন, “এটা নিশ্চিত যে এ বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে হবে। এ বছরের মধ্যে শুরু করতে গেলে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে। ইউপি নির্বাচন ঠাকুরগাঁওয়েও আছে, যাতে ক্ল্যাশ না হয়, সেটা এনশিউর করে আগাতে হচ্ছে আমাদের।”
সেপ্টেম্বরে তফসিল, নভেম্বর থেকে ভোটের লক্ষ্য
সিইসি বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি তফসিল দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। কারণ, ইউনিয়ন পরিষদ আইনে পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, “সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটা শিডিউল দিতে পারব। খেয়াল করতে হবে, শিডিউল যদি অক্টোবরে দিই, ইলেকশনটা আগামী বছরে চলে যাবে। আগামী বছর ইলেকশন করলে আমাকে এ বছর শিডিউল দিতে হবে।”
সেপ্টেম্বরে তফসিল দেওয়া গেলে বছরের শেষ দিকে কিছু ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হতে পারে। বাকিগুলো ধাপে ধাপে আগামী বছরের শুরুতে হতে পারে বলে জানান তিনি।
সিইসি বলেন, “আশা করছি, হয়ত আমরা সেপ্টেম্বরে শিডিউলটা ঘোষণা করতে পারব। তাহলে কিছু কিছু বছরের শেষে, কিছু আগামী বছরেও চলে যেতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে রমজান এসে যাবে, তখন ইলেকশন করতে পারব না। তাহলে আমাদের যে টাইম স্লট, যেখানে ইলেকশনকে একমোডেট করতে হবে, ইজ ভেরি শর্ট।”
রমজানের পর ঈদুল আজহা এবং বর্ষাকালের কথাও ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আবহাওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিলে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বার্ষিক পরীক্ষা দ্রুত শেষ করার বিষয়েও অনুরোধ জানানো হবে।
“যদি সম্ভব হয়, আমরা এন্ড অব নভেম্বর শুরু করতে পারি। যদি পরীক্ষাটা এগিয়ে আসে। ইউনিয়ন পরিষদের সিংহভাগই এ বছরে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এসব নির্বাচন এ বছরের মধ্যে করতে হবে।”
ইউপি দিয়ে শুরু
ইউনিয়ন পরিষদের ভোট দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ ছিল। নির্বাচন কমিশনের নথিতেও ওই ধাপে ৩৭১টি ইউপির তথ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রথম ধাপে এসব ইউপি বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই খারাপ মৌসুমে করা যাবে না, শুষ্ক মৌসুমে করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। পার্বত্য এলাকায় ভোটও শুষ্ক মৌসুমে করার চিন্তা করতে হবে। সব কিছু মিলিয়েই করতে হবে। শীতকালে নির্বাচন করার উপযোগী, নির্বাচনের মৌসুম।”
ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আচরণবিধি ও আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণবিধির খসড়াও প্রকাশ করা হয়েছে।
সিইসি বলেন, আইন সংশোধনের খসড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং পরে সংসদে পাসের প্রক্রিয়া রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেন তিনি।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তফসিল দিয়ে নভেম্বরে ভোট শুরু করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, “আমরা আগামী মাসে সেপ্টেম্বরে তফসিল দিতে চাই। কারণ, সেখানে আইনি কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে (মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে)। নভেম্বরে পরীক্ষা শেষ করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বছরের শেষে ইলেকশন করতে হলে আমাকে শিডিউলটা দিতে হবে আগামী মাসে। অন অ্যান এভারেজ মাস দুয়েক সময় রেখে শিডিউল দিতে হয়।”
পুরনো খবর
ইসি দলের সাক্ষাৎ: কমিশনের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা সমুন্নত রাখার তাগিদ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রস্তুতির সব কাজ অক্টোবরেই সারতে চায় ইসি