Published : 29 Aug 2025, 12:25 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যে রোডম্যাপ নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, সেখানে তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রচারে সহায়তা করার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পরে বাংলাদেশ বেতার এবং বিটিভিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচার এবং দলীয় প্রধানের বক্তব্য দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠাবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধন্ত অনুসারে বিটিভি এবং বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার বিভিন্ন ইলেট্রনিক মিডিয়া প্রচার করতে পারবে।
প্রতীক বরাদ্দের পর পর আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসাররের তত্ত্বাবধানে একই প্লাটফর্মে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ভোটার ও অংশীজনদের উপস্থিতে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের সুযোগ করে দেবে ইসি। জেলা নির্বাচন অফিস যেখানে সম্পৃক্ত থাকবে।
‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার এই কর্মপরিকল্পনা’ প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। কমিশনের অনুমোদনের পর রোডম্যাপের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
স্বাভাবিকভাবেই সচিবের কাছে প্রশ্ন ছিল– ভোট কবে? তফসিল কবে দেবে নির্বাচন কমিশন?
জবাবে সুনির্দিষ্ট কোনো দিন তারিখ উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “ভোট গ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল দেওয়া হবে। আমাদেরকে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে আগামী রমজানের আগে ভোট করার জন্য। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। আবার রমজান তো চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। “
অবশ্য ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দেওয়ার ইংগিত নির্বাচন কমিশন আগেই দিয়েছিল।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে ভোট করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনও বলেছিলেন, ভোটের দিন থেকে মোটামুটি ৬০ দিন আগে তফসিল দেওয়া হবে।
গত ৭ অগাস্ট কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছিলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ঘোষণাটা আসবে দুই মাস আগে। ধরেই নিতে পারেন, এই শিডিউল ঘোষণার কাজটা আমাদের ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে (করব)।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত রোডম্যাপে নির্বাচন সামনে রেখে ইসির সম্ভাব্য কাজের বিবরণ, কার্যক্রম গ্রহণের তারিখ, বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা, শেষ কাজ করার সম্ভাব্য তারিখসহ ২১ পৃষ্ঠার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির প্রশিক্ষণ/ব্রিফিং এর প্রস্তাব প্রেরণ- কার্যক্রম গ্রহণের তারিখ ১ ডিসেম্বর এবং সম্পন্নের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর। মন্তব্যে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর তালিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে (ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ প্রতিপালনের কাজ করবে)।
এছাড়া নির্বাচনি বাজেট প্রস্তুত ও বাজেট বরাদ্দ সংক্রান্ত কার্যক্রম বিষয়ে কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, খাতভিত্তিক হারসহ দফাওয়ারি বিভাজনের আলোকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অনুকূলে অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রস্তাব প্রণয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রতিনিধিদের সাথে সভা অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ ১৬ নভেম্বর, শেষ করার সম্ভাব্য সময় ২০ নভেম্বর ২০২৫। মন্তব্যে বলা হয়েছে: তফসিল ঘোষণার এক মাস পূর্বে।
সে হিসেবে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার আভাস মিলছে।
রোডম্যাপের উল্লেখযোগ্য দিক
• রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে
• চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণায়ন ৩০ নভেম্বর
• নির্বাচনি আইন-বিধি সংস্কার ৩০ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে
• নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
• ৩০০ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
• দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন করে চূড়ান্ত সার্টিফিকেট প্রদান ১৫ নভেম্বরের মধ্যে
• নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়াল, নির্দেশিকা, পোস্টার, পরিচয়পত্র ইত্যাদি মুদ্রণ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে
• স্বচ্ছ ব্যালেট বাক্স ও নির্বাচনি দ্রব্যাদি ব্যবহার উপযোগী করা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে
• নির্বাচন ভবনে বেসরকারি ফলাফল প্রদর্শনের জন্য ডিজিটাল মনিটর স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সংযোজন ডিসেম্বরের মধ্যে
• ১৫ নভেম্বরে মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খাত ও দফাওয়ারী অর্থ বরাদ্দের হার নির্ধারণ করে প্রস্তবাবনা প্রণয়ন
• পোস্টার ব্যালেটে প্রবাসীদের কাছে প্রেরণ ও ভোটারদের নিকট পৌছানো ৫ জানুয়ারির (২০২৬) মধ্যে।
পুরনো খবর