Published : 29 Jun 2025, 11:51 PM
বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় হাতব্যাগে যে ম্যাগাজিন ধরা পড়েছে, সেটি নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রের বলে ফেইসবুক পোস্টে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, রোববার নিয়মিত স্ক্যানিংয়ে ম্যাগাজিনটি ধরা পড়ার পর আসিফ মাহমুদ সেটি সরিয়ে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেন এবং ভুলবশত এ ঘটনা ঘটেছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিন ভোর ৭টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল হয়ে মরক্কোর উদ্দেশে উড়াল দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ। গন্তব্যে পৌঁছে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে নিজের ফেইসবুক পেইজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি।
আসিফের ব্যাগে ম্যাগাজিন পাওয়া নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলে।
এসব নিয়ে ফেইসবুক পোস্টে আসিফ লিখেছেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে আমার লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র আছে। গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ওপর যেভাবে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে কয়েক দফা, তাতে রাখাটাই স্বাভাবিক। যখন সরকারি প্রটোকল বা সিকিউরিটি থাকে না, তখন নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে লাইসেন্সড অস্ত্র রাখা।”
আসিফ লিখেছেন, “মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠাতব্য 'ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে' অংশগ্রহণের জন্য আজ (রোববার) ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে ফ্লাইট ছিল। ভোরে প্যাকিং করার সময় অস্ত্রসহ একটা ম্যাগাজিন রেখে এলেও ভুলবশত আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যাগেই রয়ে যায়। যেটা স্ক্যানে আসার পর আমার প্রটোকল অফিসারের কাছে হস্তান্তর করে আসি। বিষয়টি সম্পূর্ণ ‘আনইন্টেনশনাল’। শুধু ম্যাগাজিন দিয়ে আমি কী করবো ভাই? ইন্টেনশন থাকলে অবশ্যই অস্ত্র রেখে আসতাম না। এখানে অবৈধ কিছু না থাকলেও অনেকের জন্যই এটা আলোচনার খোরাক বটে।”
এ ঘটনার একটি সংবাদ একটি অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ার কিছুক্ষণ পর তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে আসিফ লিখেছেন, “চাপ দিয়ে নিউজ সরানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই ঘটনার পর আমি টিমসহ টানা ১০ ঘণ্টা ফ্লাইটে ছিলাম। ট্রানজিটে নেমেও দীর্ঘক্ষণ পর অনলাইনে এসে দেখতে পাচ্ছি যে এতকিছু ঘটেছে। নাগরিক হিসেবে আপনারও যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে, যথাযথ নিয়ম ফলো করে আপনিও অস্ত্রের লাইসেন্স করতে পারেন।”
এ বিষয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নিয়মিত স্ক্যানিংয়ের সময় উপদেষ্টার একটি ছোট পাউচের (ব্যাগ) ভেতরে ম্যাগাজিনটি পাওয়া যায়। শনাক্ত হওয়ার পর উপদেষ্টা এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভুলবশত এটি সেখানে রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান।
“বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছেন যে, উপদেষ্টা আসিফের অস্ত্রের লাইসেন্স আছে। পরে ম্যাগাজিনটি তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যথাসময়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে যাত্রা করেন উপদেষ্টা।”