Published : 04 May 2026, 07:21 PM
ঢাকা মহানগর এলাকার ৬৮টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এই তালিকার ১ থেকে ১৮ নম্বর ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়িতেও জ্বালানি নিতে ফুয়েল পাস ব্যবহার করতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সোমবার এক ফেইসবুক পোস্টে জানিয়েছে, এসব স্টেশনে জ্বালানি তেল নেওয়ার সময় অবশ্যই ফুয়েল পাস অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
“ফুয়েল অ্যাপ এর ব্যবহার ঢাকা মেট্রোপলিটনের সকল ফিলিং স্টেশনে অতিদ্রুত বাধ্যতামূলক করা হবে।”
ব্যবহারকারীদের গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ইনস্টল করে নিবন্ধনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য বাধ্যতামূলক করা ১৮টি স্টেশন হল সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন, আসাদ গেট; ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও; গুলশান সার্ভিস স্টেশন, মহাখালী; মেঘনা মডেল পাম্প, শাহবাগ; নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার, নিকুঞ্জ; খালেক সার্ভিস স্টেশন, দারুস সালাম; তালুকদার ফিলিং স্টেশন, আসাদ গেট; করিম এন্ড সন্স, শাপলা চত্বর; ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ, মহাখালী; মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন, এয়ারপোর্ট, উত্তরা; সততা এন্ড কোম্পানী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা; দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, ইব্রাহিমপুর; কামাল ট্রেডিং এজেন্সী, শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মেদ স্মরণী; এসপি ফিলিং স্টেশন লিমিটেড, গাবতলী; সিটি ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও; সেবা গ্রীন ফিলিং স্টেশন, উত্তরা; স্যাম এসোসিয়েটস, মিরপুর-২; এবং সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন, কালশী রোড, মিরপুর।
এই ১৮টির সঙ্গে আরো ৫০টি স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে ফুয়েল পাস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটখোলা, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, বনশ্রী, ঢাকা সেনানিবাস, কেরানীগঞ্জ, রায়েরবাজার, মাতুয়াইল, তুরাগ, মুগদা, কল্যাণপুর, মতিঝিল, নীলক্ষেত, বাড্ডা, শ্যামলী, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, কাফরুল ও মহাখালীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন।
ঘোষণায় বলা হয়, দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করলে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি নেওয়া যাবে।
সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনা, নজরদারি বাড়ানো এবং বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক এই ফুয়েল পাস চালু করেছে।
প্রথমে ৯ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদ গেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা শুরু হয়, তখন তা শুধু মোটরসাইকেলের জন্য ছিল।
পরে ১৮ এপ্রিল ঢাকায় আরও ১৮টি পাম্পে এই পাইলট কার্যক্রম বাড়ানো হয় এবং ঢাকার বাইরে কয়েকটি জেলা ও মহানগর এলাকায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলকে এর আওতায় আনার কথা জানায় জ্বালানি বিভাগ।
২০ এপ্রিল আরও ১৯ জেলায় ফুয়েল পাস নিবন্ধন চালুর কথাও জানানো হয়।
২৬ এপ্রিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, ব্যক্তিগত গাড়িকেও ধাপে ধাপে ফুয়েল পাস ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধন খোলা হয়।
একই ঘোষণায় বলা হয়েছিল, “অতিদ্রুত ঢাকার সকল ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িতেও ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি প্রদান করা হবে।”
সরকারের ভাষ্য, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রির কারণে কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইন, যানজট এবং একই ব্যক্তি বা যানবাহনের একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। ফুয়েল পাস চালু হলে পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল রেকর্ডে আসবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক নজরদারির সুযোগ তৈরি হবে।