ব্রাজিল ইজ ব্যাক

দেহের প্রতিটি জমিনে লিকুইড সাবান ঘষে ফেনার পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকে রাহি। শাওয়ার বন্ধ করে দেয়।

রুখসানা কাজলরুখসানা কাজল
Published : 11 Nov 2022, 08:01 AM
Updated : 11 Nov 2022, 08:01 AM

রাহি বোঝে রূপসার চোরাস্রোত ওকে মৃদুমন্দ ধাক্কা দিচ্ছে। শক্তিতে নিবিড়। অনেকটা জড়িয়ে ধরার মতো আকুল। ভালো লাগছে। বিশ্বের যে কোন নদীর অগভীর জলে দাঁড়িয়ে এই অনুভূতিটি পেতে ভীষণ ভাল লাগে ওর। কিন্তু এই স্কার্ট ! এটা  পরে আসাটাই ভুল হয়ে গেছে। পায়ের সঙ্গে প্যাচ খাচ্ছে। আবার কখনও শ্যাওলা দুলুনি হয়ে ঢেউয়ে ভেসে যেতে যাচ্ছে।  খুলে ফেলবে? কে আর দেখবে এখানে!  নদীর ওপারে মহা সুদূর—কেউ থাকলেও বুঝতে পারবে না রাহি স্কার্ট পরেছে নাকি ন্যাংটো! এপারে লিনা আর বোরহান এখনও ঝগড়া চালিয়ে  যাচ্ছে।    

বোরহানকে কাটাতে চাইছে লিনা! সেটা বুঝে রাগ অভিমানের টুইস্ট চলছে। সব এক তরফা। লিনার মুখ ফেরানো মানে গেট লস্ট। একেবারে মুখ মুছে ফেলা।        

সম্পর্কের তিন বছর চলছে ওদের। প্রথমে ছিল অফিসিয়াল আলাপ সালাপ। এরপর ওর বেডরুমের নোট বইয়ে বোরহানের নাম লিখে ফেলেছিল লিনা।  বোরহান দেখতে গাছপাকা কলার মতো। এর আগের জন ছিল ছিপ নৌকা। তরতরে। তার আগে—-  

গেল কাল রাতে মদ গিলে অনেকটা টালুমালু হয়ে গেছিল লিনা। পাতলা রাগে গুঙিয়ে উঠেছিল, ‘’বুঝলি তো শুয়োরের বাচ্চাটা এখন আইনি সম্পর্ক  চাচ্ছে। কিছুদিন ধরে নো সাজেশন, নো রিকুয়েস্ট ব্যাটা এক্কেরে কথায় কথায় অর্ডার মারছে। যেন আমার ঘরের স্বামী। আমি ওর  অক্ষয় পাটাতনি পান্তা পান্তা টুনি বউ।‘’      

রাহি হেসে ফেলেছিল, “আদেখলার মতো তু তু আয় আয় না করলেই পারতিস। ঝেড়ে ফেলতিস আগেরগুলোর মতো !”         

ফোলা ফোলা চোখের পাতার নিচ থেকে রাহিকে দেখে বুকের উপর থেকে টাওয়েল ফেলে দিয়েছিল লিনা। বাসি পদ্মকুঁড়ির মতো নম্রতায় নুয়ে পড়েছে দুটি বুক। এ বয়সেও বোতামখোলা জামার মত শিথিল ঢলঢলায়ওমান শরীরের অন্যরকম সৌন্দর্য  ঘিরে আছে লিনাকে। তায় এক কালের দুর্ধর্ষ সুন্দরী। যশোর, ঝিনেদা, মাগুরা, মেহেরপুর তো ধারে কাছে, রাজশাহী এমনকি সীমানা পেরিয়ে নদিয়া থেকেও ছুটে আসত ওর প্রেমিক দল। সবাইকে ছিটেফোঁটা প্রেম বিলিয়ে ও বসে থাকত আদিলের জন্য।

আদিল বহুকালের বঙ্গবাসী এক পাঞ্জাবি পরিবারের ছেলে। এখনও ওদের বাড়ির ছেলেদের জন্য ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে বউ আনা হয়। এই বউগুলো খুব হাস্যমুখী আর আলাপী স্বভাবের হয়। কি এক আশ্চর্য যাদুতে এরা এখানকার সবকিছুতে নিজেদের মানিয়ে নেয়। ঘরে পাঞ্জাবী ভাষায় কথা বললেও ঝিনুকের মতো মিষ্টি বাঁকা করে বাংলা বলা দ্রুত শিখে ফেলে। তারপর ঝপাঝপ দু তিনটে ছেলেমেয়ের মা হয়ে গুছিয়ে ঘর সংসার করতে শুরু করে। আদিলদের পরিবারের মেয়েদের বিয়ে হয় পাঞ্জাব কিম্বা ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এমনকি ইতালি,পাকিস্তান, তুর্কিতে অভিবাসী পাঞ্জাবি বড় জোর গুজরাটি ছেলেদের সঙ্গে। ব্রিটিশ যুগ থেকে বাংলাদেশে টানা সাত পুরুষের স্থায়ী বসবাস আদিলদের। প্রচুর জমিজমাও করেছে। চাষবাস আর  ব্যবসায়িক কাজেকর্মে বাঙ্গালী কর্মচারীরাই কাজ করে। তবে তখন পর্যন্ত বাঙ্গালীদের সঙ্গে ওদের কোন আত্মীয়তা গড়ে উঠেনি।   

আদিলই প্রথম বাঙ্গালী মেয়ে লিনাকে বিয়ে করবে বলে পণ করে ছিল। তাই নিয়ে তুমুল ঝামেলা চলেছিল ওদের পরিবারের ভেতর।         

লিনাও খুলনার এক জাঁদরেল পরিবারের মেয়ে। ওদের পরিবারের ছোট বড় প্রত্যেকের এমনকি বাড়ির পাহারাদার তিনটি দেশি কুকুরও মেজাজে ছিল হেব্বি খতরনাক। কয়েকটি উন্নত জাতের ষাঁড় এনেছিল লিনার দাদু। তাদের জন্য বড় মশারি টানানো উঁচু গোয়ালঘর বানাতে হয়েছিল। সেই ষাঁড়দের  বংশধরদেরও মহাতেজ। পাল খাটানোর মৌসুমে অপছন্দের গাই-গরুকে তারা লাথি মেরে দূর দূর করে দেয়। তখন ধরে বেঁধে, বাঁশ পিটিয়ে --- সে এক দুঃসহ সঙ্গম দৃশ্য। পাড়ার ছেলে ছোকরারা সিটি বাজিয়ে পালিয়ে যেত গরম মশকরায়।         

লিনার পরিবারও চায়নি এ বিয়ে হোক। মুখের শাসন থেকে অস্ত্রের ভয়, গুম খুনের হুমকি কোন কিছুকেই লিনা পাত্তা  দেয়নি। ওর এক কথা, এক পণ। এক ঘণ্টার জন্য হলেও আদিলকে ও বিয়ে করবে। এ কথা শুনে লোকাল পলিটিসিয়ান ওর বড়ভাইরা ক্ষেপে গেছিল। ক্ষেপী বাঘিনীর মতো উঠানে লাফ পেড়ে লিনাও বলে উঠেছিল, ফাইন্যালি বলে দিচ্ছি সবাইকে, দরকার  হলে আদিলের লাশকে  আমি  বিয়ে করব। করবই। পারলে ঠেকায়েন মিয়ে ভাই, মেজো ভাইজান আপনারা।    

হঠাৎ কি যেন হয়ে গেছিল সেদিন। যুযুৎসুবান ছেলেমেয়েদের মাঝখানে এসে লিনার মা মধুর হেসে বলেছিল, এই তোরা থাম দেখি। লিনু তুইও থাম। আদিলের সঙ্গেই তোর বিয়ে দেব। নওরোজ পারভেজ তোরা আর আপত্তি করিসনে বাপ!

নদী রূপসা দেখে ওরা হোটেলে ফিরে এসেছে। উদোম শরীরে বজ্রাসনে বসে পড়েছে লিনা। অপূর্ব লাগছে দেখতে। অনুলোম বিলোম করার জন্য নাক চেপে ধরার আগে লিনা জানায়, “মনে লিচ্ছে বুরানকে ছাড়াতে কুছ জাদা টাইম লাগ যায়েগি। মাগার টেনশন কা কোই বাত নেহি। দু এক মাসের মধ্যে ঝেড়ে ফেলবনে এই গজাল মাছটাকে।’’  

এরপর এক চোখ কুঁচকে অনেকটা ছেনাল হাসি দিয়ে বলে, “তোকে প্রভোক করছি ডার্লিং। ’’        

“লাভ নেই দোস্ত।’’ লম্বা চুলের জট ছাড়াতে ছাড়াতে রাহি বলে, “জানিস তো আমি সম বা উভ কিছুই না ---একেবারে স্বাবলম্বী।’’

“তুই যে সোনা কি জিনিস এ জীবনেও বুঝলাম না !” এরপর নাক চেপে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে, “ব্রাজিল ইজ  ব্যাক? যাবি একবার?”  

রাহির পড়ন্ত চোয়ালে দৃঢ়তার ভাঙচুর ফুটে ওঠে। চুলের গোঁড়ায় ব্যান্ড বেঁধে চিরুনি গুছিয়ে রেখে টেবিল মুছে উঠে দাঁড়ায়। গম্ভীর নত মুখে ঝিক করে আলো ছড়ায় হিরের নাকফুল। কিছু না বলে টাওয়েল হাতে ওয়াশরুমে চলে আসে। শবাসনে শুয়ে লিনা শুনতে পায়, ঝর্ণার ঝরঝর। রাহি এবার কাঁদবে। কিছুটা অপরাধ দুলে যায় লিনার মনে। রাহিকে সেই নিয়ে গেছিল ফুলপুরের পাঠচক্রে। ও যে এমন পাকেচক্রে জড়িয়ে পড়বে ভাবতেও পারেনি সে। আর ওর ছোড়দা ? বংশানুক্রমে জোতদারী পরম্পরার সুবিধাবাদী লুটেরা ঘরের সবচে আদরের ছোট ছেলেটি কি করে জড়িয়ে গেছিল গুপ্ত রাজনীতির স্বপ্ন মঙ্গলময় কঠিন যাত্রার অমেয় মান্দাসে?

 লিনার বিয়ের বছর দুয়েক হয়েছে তখন। মেয়ে আথীলাহ মাত্র কয়েক মাসের শিশু। দু পরিবারের সব আগুন আথীলাহ ওর শিশু হাতে নিভিয়ে দিয়েছে। মামা চাচা খালা ফুপুদের মধ্যে কাড়াকড়ি চলছে ওইটুকু মেয়েকে নিয়ে। এ রকম সুখসুখ সময়ের এক মাঝরাতে আদিল ঘরে ফিরে ইশারায় চুপ থাকতে বলেছিল লিনাকে। সন্ত্রস্ত মুখে পলকহীন ক্ষিপ্রতায় ঘরের যেখানে যত টাকা পয়সা ছিল, এমনকি লিনার কাছে থাকা আথীলাহর আকিকায় পাওয়া আশির্ব্বাদী টাকাগুলো নিয়ে বেরিয়ে গেছিল। লিনার শত প্রশ্নে যাওয়ার আগে বলতে বাধ্য হয়েছিল, “হাসানকে পার করতে হবে। এখুনি, এ মুহূর্তে। ওর দাওয়াত এসেছে নান্নার গ্রুপ থেকে। তুমি তো  জানো নান্নার দাওয়াত মানে কি! এদেশে থাকলে হাসানের মৃত্যু ছাড়া আর কোন পথ নেই লিনু।”       

কে জানত হাসানের সঙ্গে জীবনমরণ জড়িয়ে গেছিল রাহি। সেই সঙ্গে হাসানকে পার করে দেওয়ার অপরাধে আদিলকেও জীবন দিতে হবে !

 হাসান চলে যাওয়ার দুদিন পর। বকুল অমাবস্যার পূণ্যতিথি ছিল। স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে নদীবক্ষে বিগ পার্টি হচ্ছিল সে রাতে। গান, নাচ, ড্রাম, মাইক আলোর ঝলকানিতে মাঝ নদীতে ভেসে যাচ্ছিল নান্নার জাহাজ। ঘাটে ঘাটে নৌ পুলিশের পাহারাও মজুত ছিল। কিন্তু কোন এক মুহূর্তে প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মুখ বেঁধে সিমেন্টের বস্তা গলায় ঝুলিয়ে আদিলকে জ্যান্ত ডুবিয়ে  দিয়েছিল নান্নার লোকজন! এই রূপসায়। কোথায় কোন ঘাটে কিছুতেই জানা যায়নি। অনেক চেষ্টা করেছে দু পরিবারের সবাই। অন্তত লাশটা ---
এর কিছুদিন পরেই উধাও হয়ে যায় নান্না। সরকারের স্পেশাল আর্মস ফোর্সের সাঁড়াশি চাপে ভেঙ্গে যায় নান্নার গ্রুপ। অনেকেই বলে রূপসার জল সেঁচলে কোনো কোনো গভীর গহ্বরে শত শত সিমেন্টের বস্তার সঙ্গে কত শত নারী পুরুষের কঙ্কাল যে পাওয়া যাবে!

দেহের প্রতিটি জমিনে লিকুইড সাবান ঘষে ফেনার পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকে রাহি। শাওয়ার বন্ধ করে দেয়। জানে এক্সারসাইজ শেষ করে লিনা গ্লাস নিয়ে বসেছে। কেমন তছনছ হয়ে গেল লিনার জীবন। আথীলাহ এখন  কানাডায়। একেবারে বাচ্চা অবস্থায় লিনা ওর বড় ননদের কাছে দিয়ে দিয়েছিল মেয়েকে। এরপর বিএ পাশ করে এনজিওর চাকরি আর শরীরের  উঞ্ছবৃত্তিতে বেপরোয়া হয়ে গেছে। একই সঙ্গে অসম্ভব বুদ্ধি আর কৌশলে খুলনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী ও শিশুদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে সে। শুধু কোন কোন রাতে আউলে যায়। আদিল নাকি ওর ঘরের সামনে তীব্র হর্ন বাজিয়ে হোন্ডা চালিয়ে চলে যায় নদীর দিকে। জলজ গন্ধে ভরে ওঠে লিনার ঘর। সেই গন্ধে লীন হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে লিনা। সেদিন ওর কিছুই লাগে না। না পানীয়, না কোন সক্রিয় দেহ।       

বেসিনের আয়নায় উইয়ের ঢিপির মত রাহির সাদা বুদ্বুদময় মাথা দেখা যাচ্ছে। দু একটা বুদ্বুদ ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে মিলিয়ে যাচ্ছে শূন্যে। হাসান সেদিন পালাতে পারলেও রাহি পারেনি। কথা ছিল দেশ ছেড়ে নিরাপদ হলে হাসান যোগাযোগ করবে রাহির সঙ্গে। করেনি। দিন মাস। রাহি কাউকে বলেনি, বলতে পারেনি অপুষ্ট বিপ্লবের মত একটি স্বপ্ন বেড়ে উঠছিল রাহির মনের ভেতর। ট্রেন দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর দূরের আত্মীয় হিসেবে রাহি আর জাহানকে নিয়ে ওদের আম্মু আশ্রয় নিয়েছিল লিনাদের বাড়িতে। বিনা পরিশ্রমে কখনও এক গ্লাস পানি খায়নি কারও কাছে। লিনাদের বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিল। পরে লিনার ভাইদের সহযোগিতায় পাড়ার পরিত্যক্ত একটি ঘরে ইশকুল খুলেছিল। স্বামীর মৃত্যুর  ক্ষতিপূরণের টাকায় কয়েক শতাংশ জায়গা কিনে টিনের একটি ছোট্ট ঘর তুলতে পেরেছিল কয়েক বছরের ভেতর। চিরাশ্রিতা হয়ে থাকেনি। প্রথম দিকে রাহির জন্য কিছু দামি জামা দিয়েছিল লিনার আম্মু। রাহির আম্মু সেগুলো হাতে নিয়ে খুশি হয়ে বলেছিল, “ মনিআপু এত দামি জামা! রাহির অভ্যাস খারাপ হয়ে যাবে যে!’’    

এরকম মাকে বিরক্ত করতে চায়নি রাহি। চলে গেছিল চট্টগ্রাম। পড়াশোনা আর চাকরির দোহাই দিয়ে বহু বছর ঘুরে বেড়িয়েছে দেশ বিদেশ। বিয়েও করেছিল। বিপত্নীক বয়স্ক এক পলিটিক্যাল কনসাল্টেন্টকে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি যার নখদর্পনে। সন্তান নিতে পারত। নিতেই হবে এমন কোন তাড়া অনুভব করেনি কখনও। ভদ্রলোকের তিনটি ছেলেমেয়ে অত্যন্ত অমায়িক আগ্রহে রাহিকে গ্রহণ করে নিয়েছিল। বছরের একটি মাস সবাই মিলে একসঙ্গে থাকা হত। কখনও মার্কিন মুলুকে তো কখনও জাকার্তা বা শ্রীলংকায়। তারপর যে যার কাজে যে কোন দেশে। মুভিং ফ্যামিলি। স্বামীর মৃত্যুর পরেও সম্পর্কে ভাঙ্গন আসেনি। বেশ আছে। স্বামীর ছোট ছেলেটি ছিল চার বছরের একটি শিশু। বড় ভাইবোনেরা ওকে বলেছিল, হাসপাতাল থেকে আম্মুকে নতুন করে বানিয়ে দিয়েছে। ব্যস, সে ছেলে ঠেলেঠুলে রাহির কোলে উঠে দুহাতে মুখ ধরে চুমুর পর চুমু খেত। আলাদা বিছানা ছেড়ে রাহির গায়ে পা তুলে ঘুমিয়ে পড়ত। বিয়াল্লিশ বছরের রাহির প্রথম প্রথম বিরক্ত লাগলেও এক সময় এমন হলো, ছেলেটি কাছে না এলে বুক ধড়াস করে উঠত, ইমন গেল কোথায় ---ইমন ইমন--  

সে ছেলে বড় হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার। গুগলে কাজ করে। যখন তখন যে কোন বিষয়ে রাহির সঙ্গে তার কথা বলা চাই। রাহিকে না পেলে টেক্সট অথবা মেইল পাঠায়, “হেই মাম তুমি কি আবার হারিয়ে গেছ?”  

ইমনের হাসির শব্দে রাহির বাল্যকাল বেজে ওঠে।    

অথচ খুলনা ওকে টানে না। পৃথিবীর সব নদী ওকে টানলেও রূপসা কখনও কোনোদিন ওর স্বপ্নে আসেনি। খুলনা এসেছে জাহানের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে। এবার সে নেমে এসেছে রূপসায়। ঝগড়ার মাঝে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠেছে লিনা, জিতে গেছে--জিতে গেছে। ডার্লিং বুড়ো হো হো--লুলা ইজ ব্যাক –

হোটেলে ফিরে টিভির পর্দায় দেখেছে, সগর্জন। ভেসে আসছে লক্ষ লক্ষ জয়ধ্বনি, ভিভা লুলা। ভিভা----  

শাওয়ার ছেড়ে দেয় রাহি। ঝরে পড়া পানির আদরে পাখির ডানার মতো ছড়িয়ে দেয় দুটি হাত, ভিভা হাসান।  

লিনা জানে না, মূল সড়ক ছেড়ে গ্রামের নিবিড় রাস্তা ধরে সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া কালো প্রাইভেট কার থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে আনা হয়েছিল হাসানকে। সে রাতে আদিলের সঙ্গে আরও একটি রক্তাক্ত মৃতপ্রায় অজ্ঞান তরুণকে সিমেন্টের বস্তা গলায় বেঁধে ডুবিয়ে দিয়েছিল নান্না।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক