Published : 06 Jul 2025, 07:13 PM
গান হল সুর, তাল, লয় ও কথার সমন্বয়ে পরিবেশিত একটি শ্রুতিমধুর শিল্পকর্ম। এটি সাধারণত কণ্ঠ বা কোনো বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়। গানের মূল উপাদান হলো কথা (লিরিক), সুর, এবং তাল। গান মানুষের আবেগ প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন অনুভূতি যেমন আনন্দ, দুঃখ, বিরহ ইত্যাদি প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। গান এবং সংগীত শব্দ দুটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত কিন্তু এদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। বলা যেতে পারে, সকল গানই সংগীত, কিন্তু সকল সংগীত (মিউজিক) গান নয়, যেমন বাদ্যযন্ত্রের সংগীত গান (Song) নয়। গানে অবশ্যই গায়কের স্বর ও লিরিক থাকবে। এখানে ছন্দ, তাল, সুর ইত্যাদি থাকবে। সংগীতেও এসব উপাদান থাকে, তবে এটি বেশি বিস্তৃত বলে মনে করা হয়।
ছোটবেলায় আমরা রেডিওতে কিংবা সিনেমা দেখতে গিয়ে গান শুনে অনেক আনন্দিত বোধ করেছি। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের প্রায় সকলেই রয়েছে। কেউ বিশেষ সুরের গান অর্থাৎ মনোমুগ্ধকর (ব্যক্তি ভেদে যার পার্থক্য ঘটে) সুরের কারণে কোন গান পছন্দ করেন, কেউবা পছন্দ করেন গানের কথা (লিরিক্স)। সংগীতে যেহেতু তেমন লিরিক্স নেই, ফলে সুর, ছন্দ, মেলোডি ইত্যাদি বৈশিষ্ট কোন বাদ্যযন্ত্রের বা যন্ত্রগুলোর (ক্লাসিকাল মিউজিক) শ্রোতার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠার কারণ। কিন্তু, গবেষণা বলছে, বিশেষত সংগীত এবং গান মানুষের কিছু কিছু রোগ নিরাময়ে বা তার প্রকোপগুলো কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে। এটিকে বলা হচ্ছে ‘মিউজিক থেরাপি।’ পাশ্চাত্য বিশ্বে এবং প্রাচ্যের কিছু দেশে মিউজিক থেরাপি দিনে দিনে জনপ্রিয় হচ্ছে।
সংগীত ডিএনএ মেরামত করতে সহায়তা করে
আমাদের কোষস্থ ডিএনএ বয়সের সাথে সাথে এবং বিভিন্ন জটিল রোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। বিশেষত ডিএনএ-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা টেলোমেয়ার নামে পরিচিত, তা ক্রনিক ও জটিল রোগে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। ধ্রুপদী সংগীত বা ধীর লয়ের, সুন্দর ছন্দময় গান প্রতিদিন ২০/৩০ মিনিট করে নিবিষ্ট মনে শুনলে তা ক্ষয়ে যাওয়া টেলোমেয়ারকে আবারো বৃদ্ধি করার ক্ষমতা রাখে। এই টেলোমেয়ারকে ক্রোমোজোমের "সুরক্ষা টুপি" বলা হয়। টেলোমেয়ার ক্ষয়ে যাবার সাধারণ মানে হলো মানুষের আয়ু কমে যাওয়া। আয়ু কমে যাবার অন্যান্য কারণও রয়েছে। এটি বৃদ্ধি পাওযা মানে আয়ু বেড়ে যাওয়া। রোগ-জরা ইত্যাদির কারণে যখন টেলোমেয়ারগুলি অত্যন্ত ছোট হয়ে যায়, তখন তারা তাদের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা হারায়।
এখানে উল্লেখ করা যায়, বয়স্ক ব্যক্তিদের শ্বেত রক্তকণিকার গড় টেলোমেয়ারের দৈর্ঘ্য অল্প বয়সী ব্যক্তিদের তুলনায় কম থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট বয়সে যাদের টেলোমেয়ারের পরিমাণ কম (অথবা দ্রুতই কমে যায়) তাদের বয়স-সম্পর্কিত রোগ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
যদিও সংগীত শুনলে ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ অণুগুলিকে সরাসরি মেরামত হয়ে যায় না, তবে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে সংগীত ডিএনএ’র স্বাস্থ্য এবং কোষীয় চাপের (Stress) সাথে সম্পর্কিত কারণগুলিকে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে। এতে করে শরীর তার নিজস্ব মেরামত প্রক্রিয়ার জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি নিতে পারে।
কেন সংগীত মন ভাল করে দিতে পারে?
সংগীত শুনলে মস্তিষ্কে আবেগজনিত একটি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষত, ধ্রুপদী সংগীত বিভিন্ন ধরনের আবেগ জাগাতে পারে, মনে ধনাত্মক উত্তেজনা এবং আনন্দ তৈরি করতে পারে। তবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মন খারাপও হয়ে যেতে পারে। আজকের আলোচনায় ঋণাত্বক কোন প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। সংগীত মনের নানারকম বাধ্যবাধকতা (Compulsiveness) বা ঋণাত্মক আবেগ প্রবণতাকে (Impulsiveness) যথেষ্ট লাঘব করতে পারে। মনে এনে দিতে পারে প্রশান্তি, জন্ম দিতে পারে সৃজনশীলতা, বাড়িয়ে দিতে পারে আমাদের মননশীলতা। ফলে সংগীত শ্রোতাকে শান্ত ও সুস্থ রাখতে নানাভাবে সহায়তা করে।
গবেষণা কি বলে?
‘পিয়ার জে’ জার্নালে প্রকাশিত ২০১৩ সালের একটি যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে যে সংগীত থেরাপি অস্ত্রোপচারের সময় স্তন ক্যান্সারের রোগীদের ক্ষেত্রে ডোপামিন নিঃসরণ বৃদ্ধি, কোন কিছু শিখতে সহায়তা করা, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে ডিএনএ মেরামত ও বেশি দিন বেঁচে থাকার পথ তৈরি করে দেয়। এর অর্থ হলো, সংগীত নিজেই ডিএনএ ঠিক করে না, তবে এটি জিনের কার্যকলাপকে "উন্নত" করে বলে মনে করা হচ্ছে। সংগীত শরীরের কোষের ওপর এমন প্রভাব বিস্তার করে যাতে করে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন তৈরি হয় যা ডিএনএকে মেরামত করে এবং কোষগুলিকে রক্ষা করে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে। একটি সুস্থ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোর ওপর খেয়াল রাখে এবং সেগুলোকে অধিক চাপ/অবসাদ (Stress) থেকে সুরক্ষা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর সংগীতের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে অনেক গবেষণাতে তা প্রমাণিত হয়েছে।
ঘুম ও ধ্রুপদী সংগীত
ধ্রুপদী সংগীত সাধারণত কনসার্ট, চলচ্চিত্র এবং শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করা হয়। আগেই বলা হয়েছে, সংগীত মনের নানারকম বাধ্যবাধকতা (Compulsiveness) বা ঋণাত্মক আবেগ প্রবণতাকে (Impulsiveness) লাঘব করতে পারে। ফলে শরীর ও মনের শিথিলকরণের মাধ্যমে সংগীত প্রায়শই স্পা ট্রিটমেন্ট, ধ্যান সেশন, যোগ ক্লাসে বা ঘুমের জন্য আবহ সংগীত (Background Music) হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
সামগ্রিকভাবে, গান ও সংগীত নিজস্ব পৃথক বৈশিষ্ট্য বিনোদনের পার্থক্য থাকলেও ধ্রুপদী সংগীত আরও জটিল এবং আবেগজনিত কারণে বিশেষ বৈচিত্র্যময়, যা কিনা শরীর ও মনের শিথিলকরণ এবং প্রশান্তিদায়ক এক পরিবেশ তৈরি করে থাকে।
মন শিথিলের একটি বড় বিষয় হলো হৃদ স্পন্দনের মধ্যে একটা ভাল সামঞ্জস্য থাকা। দুবার হৃদস্পন্দন হবার মাঝখানে কয়েক মিলি সেকেন্ডের একটি বিরতি থাকে। যে ব্যক্তির এই বিরতি যতটা স্থিতিশীল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তার মন অন্যদের থেকে তত বেশি শান্তিপূর্ণ (শিথিল)। সংগীত এই শিথীলতাকে বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে সুগঠিত, সুরেলা ধ্রুপদী সংগীত এলোমেলো শব্দ বা নীরবতার চেয়ে হৃদস্পন্দনের বিরতিকে (Heart Rate Variability) ভালোভাবে সম্প্রসারিত করতে পারে। এখানে আরও বলা যায়, কিছু শব্দ, যেমন ঝর্ণার মৃদু স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ এবং রেইনফরেস্টের বাতাসের শব্দ স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমায় সেই সাথে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে বিশ্রাম ও হজমের মোড (Rest and Digest)-এ স্থানান্তরিত করে।
অতীন্দ্রিয় স্তরে নিয়ে যায় গান
অবাক করা কথা! আমরা জেনেছি যে সংগীতের শারীরবৃত্তীয় প্রভাব রয়েছে। একটি সমধুর ও সুললিত সংগীত আমাদের হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং স্ট্রেস হরমোনের উপর প্রভাব রাখে। জৈবিক ছন্দ যেখানে সংগীতের ছন্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (Snchronization) হয়, সেই প্রবৃত্তির ঘটনাটিই এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
তারপর আছে সংগীতের নিউরোকেমিক্যাল দিক, যা কিনা আনন্দের জন্য ডোপামিন, ব্যক্তি সংযোগের জন্য অক্সিটোসিন, ব্যথা উপশমের জন্য এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে। কিন্তু "অতীন্দ্রিয়" বিষয়টির জন্য আমাদেরকে প্রচলিত জীববিজ্ঞানের বাইরে যেতে হবে। এখানেই ”কোয়ান্টাম লীপ”-এর প্রসঙ্গটি আসে। সংগীতের সুরে যখন কারও মন-প্রাণ-আত্মা এক অজানা স্পেসে ডুব দেয়, তখন আপাত (physical/mental) “আমি”র অস্তিত্ব আর থাকেনা। সাধু-সন্নাসী বা অলি-আউলিয়াদের কাছে এটি একটি সাধারণ ঘটনা। একসময় এটিকে গোপন বিদ্যা বলা হতো। কেননা, এই স্তরে প্রবেশ করতে পারলে ব্যক্তির অতিন্দ্রিয় কিছু ক্ষমতা জন্মাতে পারে। এটিই হলো সেই অবস্থা, যেখানে শরীর-মনের ইগো-কেন্দ্রিক ‘আমি’ আর থাকে না, তখন যা থাকে তাকে শূন্যতা (emptiness/complete silence) বলে যা পরমাত্মা বা অসীমের সাথে মিলিয়ে যায়।
সাধারণত, মিনিটে ৬০ থেকে ৮০ বিটের ড্রাম বা লয়যুক্ত শাস্ত্রীয়, ধ্রুপদী সংগীত মানুষকে ঐ স্তরে নিয়ে যেতে পারে। এই স্তরেই সম্ভব হয় শারীরিক ব্যথা হ্রাস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক ট্রমা লাঘবকরণ প্রক্রিয়ার সূচনা। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির মননশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
শরীরের ছন্দময়তায় রয়েছে সুস্থতার টনিক
আমাদের দেহ ছন্দবদ্ধ পদ্ধতি যেমন, হৃদস্পন্দন, শ্বাস, মস্তিষ্কের তরঙ্গ ইত্যাদির একটি যোগফল। শক্তিশালী, স্থির ছন্দ (যেমন ড্রামিং) এই জৈবিক ছন্দগুলিকে প্ররোচিত করতে পারে, হৃদস্পন্দন ধীর করে, শ্বাসকে গভীর করে এবং মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলিকে সুসংগত করে (প্রায়শই আলফা বা থিটা লেভেলে) নিয়ে গিয়ে মনকে শান্ত করে। এটি স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) হ্রাস করে এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে যাকে "বিশ্রাম এবং হজম" পর্যায় বলা হয়, সেটিকে সক্রিয় করে।
নির্দিষ্ট কিছু ফ্রিকোন্সি শারীরিক কম্পনের মাধ্যমে বিশেষ টিস্যু বা কোষের শক্তি কেন্দ্রের সাথে অনুরণিত হতে পারে এবং এতে করে কোষের সম্ভাব্য মেরামতকে উৎসাহিত করে, উত্তেজনা মুক্ত করে, অথবা অভ্যন্তরীণ ছন্দময়তার এক অনুভূতি তৈরি করে।
স্নায়ু-রাসায়নিক ককটেল
অক্সিটোসিন হরমোন ও সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কনসার্টে গিয়ে গান শোনা বা গানের তালে নাচলে তা এক শক্তিশালী আবেগজনিত উদ্দীপনা তৈরি করে যা হ্যাপি হরমোন অক্সিটোসিনের নিঃসরণ ঘটায়। এই সামাজিক বন্ধন হরমোনটি আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, নিরাপত্তা, ভালোবাসা এবং সামাজিক সংযোগের আনন্দ অনুভূতি জাগায়। সেই সাথে দূর করে বিচ্ছিন্নতা ও অবসাদ বোধ। এদিকে, উচ্ছ্বসিত ও প্রাণবন্ত সংগীত, বিশেষ করে দ্রুতগতির ইলেকট্রনিক নৃত্য সংগীত এন্ডোরফিনের নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। এন্ডোরফিন শরীরের ব্যথা উপশমে সহায়তা করে এবং আমাদের মেজাজকে শীতল রাখে। তবে, একজনের কাছে যে মিউজিক সুললিত বলে পরিগণিত হয়, আরেকজনের কাছে তা স্রেফ বাজারের হৈ চৈ বা গোলমাল মনে হতে পারে।
সংগীত অহংকার লোপ করে
আমাদের অহংকার বোধ বিলোপ করতে পারে সংগীত। সংগীতের দ্বারা উদ্বেলিত হলে, নিবিষ্ট মনে তা শ্রবণ করলে, বিশেষ করে ছন্দময়, পুনরাবৃত্তিমূলক সংগীত আমাদেরকে ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যেতে পারে। এ যেন এই প্রশ্নের মুখোমুখি করে আমাদের: আমি কোথায় পাব তারে…আমার মনের মানুষ যে রে (গগণ হরকরা)! অথবা আমরা প্রার্থনা করি রজনীকান্ত সেনের সেই গানের মাধ্যমে ’তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে, মলিনও মর্ম মুছায়ে!’ মনে হয় আমরা যেন এই গানের সুরের মধ্যে অবগাহন করে প্রকৃতির বা মহাবিশ্বের অব্বিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হচ্ছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গানে বলা হচ্ছে, ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে, দেখতে আমি পাইনি, তোমায়’…কবি গুরু তো পরমাত্মার উপস্থিতি এই দেহ-মনেই দেখতে পাবার কথা বলছেন। অথবা, ’মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না,’ এই আক্ষেপ আমাদের সকলের।
বিশ্বে মিউজিক থেরাপির ব্যবহার
বিশ্বের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চিকিৎসক, যেমন স্নায়ুবিজ্ঞানী, মনোরোগ বিজ্ঞানী, পুনর্বাসন ও উপশমকারী যত্ন কেন্দ্র এবং শিশু বিশেষজ্ঞ তাদের রোগীদের সার্টিফাইড মিউজিক থেরাপিস্টের কাছে রেফার করেন ( আমেরিকান মিউজিক থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন-এর হিসেব)
উচ্চ-আয়ের দেশগুলিতে থেরাপি নেয়া মানুষের সংখ্যা বেশি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় প্রায় ২৫-৩০% শতাংশ মানুষ তাঁদের নানাবিধ রোগ বা সমস্যার জন্য স্নায়ু বিশেষজ্ঞ, পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ, স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া, বা পার্কিনসনের জন্য মিউজিক থেরাপি নিয়ে থাকেন। ইউরোপে এই সংখ্যা ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ (ইউরোপীয় মিউজিক থেরাপি কনফেডারেশন-এর তথ্য)।
বাংলাদেশে ধ্রুপদী সংগীত
বাংলাদেশে ধ্রুপদী সংগীতের ব্যবহার কম। এখানকার রেডিও, টেলিভিশনগুলো ধ্রুপদী সংগীতের অনুষ্ঠান করতে খুব একটা আগ্রহী নয়। কারণ এই অনুষ্ঠানের জন্য স্পন্সর পাওয়া কঠিন। তবে, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার রেজওয়ানুল কামাল চৌধুরী এই লেখককে বলেন, তাঁরা বছরে বছরে যে ধ্রুপদী সংগীতের আসর বসাতেন, তা নানা কারণে চালু রাখা সম্ভব হয়নি । বিশেষত, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এজন্য দায়ী বলে তিনি মনে করেন। তবে, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন চত্বরে তাঁরা বছরে ১৮/১৯ টি গানের আসর বসিয়ে থাকেন। এদিকে শিল্পকলা একাডেমিও কিছু গানের আসর আয়োজন করে। রেজওয়ান বলেন, এই অগাষ্ট মাস পার হলে বোঝা যাবে, এবছরে তাঁরা ধ্রুপদী সংগীতের বহুল জনপ্রিয় আসরটি আয়োজন করবেন কিনা। তিনি বলেন, তাঁদের অনুষ্ঠানে যাঁরা সংগীত পরিবেশনের জন্য আসেন, তাঁরা ব্রিটেনে রাজা/রাণীর বাসায় বা যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠান করে থাকেন। কিন্তু, বংলাদেশ তাঁদের জন্য সবচেয়ে সেরা ভেন্যুতে পরিণত হয়েছে। বেশিরভাগ শিল্পী বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এসে-- এমনকি সংগীত পরিবেশনের সময়ে-- দর্শকদের বলেছেন, বাংলাদেশ তাঁদের কাছে সংগীত পরিবেশনে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু স্থান দখল করে নিয়েছে। এখানকার ক্রাউডের কারণে তাঁরা অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত বোধ করেন।