Published : 05 May 2021, 11:46 PM

অন্তলোকে
ত্রিবেণী তীর্থের, পথে-পথে
পদ্মরাগে,আলাপ-বিস্তার,
কে গায়, সে সুজন প্রেমিক,
রাধিকাশিরীন; আমি নই;
চাঁদ-মেঘে,বিবাহ বাসর,
জন্ম তার, পূর্ণিমার কোলে,
সপ্তর্ষির, মুক্ত আঙিনায়
শিশু খেলে, ভাটিতে উজান;
ধুম-পাহাড়ের,ঘুম-ঝর্ণা,
পাথরের বুক চিরে, রাঙা
সবুজের, প্রমত্ত উৎক্ষেপ,
দু'ঠোঁটের ধার বেয়ে, লালা
শব্দ, বিস্ফারিত অচেতন
চেতনে, মাটির কলসি,ভেঙে
গর্জে ওঠে, যমুনার খাতে,
কালিন্দীর ধারা, বালুভুঁ'য়ে;
ঘোর অমাবস্যা, আস্তরণ
ফেটে,, ছায়া, ধবল কুসুমে
স্বরগ্রাম,আঁধারিয়া আলো,
চমক লেগেছে ভুবনের
পথে, আজ, হাঁটি হাঁটি পা পা,
সে তোমার, সারেঙ্গির বোল,
হৃদয় মন্দিরে,নহবৎ
উপাসনা, মসজিদে এসরাজ;
যে তিমির, আউলিয়া ওঠে
অগ্নিস্বরে, প্রণত সেজদায়,
প্রণামি গ্রহন করো, তুমি,
পুষ্পরেণুঘ্রাণ, নাও শ্বাস;
কে বাজায় কে গায় কে ভনে
তারানা, সে কার, প্রাণদীপ,
হৃৎকমলে দাহ,কুহু-কেকা;
তোমাতে, অন্তরতমা, তুমি!
সারাৎসার
হাওয়ায়-বালুতে, ভালোবাসি,
লিখি, নাম-ধাম পরিচয়;
তারা, ধরণির প্রান্তপথে,
ছিল না, ছিল কী; জানা নেই;
সে জীবাশ্ম, পর্বত সমান,
অগ্নিদহ, শিলা একীভুত,
আছে কী, না-আছে; প্রশ্ন নয়;
জলে ও রোদ্দুরে, ভালোবাসি ,
হয়তো-বা লিখি নি; আমি আছি;
মৃত্যুকূপ, খননে, কিছুটা
সময়, এখনো বাকি আছে ,
তাদের আসঙ্গ, অন্তহীন
ভালোবাসাবাসি, মধুবিষ
পান, যাওয়া-আসা; লগ্ন, ক্ষণ,
প্রলয় বিলয়, শূন্যে, থাকি !
নয় বা ধরিত্রী
অতল অতলে, এলোকেশি
মধ্যরাত, তোমার শরীর ;
মালকোষ, তীব্র অনুযোগে,
ঢেউয়ের উথ্থানে, দরবারি
আবেগে বিরাগে অনুরাগে
ললিত,অলীক বিস্মরণে;
মধুরেণ,সমাপ্তিতে ঘ্রাণ,
মুখের না মাংসের, না হয়তো
ঘামে, স্নিগ্ধতার; এখনো বা
কিছু বাকি, জোয়ারের ঘাই
ধলেশ্বরী বাঁকে, ঊরু হাঁটু
বেয়ে জলস্রোত, পূর্ণিমা না
অমাবস্যা, আড়মোড়া ভাঙে
আদুল দোদুল, বুকেপিঠে;
শত নদী সমুদ্র মোহনা
প্লাবিত প্রান্তর, তেপান্তর
পার, মাথা তোলে মুথাঘাস,
স্তব্ধ অশ্বক্ষুর, ধ্বনি, মৃত
আচম্বিতে, ভূ-মণ্ডল, ওঠে
চমকে, সুরে লয়ে মূর্ছনানায়
কে বাজায় কে গায় সসীমে
অসীমের, অন্তিম উদ্ভাস;
চোখ খোলে, আলোতে আঁধার,
চেনা দেশি, ঘুঙুরের বোল,
নামে, ঘর ছেড়ে আঙিনায়,
চুর্ণিত চুলের, ভাটিয়ালি
নিশির শিশির, ভৈরবীতে
তুমি ভোর, পরশ পাথর!