Published : 12 Feb 2023, 10:47 PM

প্রশ্ন: কোভিডোত্তর মেলা নিয়ে এবার কী আশা করছেন?
উত্তর: গত বছর কোভিড ছিলো, অযুহাত ছিলো। কিন্তু এবছর সেসব নেই অথচ মেলার অবস্থা খুব খারাপ। গতবারের চেয়ে আমরা আরও বেশি শঙ্কিত। এমেলা কতদিন চলবে, কীভাবে চলবে! খরচই উঠবে না। প্যাভিলিয়ন বানিয়েছি, তার যে একটা খরচ আছে সেই খরচই উঠবে না মনে হচ্ছে। এতো অবস্থা খারাপ।
প্রশ্ন: এর অর্থ আপনি এই মেলা নিয়ে আশাবাদী নন?
উত্তর: না, আমি এই মেলা নিয়ে একেবারেই আশাবাদী নই। কারণ আশার কোন লক্ষণই দেখছি না।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বইয়ের দামও নিশ্চয় বাড়িয়েছেন?
উত্তর: একটা প্রবাদ আছে না, ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’, আমাদের অবস্থা হয়েছে তাই। একদিকে কাগজের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে চার পাঁচটা সিন্ডিকেটের হাতে কাগজের ব্যবসা। আবার কাগজ বিক্রেতাদেরও সিন্ডিকেট। কোন কোন কাগজের প্রতি রিমে যদি হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ে, সেটা কীভাবে আমরা সমন্বয় করবো? আমরাই বা টিকে থাকবো কী করে?
প্রশ্ন: সেটা নিয়ে পাঠক-ক্রেতার প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
উত্তর: পাঠক বই ধরবে কেন? ভাত-রুটির পর না বই! বই হচ্ছে শেষে।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বই প্রকাশের সংখ্যা কমে গেছে কিনা?
উত্তর: হ্যাঁ, কমে গেছে। অনেক বই আমি ছাপছি না। আমার কাছে থাকা ৬০/৭০ ফর্মার বইগুলো ছাপিনি। সেগুলো রেখে অন্য বই ছেপেছি। কাগজের দাম যথন কমবে, তখন দেখা যাবে।
প্রশ্ন: এর প্রভাবে বা কোন আশঙ্কা থেকে কোন ধরনের বিক্রয় কৌশল হিসেবে কোন ধরনের বই বেশি বা কম প্রকাশ করছেন কিনা?
উত্তর: না, সেই ধরণের কৌশল নেইনি। বাজারে যে ধরনের বই চলে, সেই ধরনের বইই আমরা ছাপছি। নতুন লেখকদের বই করছি, কিন্তু সেগুলে নিয়ে কোন আশা দেখছি না।
প্রশ্ন: মেলার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
উত্তর: মেলার পরিবেশ ভালো। গতবার মেলাটাকে পুরো উদ্যানের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলো। লোকজন এক স্টল থেকে অন্য স্টল খুঁজতে ঝামেলায় পরেছে। এবার গোছানো তো, এবার সেই সমস্যা নেই।

প্রশ্ন: কোভিডোত্তর মেলা নিয়ে এবার কী আশা করছেন?
উত্তর: সবই ঠিক আছে। প্রতিকূলতা বলতে কিছু নেই। কিন্তু মেলার যে মূল আকর্ষণ/অনুসঙ্গ নতুন বই। লেখক, প্রকাশক, পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু নতুন বই নিয়ে কিছুটা শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যে বইটি পড়া হয়নি সে বই-ই তার তার কাছে নতুন। কিন্তু কাগজের দাম বৃদ্ধির কারণে—আপনি জানেন যে, কাগজের মূল্য গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে—এতে নতুন বইয়ের উপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছি। এ কারণে বইয়ের মূল্য বাড়বে, পাঠকের প্রতি চাপ পড়ব এর। তবে আগের দুটি মেলার সঙ্গে তুলনা করে আমরা মেলার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কোন ধারণা নিতে পারছি না। কারণ এই নয় দিনে ক্রেতা-পাঠকের গতিবিধি এখনও বোঝ যাচ্ছে না।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বইয়ের দামও নিশ্চয় বাড়িয়েছেন, সেটা নিয়ে পাঠক-ক্রেতার প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
উত্তর: আমি সাধারণ হিসাবে যা বুঝি—আমরা যে-কাগজ ব্যবহার করি তার দাম গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে—কিন্তু সে তুলনায় নতুন বইয়ের দাম বাড়াইনি। বরং কমিয়েছি। অর্থ্যাৎ নতুন বইয়ের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়ছে। কিন্তু দেশের সার্বিক পরিস্থিতি যদি আমরা বিবেচনা করি, দেখা যাচ্ছে এমন কোনও পন্য নাই যার দাম বাড়েনি। বৈশ্বিকভাবেও মূল্যবৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই নিয়ে কি পাঠকরা খুব সচেতন? তাদের বিবেচনার মধ্যে নিবে কাগজের দাম বৃদ্ধি? এদিকে কিন্তু বইয়ের মূল ক্রেতা মধ্যবিত্ত, যাদের আয় সীমাবদ্ধ। তারা এখন একটু চাপে আছে। তাই আগেই বলেছি, নবম দিনে এসেও সঠিক পরিসংখ্যান জানতে পারছি না।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বই প্রকাশের সংখ্যা কমে গেছে কিনা?
উত্তর: আমার ক্ষেত্রে আমি বলবো, অবশ্যই কমে গেছে। আর সবার মিলিয়ে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কম বই প্রকাশ হবে, মনে করছি। আজ পর্যন্ত এবারের মেলায় ছয়শত বই এসেছে বলে আমি জানতে পেরেছি। এটা অন্যান্য সময় হলে হাজার ছাড়িয়ে যেতো। এখন দেখা যাবে শেষ পর্যন্ত হয়তো অপেক্ষা করবেন অনেকে, অবস্থা বুঝে পা ফেলার।
প্রশ্ন: এর প্রভাবে বা কোন আশঙ্কা থেকে কোন ধরনের বিক্রয় কৌশল হিসেবে কোন ধরনের বই বেশি বা কম প্রকাশ করছেন কিনা?
উত্তর: না, তেমন কোন উপায় নেই আমাদের। আমরা একটা পাণ্ডলিপি গ্রহণ বা সংগ্রহ করে তা যাচাই করি যে, কোন পর্যন্ত যেতে পারে এটি। প্রযুক্তির কল্যাণে আপনারা অবস্থা বুঝে নিতে পারেন। আর সত্যি সত্যি যদি কোনও বইয়ের প্রয়োজন হয়, তবে তা প্রকাশ না করে থাকা যাবে না। এখন তো সেই রকম কোনও পরিস্থিতি হয়নি, তাই কোনও সঙ্কটও নেই। তবে কাগজ না পাওয়া গেলে বই ছাপবে কী করে! সেটা কিন্তু প্রথমেই বলেছি। প্রত্যেকটা বই সম্পর্কে, লেখক সম্পর্কে, পাঠক সম্পর্ক কিন্তু ধারণা প্রকাশকের আছে। তাদের নিয়েই তো আমাদের কারবার। ধারণা শতভাগ সঠিক হবে এমন না, কিন্তু তার কাছাকাছি মিলে যায়।
প্রশ্ন: মেলার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
উত্তর: এবারের স্টল বিন্যাস নিয়ে বলি- এবার প্যাভিলিয়নের সমান্তরালে এক/দুই/তিন ইউনিট করে স্টল দুই পাশ দিয়ে সমান করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং, সাজানোটা আমি মনে করি এবার বেটার হয়েছে। তবে কিছু না কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। প্রত্যেকবার আমরা মেলা শেষ হলে বলি, এবারের অভিজ্ঞতা আমাদের আগামীবারে ত্রুটিহীন করবে। কিন্তু বাস্তবে তা অতীতেও হয়নি, এবারও হয়নি। যেমন—মাঠে ইট বসেনি, ধূলোবালি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। আবার দাপ্তরিক কাজে সমন্বয় আসেনি। যেমন—বাংলা একাডেমিকে আমি বললাম, আমার স্টল নাম্বার কতো তা পাঠক জানবে কী করে? তারা বলে এটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব। কিন্তু মেলার সার্বিক দায়িত্ব বাংলা একাডেমির। তাহলে তারা এদিকে কেন দৃষ্টি দেবে না। শেষ পর্যন্ত আমি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টকে আমি ফোন করিয়ে রাজি করালাম, তারা প্রত্যেক সারিতে লিখে দেবে কত থেকে কত সংখ্যার স্টল আছে। কিন্তু সেটাও এমন জায়গায় দিয়েছে, যে মানুষের পায়ে মিশে যাবে ভিড় বাড়লে। আবার ধরুন, প্রধান দুই প্রবেশ পথ—টিএসসি সংলগ্ন ও কালী মন্দির গেট। লক্ষ্য করলে দেখবেন—কালী মন্দিরের দিক দিয়ে বাহির হবার গেটটি অপর্যাপ্ত। যদি ভিড় বাড়ে তখন কী হবে? এগুলো নিয়ে আরও সচেতন হওয়া দরকার। অমর একুশে বইমেলা বাংলা একাডেমির, কিন্তু উপলক্ষ তো আমরা। তবে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার আলোকসজ্জা বেড়েছে, তাতে উপকার হচ্ছে। তবে প্রসাধনীর যে ব্যবস্থাপনা, এটাও আরও একটু উন্নত হতে পারতো। নিরাপত্তার দিকে কোনও ঘাটতি লক্ষ্য হয়নি।
আপনারা জানেন বইমেলায় প্রত্যেকে স্ব স্ব বই বিক্রি করবে। তবে একমাত্র পরিবেশক হিসেবে অন্য প্রকাশনীর বই আমি স্টলে রাখতে পারবো। কিন্তু আমি দেখলাম, কয়েকজনকে নোটিশ করেছে। একটাকে বন্ধ করা হয়েছে। আমি যদি সবার বই বিক্রি করি, তাতে তো আর স্বকীয় মেলা হলো না, পাইকারী বইয়ের হাঁট হয়ে গেলো। এজন্য কঠোর অবস্থানেই থাকা দরকার। শিশু কর্ণারের প্রতি আরও মনোযোগী ও সৃজনশীল হতে পারি আমরা।

প্রশ্ন: কোভিডোত্তর মেলা নিয়ে এবার কী আশা করছেন?
উত্তর: গেলবার অন্যান্য মেলার তুলনায় জনসমাগম কম ছিলো। এবার কোভিডের কোন বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু এবারে নতুন শঙ্কা হলো দুটি। দুটিই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেটা মূলত পাঠকদের ক্রয় ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে, বইয়ের দাম বেড়ে গেছে কাগজের দাম বাড়ার কারণে। আপনারা জানেন। এ কারণে আশানুরূপ বিক্রি হয় কিনা; শঙ্কিত আমরা।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বইয়ের দাম কতোটা বাড়িয়েছেন, সেটা নিয়ে পাঠক-ক্রেতার প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
উত্তর: এই মুহূর্তে সঠিক হিসাব দিতে পারছি না। তবে জানামতে আটদিনের মেলায় গতো বারের তুলণায় এবার এখনও বিক্রি কম। সেটা আমাদের একক অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে বলছি। তার অনেকগুলো কারণ হয়তো থাকতে পারে। কিন্তু সঠিক কারণ বলার অবস্থা হয়নি এখনও। দুটি শঙ্কার কথা বলেছি শুরুতেই—খরচের দিক চিন্তা করেই হয়তো সবাই সতর্কভাবেই খরচ করছে। আরেকটি বিষয় হলো, বইয়ের দাম বৃদ্ধির ফলে বিক্রি সাবির্কভাবেই হয়তো কমের দিকেই থাকবে।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বই প্রকাশের সংখ্যা কমে গেছে কিনা?
উত্তর: আমরা কম করার চেষ্টা করছি। সাধারণভাবে আমরা যে পরিমাণে একটি করে বই ছাপতাম সেটা ব্যয় সংকুলানের জন্য কমিয়ে দিয়েছি। যে বই আমরা আটশত ছাপতাম সে বই হয়তো পাঁচশত ছাপবো।
প্রশ্ন: এর প্রভাবে বা কোন আশঙ্কা থেকে কোন ধরনের বিক্রয় কৌশল হিসেবে কোন ধরনের বই বেশি বা কম প্রকাশ করছেন কিনা?
উত্তর: বিক্রয় কৌশল হিসেবে বই কম বা বেশি ছাপানোর সুযোগ নেই। কিছু বইয়ের জন্য আমরা লেখকদের কাছে দায়বদ্ধ। আবার কিছু বইয়ের সময়োপযোগিতার বিষয় আছে, সেই বই এখন না ছেপে পড়ে ছাপলে কোনও মূল্য থাকবে না। তাই আমরা চাই না একটা বইয়ের গুরুত্ব হানি হোক। তাই আমরা একেবারে নিরুপায় না হলে বা সবোর্চ্চ চেষ্টা করি বই করার। আর লেখকদেরও একটা প্রত্যাশা আছে আমাদের প্রতি। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার একটা ব্যাপার আছে। এমনিতেই আমাদের প্রকাশনী বই বের করতে সময় নেয়। এর ওপর আরও যদি দেরী হয়ে যায়, তাহলে সবদিক থেকেই হতাশার হবে ঘটনাটা।
প্রশ্ন: মেলার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
উত্তর: আমি আসলে মেলায় খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। এখনও অনেক বইয়ের কাজ চলছে, আমি সেগুলো দেখভাল করছি অফিসে বসে। হয়তো পরের দিকে সময় দেয়ার সুযোগ হবে। আশা করি সব ভালো হয়েছে। অন্যান্যরা যারা যারা মেলায় যাচ্ছেন তারা ইতিবাচক কথাই বলছেন। আরও পরে হয়তো আমার নিজের পর্যবেক্ষণ জানাতে পারবো।
আপনার প্রশ্নের বাইরেই আমি আরও কিছু বলতে চাই। সেটা হলো— কাগজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আমরা এর সঙ্গে (আমাদের ক্ষমতাহীন অবস্থান থেকে আমরা কাগজের দমের ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব রাখতে পারছি না।) একরকম ভুগছি। আমাদের প্রত্যাশা, এই বিষয়ে জোড়ালোভাবে কিছু করা হবে। কারণ আমাদের একক প্রচেষ্টা নয় বরং ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকে সবার মিলিত উদ্যোগে একটা অবস্থানে যেতে হবে। সরকার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর সবারই আগ্রহের জায়গা হলো পাবলিশিং মিডিয়া। একটা আবেগের জায়গা হলো এই ইন্ডাস্ট্রি। এটা যদি সত্যি হয়, তবে জেনে রাখা উচিত যে, কাগজের দাম বৃদ্ধি আমাদের সত্যিকার অর্থেই সাংঘাতিক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সেটা কেন মনোযোগ দিয়ে দেখা হচ্ছে না? আমরা আশা করবো এদিকে মনোযোগ দেয়া হবে। মিডিয়াকেও বলবো, আপনারা এই দিকটাকে সবাই সামনে তুলে ধরবেন, বইমেলাকে সামনে রেখে।

প্রশ্ন: এবার আর কোন বিধিনিষেধ নেই, কোনও প্রতিকূলতাও নেই। তাই কোভিডোত্তর এবারের মেলা নিয়ে কী আশা করছেন?
উত্তর: বইমেলা নিয়ে প্রকাশকদের সবসময় প্রত্যাশা থাকে, যে এই মেলা কতোটা সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মেলা এমন একটা সময়ে হচ্ছে, আমরা খুব আশাবাদী। করোনা সময়ের যে প্রতিকূল অবস্থা ছিলো, তা এবার নেই। কোনও বিধিনিষেধ নেই, কোনও বাধাবিঘ্ন নেই। করোনার সময়ে মানুষ মাস্ক পরে, ভয়-শঙ্কার মধ্যে ছিলো। এবার সেসব নেই। কাজেই আমরা প্রত্যাশা করছি, গত দুই বছর যে অবস্থা ছিলো, তা কাটিয়ে উঠে মেলা সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে শেষ হবে।
আমরা ইতিমধ্যে পাঠক-লেখক-দর্শকের মধ্যে আনন্দ লক্ষ্য করছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী কয়েকদিন পার হলেই মেলা জমে ওঠার ভাব সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বইয়ের দামও নিশ্চয় বাড়িয়েছেন, সেটা নিয়ে পাঠক-ক্রেতার প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
উত্তর: কাগজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে অর্ধেকের চেয়ে বেশি। যে কাগজ অর্থ্যাৎ এইট্টি গ্রাম ন্যাচারাল কাগজ দিয়ে আমরা বই মুদ্রণ করি। সেই কাগজ এখন বিক্রী হচ্ছে ৩ হাজার ৮শত টাকায়। অতএব আপনারা হিসাব করে দেখতে পারেন কতোটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী বইয়ের দাম বাড়ালে চলবে না। আরেকটি বিষয় আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি— নতুন বই বের হচ্ছে, তার পরিমাণ কতো? ধারণা করছি গতবারের চেয়ে অর্ধেক বই এবার বের হবে। ধরেন দুই বা আড়াই হাজার বই বের হবে। এদিকে আবার যেসব বই জুলাই-অগাস্টে ছাপা হয়েছে তার মূল্য আগের অবস্থা অনুযায়ী থাকবে। তাহলে আমাদের কতোটি বইয়ের মূল্য বাড়বে? দুই বা আড়াই হাজার বইয়ের মূল্য বাড়বে। এই দুই বা আড়াই হাজার বইযের মূল্য বাড়ায় তার প্রভাব মেলার সামগ্রিক বিক্রিতে কেন পড়বে? আমি মনে করি ভয়ের কোনও কারণ নে্ই। সামান্য পরিমাণ বইয়ের মূল্য বৃদ্ধির জন্য পাঠক-ক্রেতাকে ভয় দেখানো উচিত হবে না। কারণ দশ বছর আগে যে বইটি ছাপা হয়েছে, তার মূল্য আগেরটাই আছে। আমরা বছর বছর বইয়ের মূল্য বাড়াতে পারি না, যতোক্ষণ না নতুন করে মুদ্রণ হয় অর্থ্যাৎ নতুন সংস্করণ না হওয়া পর্যন্ত বইয়ের মূল্য বা অন্যান্য বিষয়ের কোনও পরিবর্তন আমরা করতে পারি না। কাজেই বেশিরভাগ বই-ই পাবে পুরনো মূল্যে। অতএব এটা বইমেলায় খুব একটা বাধা হয়ে দেখা দেবে বলে আমার মনে হয় না। আরেকটা কথা না বললেই না, বই যারা কেনেন—আমাদের বই মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে ২৫%--এই বৃদ্ধির ফলে তারা বই কিনবেন না তা কিন্তু না। বই যারা কেনে তারা বইয়ের মূল্য নিয়ে খুব একটা কথা বলে না। যারা বই কেনে না, তারাই বইয়ের মূল্য নিয়ে কথা বলে।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বা কোন আশঙ্কা থেকে কোন ধরনের বিক্রয় কৌশল হিসেবে কোন ধরনের বই বেশি বা কম প্রকাশ করছেন কিনা?
উত্তর: এর উত্তর আমি দিয়ে দিয়েছি ইতিমধ্যে। তবু প্রশ্নের খাতিরে আবারও বলছি, কিছু বইয়ের দাম বৃদ্ধি পাবে, সব বইয়ের না। এতে বই প্রকাশ কম বা বেশি হওয়ার কিছু নেই।
আপনারা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন এখনও তোলেননি। সেটা হলো, বইমেলার সামগ্রিক অবস্থা কি? সামগ্রিক অবস্থা আগের প্রশ্নে উত্তর প্রসঙ্গে এসেছে কিছুটা। এবারের অবস্থা ভালো। অর্থ্যাৎ মুক্ত পরিবেশে এবারের মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতোদিন একটা জেলাখানায় বন্দী অবস্থার মতো করে বইমেলা করেছি। এবারে দুইটি কাজ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে। মাঠ, স্টল, অন্যান্য দিকে এখনও কিছুটা অগোছালো রয়েছে। আর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিউটের গেট বন্ধ রাখায় ঐ এলাকার বা ঐ গেট দিয়ে আসতে সুবিধা হয় এমন দর্শক-পাঠক-লেখক-প্রকাশকরা (সবাই আসতে পেরেছে গতবার) অসুবিধায় পড়েছে। গেটটি এবার শুধু শুক্র-শনি এবং বিশেষ দিবসে খোলা থাকবে, অন্যান্য দিনে অনুমতি মেলেনি। আমরা দাবি করি, এই গেটটি সবসময় এবং সবার জন্য খুলে দেওয়া হোক।

প্রশ্ন: কোভিডোত্তর মেলা নিয়ে এবার কি আশা করছেন?
উত্তর: আমার প্রকাশনী এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে না। এখন পর্যন্ত যা দেখলাম, আমাদের যারা প্রকাশক বন্ধুরা আছেন—যেমন- সাবের ভাই কয়েকদিন আগে একটা পোস্ট দিয়েছেন, জানিয়েছেন মেলার অবস্থা খুব খারাপ। তার কথার মূল্যায়ন করতে হয়। অন্যান্যদের অবস্থাও তাই। গেল কয়েক মেলা নিয়েই কয়েকটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। যেমন- মেলার স্টল বিন্যাস। এসব বিষয়ে বাংলা একাডেমি মোটেও আন্তরিক না। তারা এখন খুব বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। তারা প্রচুর স্টল দিলে প্রচুর আয় করতে পারবে। যেটা হয়, দেশী বই বিক্রি করলে আমাদের বেশি লাভ। তাদেরও তেমন বেশি স্টল দিতে পারলে বেশি লাভ। স্টল যাদের প্রাপ্য তারা পেলো কিনা, সেটাও দেখছে না তারা। এসব করতে গিয়ে মেলাটা অনেকখানি নষ্ট হয়ে গেছে। বিশ তিরিশ বছর আগে আমরা যে মেলা করেছি, তার সঙ্গে এখনকার পরিস্থিতির অনেক পার্থক্য ঘটে গেছে। অনেককিছু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে। এখনকার দিনে এতো লম্বা সময় ধরে কোনও মেলা পৃথিবীর কোথাও হয় না। কোলকাতার মেলা তো আন্তর্জাতিক, দিল্লীতেও বুক ফেয়ার হয়। এগুলো দশ বারো দিনের মেলা। এমনকি বিশ্বের অন্যতম বড় বইমেলা ফ্রাঙ্কফুটে মাত্র চারদিনের। এমনকি সেখানে কোনও বইও বিক্রি হয় না। শুধু কপিরাইট বিক্রি হয়। এই লম্বা সময় ধরে মেলা হওয়ার কারণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখানে অলেখকরা লেখক হয়ে যাচ্ছে, অপ্রকাশকরা প্রকাশক হয়ে যাচ্ছে। কোনও পেশাদারিত্ব নেই। এতে প্রকৃত লেখক, প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যদি মেলাটা একটু কম সময়ের হতো, তাহলে সত্যিকার লেখক, প্রকাশকরা উপকৃত হতেন। তার বদলে যার টাকা আছে সেই বই বের করে ফেলছে, এমনকি এদের সংখ্যা এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যার ফলে ভালো বই খুঁজে বের করা মুস্কিল হয়ে গেছে। পাঠক বিভ্রান্ত হচ্ছে, ঠকছে। ফলে তারা আগ্রহ হারাচ্ছে। এদিকে আবার মানুষ অনলাইনে বই কেনে, প্রচুর বই অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। তাই মেলাটাকে গুছিয়ে করার নতুন চিন্তা ভাবনা করা দরকার। যেমন—প্রথমত আমি বলবো, মেলা বাংলা একাডেমি না করে, প্রকাশকদের সংগঠনকে দিয়ে দেয়া দরকার। তাহলে তারা তাদের নিজেদেরটা ভালো বুঝবে। বাংলা একাডেমির তো আসলে বোঝার কথা না। সেখানে যারা চাকরি করে, তারা তাদের চাকরিটা ভালো বুঝবে। তারা বইমেলার কী বুঝবে! তাদের কোনও প্রশিক্ষণ আছে বইমেলা করার? আর কোথাও লেখা আছে বইমেলা বাংলা একাডেমিকেই করতে হবে? এটা তো তাদের বোঝার কথা না। দ্বিতীয়ত মেলার সময়সীমা কমিয়ে আনতে হবে। সময় অন্যভাবেও করতে পারে, যেমন—এখন মেলা শুরু হয় দুপুর তিনটায়, সেটা হয়তো আরো এগিয়ে আনা যায়—কোলকাতার মেলা শুরু হয় দুপুর বারোটায়—এতে কিন্তু আমরা বাড়তি সময় পেয়েই যাচ্ছি। তৃতীয়ত, টিকেট ব্যবস্থা করতে পারে। এটা একেবারে সর্বনিম্ন দশ বা বিশ টাকা করতে পারে। তাহলে হয় কী, জানা যায় কতো দর্শণার্থী মেলা পরিদর্শণ করেছে। কোনদিন কত দর্শণার্থী মেলায় এসেছে। আমাদের কাছে কিন্তু কোনও সঠিক পরিসংখ্যান নেই কত লোক মেলা এলো বা গেলো। আমরা শুধু মুখেই বলি যে প্রচুর লোক হয়েছে। কিন্তু টিকেট ব্যবস্থা থাকলে একেবারে নির্ভুলভাবে বলতে পারতাম, কোন দিন কত লোক এসেছে মেলায়। কোন বছর কত লোক এসেছে বা এবছর সাতদিনে লোক এসেছে আর গত বছর সাতদিনে কত লোক এসেছিলো। কোনও পরিসংখ্যানই নেই। কোনও ব্যবস্থা বা চিন্তাই নেই এদিকে। আবার যারা টিকেট কেটে বইমেলায় ঢুকবে তার একটা প্রস্তুতিই থাকবে বই কেনার। বর্তমানে দর্শণার্থী আসে পার্কে বেড়ানোর মতো করে। তার কোন দায়বদ্ধতা থাকে না বই কেনার। আবার এই টিকেট বিক্রির অর্থ দিয়ে বই কিনে দশ বা বিশ জনকে পুরস্কৃত করা যায়। পুরস্কারের জন্য দর্শণার্থী বৃদ্ধি পেতে পারে। আর স্টল বিন্যাস নিয়ে কথা আছে, প্যাভিলিয়নগুলো এমনভাবে দেয়া হতো, যে পেছনের স্টলগুলো আড়ালে পড়ে যেতো। এবার সে সমস্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বোধ করি। কিন্তু প্যাভিলিয়ন নেওয়া প্রকাশনীগুলো চারদিক খোলা রেখে বই বিক্রি, এভাবেই যদি বই বিক্রি করে তবে তারা বেশি স্টল নিলেই পারে! বাংলা একাডেমিও এদিকে নজর দেয় না। নিয়ম হলো প্যাভিলিয়ন থাকবে চারদিকে ঘেরা, ভিতরে নিজস্ব সজ্জায় বই সাজিয়ে প্রদর্শন করবে। আমি কয়েকদিন আগেও লিখেছি, কোলকাতায় একটি একক স্টলে ঢুকেও মানুষ বই কিনছে। অথচ আমাদের এখানে বিশাল জায়গা নিয়ে করা প্যাভিলিয়নে বাইরে দাড়িয়ে বই কিনতে হয়, আর ভেতরে বসে দোকানদারি করে প্রকাশকরা। শুধু পাঠক সমাবেশ এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম, এবারে আকাশের প্যাভিলিয়ন দৃষ্টি কাড়ছে, শ্রাবণের স্টলটিও আদর্শ। এদের মতো যদি সাজানোর ইচ্ছা না থাকে তাহলে প্যাভিলিয়ন না নিয়ে দশ বারোটা স্টল একসঙ্গে নিয়ে নিতে পারে প্রকাশকরা। পুরো ব্যাপরটাই গলদ। সব মিলিয়ে আসলে বাংলা একাডেমির দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই আমি দুষবো। আসলে তাদের কেন এ মেলা করতে হবে? এখন পাঠক বেড়েছে, প্রকাশক বেড়েছে, লেখক বেড়েছে, মেলার ব্যাপ্তি বেড়েছে। এখনো তারা মেলার আয়োজক হয়েই যাচ্ছে। জানি না তারা কাদের দিয়ে, কোন কর্মকর্তাদের দিয়ে এ মেলা আয়োজন করছে তারা। আবার সেই কর্মকর্তা কদ্দুর কি জানে! তারপর আবার বিকাশ টাকা দেয়, সে টাকা কীভাবে কোন খাতে খরচ হয়! এইভাবে তো চলতে পারে না। বাংলা একাডেমির কাজ মেলা আয়োজন না, গবেষণা করা, বাংলা ভাষার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে। তাদের তো এই বাণিজ্যিক বিষয়ে মোটেও জড়িত হওয়া সাজে না। তারপরও তারা করছে, কারণ তাদের কিছু কর্মকর্তঅ-কর্মচারীদের লাভালাভের বিষয় জড়িত আছে। কোটি কোটি টাকা হাতবদল হয় এই মেলাকে কেন্দ্র করে। তার মধ্যে থেকে কিছু যদি পকেটে যায় খারাপ কী! এই হলো তাদের মানসিকতা, এর ফলে দিন দিন মেলা কিন্তু খারাপ হচ্ছে। মেলায় বিক্রি হচ্ছে এতো টাকা অতো টাকা, এসব বানোয়াট কথা। একটা ফর্ম দেওয়া হয় বিক্রির তথ্যের জন্য, সেখানে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকে না। প্রতিষ্ঠানগুলোও দায়বোধ থেকে সেখানে সঠিক তথ্য দেয় না। কারো দশ লাখ টাকা বিক্রি হলে লিখে তিরিশ লাখ, আবার যাদের ষাট লাখ বিক্রি হলে লিখে তিরিশ লাখ। এর প্রমাণ হিসেবে কোনও উপাত্ত দেখাতে হয় না। তাই সহজেই একাজ করা সম্ভব হয়। এবং এটা দিনের পর দিন হয়ে আসছে। আবার মজার বিষয় হলো, প্রতিবছর তাদের বিক্রির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। আমার দেখা ডিজি বদল হলে বিক্রির হিসাব আরও বেশি করে দেখায়। এসব নিয়ে একেবারে ভুয়া একটা ব্যাপার স্যাপার।
প্রশ্ন: আপনারা এবারের মেলায় অংশ নেননি কেন? নাকি আপনাদের স্টল বরাদ্দ করা হয়নি?
উত্তর: এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলবো না। সময় হলে সব বলবো।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বই প্রকাশের সংখ্যা কমে গেছে কিনা?
উত্তর: একটু কমে গেছে। কিন্তু যারা পেশাদার তাদের বই করতেই হয় সারা বছর ধরে। আর বইয়ের দামও সামান্য বেশি রাখতে হচ্ছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ কম করে বইয়ের দাম নির্ধারণ করছি। কারণ কাগজের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ কিন্তু সে অনুযায়ী বইয়ের দাম বাড়াতে পারছি না। আমরা যারা নিয়মিত বই প্রকাশ করি, তারা দেখছি যে সর্বনিম্ন যেটুকু লাভ না করলেই না সেটুকু করে বই ছাপানোর উদ্যোগ নিচ্ছি। এভাবেই চালিয়ে নিতে হচ্ছে, মনে করছি এটা একটা ক্রান্তিকাল। আজ না হয় লাভ একটু কমই করি। একদম বই বের না হওয়া বা না বিক্রির চেয়ে কম লাভও তো লাভের বিষয়, তাই না! নতুন বই বের না করলে তো আমাদের ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়বে। তাই নতুন বই করতেই হয়। আমরা চেষ্টা করি প্রতি সপ্তাহেই নতুন বই না হোক পুনঃমুদ্রণে হলেও বই বের করার। এটা একটা টার্গেটই থাকে আমাদের।
প্রশ্ন: এর প্রভাবে বা কোন আশঙ্কা থেকে কোন ধরনের বিক্রয় কৌশল হিসেবে কোন ধরনের বই বেশি বা কম প্রকাশ করছেন কিনা?
উত্তর: হ্যাঁ, সেটা হচ্ছে। একটা হচ্ছে, যে বই আমরা এক হাজার ছাপাতাম, সেই বই হয়তো পাঁচশত ছাপছি। ফলে আমাদের লাভের পরিমাণও কমে যাবে। কারণ বই বেশি ছাপালে উৎপাদন খরচ কমে আসতো। এসব সমস্যা নিয়েই আমরা সামনে আগাচ্ছি। বলে রাখি, এই যে কাগজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এর কারণ হিসেবে হয়তো কোন সিন্ডিকেট কাজ করছে। সরকারের এ নিয়ে কোন মাথাব্যাথা দেখি না। এমনকি সংশ্লিষ্টদেরও উচ্চবাচ্য নেই, সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও এ সংক্রান্ত খবর নেই। সংবাদ মাধ্যমগুলো অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে পারে, আসলে হঠ্যাৎ করেই কেন কাগজের দাম বেড়ে গেলো। এর কার্যকারণগুলো কী, সমাধানই বা কী! দেখুন না, যে কাগজ আমরা এক লাখ টাকায় কিনতাম, সেই কাগজ আজ কিনতে হচ্ছে দুই লাখ টাকায়। মাঝখানে পকেট থেকে এক লাখ টাকা হাওয়া। এমনকি মাঝে কাগজ পাওয়াও যাচ্ছিল না। আবার হয়তো বেশি দাম পরিশোধ করলে এনে দিচ্ছে। কালোবাজারির মতো অবস্থা।

প্রশ্ন: কোভিডোত্তর মেলা নিয়ে এবার কি আশা করছেন?
উত্তর: পরপর তিন বছর কোভিড দ্বারা আক্রান্ত বইমেলা পার করেছি। পরিপূর্ণ মেলা করতে পারিনি। তিন বছর পর পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে একটা বইমেলা শুরু করতে পেরেছি। সামগ্রিকভাবে সব কিছুই চমৎকার। এ আয়োজনের ফলে আমরা লেখক-পাঠক-প্রকাশক সবাই উজ্জীবিত। বাংলা একাডেমিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই চমৎকারভাবে আয়োজনটিকে সুসম্পন্ন করার সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়েছেন। আমরা আশা করছি এই বইমেলা চমৎকার হবে। কিন্তু আমাদের মেলার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, কাগজের মূল্য দ্বিগুন, আড়াইগুন, তিনগুন কোন কোন ক্ষেত্রে হয়েছে। বই উৎপাদন সামগ্রীর প্রচুর মূল্য। এর পেক্ষাপটে একটি ভয়াবহ সঙ্কট আমাদের জন্য। এরপরও পাঠকদের কথা ভেবে—তারা দামের কারণে যাতে চাপে না পরেন সেটা বিবেচনায় নিয়ে— বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সংস্থা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ বছর প্রকাশকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা একেবারে মিনিমাম লাভ বা কেউ কেউ ব্রেক ইভেন পয়েন্টে থেকে বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করবে। শুধু প্রাণের বইমেলা নিয়ে যে উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা বজায় রাখতে এবং পাঠকদের স্বস্তি দেয়ার প্রত্যয়ে থেকে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফলে প্রকাশকরা সেই অনুপাতে বইয়ের দাম রাখেননি। যেমন- আমাদের পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স পাঁচ থেকে দশ শতাংশ বইয়ের দাম বাড়িয়েছি। আমাদের পুরনো যেসব বইয়ের স্টক আছে, আমরা সেসব বইয়ে আগের মূল্যে দিচ্ছি। যতোটুকু পেরেছি আমরা, পাঠকদের স্বস্তি দেয়ার, কষ্ট লাঘব করার চেষ্টা করেছি। তাদের বই কেনার যে কষ্ট, অপারগতা সেই জায়গায় সহযোগিতার হাত আমরা বাড়িয়ে রেখেছি। যেন তারা সহজে বই কিনতে পারে, তারা যাতে আনন্দকে, উদযাপনকে অব্যাহত রাখতে পারে-- এসব কিছু নিয়ে আমরা কাজ করেছি। ত্যাগ স্বীকারের চিন্তাভাবনা থেকে সবাইকেই এই সঙ্কটকালে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা আশা করছি বইমেলাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে শেষ হবে।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বইয়ের দামও বাড়িয়েছেন, সেটা নিয়ে পাঠক-ক্রেতার প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
উত্তর: আপনাকে আগেই বললাম, কাগজের দাম কতোটা বেড়েছে। প্রতিটা শিক্ষার্থী যখন কাগজ কিনতে যায় তখন তারা বুঝতে পারে কাগজের দাম কতোটা বেড়েছে। তখন তারা এসে যাচাই করে দেখে বইয়ের দাম ততোটা বাড়েনি। আমরা এ পর্যন্ত কোনও পাঠককে অভিযোগ করতে দেখিনি। বিশেষ করে আমাদের কাউন্টারে আমরা দেখিনি। আমরা আগের যে বই সেগুলো আগের দামেই দিচ্ছি। নতুন বইগুলোর দাম দশ থেকে পঁচিশ শতাংশ বেড়েছে। পাঠক এটা বুঝেছে, তাই এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আমরা পাইনি।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বই প্রকাশের সংখ্যা কমে গেছে কিনা?
উত্তর: হ্যাঁ, দাম বাড়ার পাশাপাশি আমাদের বই প্রকাশের সক্ষমতা কমেছে। বিশেষ করে আমরা প্রতিবছর যেখানে শতাধিক বই করতাম, এ বছর আমরা সর্বাধিক আশিটি বই করছি। আর ধরে রাখতে পারেন আমরা সামগ্রিকভাবে উৎপাদনের পঁচিশ শতাংশ সংকোচন করেছি। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে হয়তো করেছে।
প্রশ্ন: এর প্রভাবে বা কোন আশঙ্কা থেকে কোন ধরনের বিক্রয় কৌশল হিসেবে কোন ধরনের বই বেশি বা কম প্রকাশ করছেন কিনা?
উত্তর: কোন ধরনের বই অত্যন্ত পাঠক উপযোগী, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং মানসম্পন্ন এই সককিছু মিলিয়ে আমরা এবারে বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুব কঠিন থেকেছি। আমাদের মধ্যে কিছু কিছু প্রকাশক হয়তো কিছুটা হলেও ছাড় দিতাম। কিছুটা আপোষ করতাম। কিন্তু এবার এ পর্যন্ত আমরা যতোটুকু দেখেছি, সবাই চেষ্টা করেছে মানসম্পন্ন সীমিত বই করার।
প্রশ্ন: মেলার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
উত্তর: প্রতি বছর মেলায় আমাদের যেসব সাফল্য, তা নিয়ে কথা বলি। যেসব ব্যর্থতা, তা নিয়েও কথা বলি মেলা শেষে। আবার ব্যর্থতাগুলো জয় করতে পরবর্তী মেলায় কাজ করি। একটা অভিযোগ সবাই করছে এবার। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটিউট এর গেট এবার ছুটির দিন বাদে বন্ধ থাকে। এ বিষয় অনেকেই জানেন না। সবাই মনে করে এটা বোধহয় সবসময়ের জন্য বন্ধ থাকে। আসলে ছুটির দিন গেট খোলা থাকে। তাই সবার দাবি হচ্ছে, ওই গেটটি যদি সবসময় খোলা থাকতো, খুব ভালো হতো। আগত পাঠক যারা তাদের অত্যন্ত উপকার হতো, লেখক-প্রকাশক সবার খুব ভালো হতো। আর বাকি বিষয় মেলা শেষে মূল্যায়ন করবো, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সংস্থা এর একটা রিপোর্ট বাংলা একাডেমির হাতে তুলে দেবে। অর্থ্যাৎ আমদের মূল্যায়ন আমরা তাদের লিখিতভাবে জানাবো।

প্রশ্ন: কোভিডোত্তর মেলা নিয়ে এবার কী আশা করছেন?
উত্তর: গত বছর কোভিডের বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও লোকজনের যে পরিমাণ আগ্রহ দেখা গেছে অর্থ্যাৎ বই কেনা এবং প্রকাশ করায় যে জোয়ার ছিলো এ বছর তার ভাটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রশ্ন: এটা কি কাগজের দাম বাড়ার প্রভাব? এ নিয়ে পাঠক-ক্রেতার প্রতিক্রিয়া কী?
উত্তর: কাগজের দাম বাড়ার প্রভাব কিছুটা বাড়লেও প্রকাশকরা সেটাকে তেমন আমলে নেয়নি। কারণ তারা সারাবছর যে কাজ করে, সেজন্য কাগজের দামের দিকে কেউ তাকায় না। সবাই বই বের করার চেষ্টাই করে যাচ্ছে। আপনারা বাজারে গিয়ে দেখতে পাবেন, গত বছর যে বইয়ের দাম পাঁচশত টাকা ছিলো সেটা কিন্তু আটশত টাকা হয়নি। দাম হয়েছে পাঁচশত পঞ্চাশ থেকে ছয়শত টাকা। এতোটুকু বেড়েছে। তাতে কিন্তু পাঠকের খুব একটা অসুবিধা হবার কথা না। বিষয়টা হচ্ছে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ফল করেছে বিধায় তার প্রভাব পড়ছে মেলায়। মেলার দশ দিন পেরিয়ে গেছে, আমরা যারা প্যাভিলিয়ন নিয়ে বসেছি তাদের যে পরিমাণ বিক্রি হবার কথা, আমি বলবো নয় দিনে নয় ভাগের এক ভাগও হয়নি। গত বছর প্রথমদিনেই যে বিক্রি হয়েছিলো, এবার আটদিনে তার সামান্য কিছু বেশি বিক্রি হয়েছে।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বই প্রকাশের সংখ্যা কমে গেছে কিনা?
উত্তর: না, কাগজের দামা বাড়ায় বই প্রকাশের সংখ্যা কমেনি। আমার প্রকাশনী গত বছর যে পরিমান বই বের করেছিলো, এ বছর তার তুলনায় কিছু বেশিই প্রকাশ করবে বরং।
প্রশ্ন: এর প্রভাবে বা কোন আশঙ্কা থেকে কোন ধরনের বিক্রয় কৌশল হিসেবে কোন ধরনের বই বেশি বা কম প্রকাশ করছেন কিনা?
উত্তর: কাগজের দামের প্রভাব বেশি পড়বে মৌসুমী প্রকাশকদের ওপর। কিন্তু সারা বছর যারা বই নিয়ে কাজ করে তারা কাগজের দামের জন্য বই প্রকাশে অনীহা দেখায়নি বা বই প্রকাশ থেকে বিরত হয়নি।
প্রশ্ন: মেলার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
উত্তর: মেলার সামগ্রিক পরিবেশ অনেক সুন্দর হয়েছে। কারণ, বইয়ের স্টলের চেয়ে খাবারের স্টলের জৌলুস বেশি চোখে পড়ছে। আর খাবারের দোকানের ক্রেতা নিয়ে টানাটানি তো আছেই। এখন দেখা যাচ্ছে, এটা আর বই মেলা নেই খাবারের মেলা হয়ে গেছে।

প্রশ্ন: কোভিডোত্তর মেলা নিয়ে এবার কি আশা করছেন?
উত্তর: এবারে কোভিড নেই ঠিকই কিন্ত ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বই ছাপানোর প্রধান উপকরণ কাগজ উৎপাদনের কাঁচামালের ট্যাক্স-ভ্যাট বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগে যে অনুপাতে কাগজের দাম বাড়ার কথা তার চেয়ে অনেকগুণ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বিক্রেতারা। ফলে কাগজের দাম প্রায় দ্বিগুন হয়ে গেছে। এতে শুধু আমরা না, সব প্রকাশনা সংস্থারই বই প্রকাশের সংখ্যা কমে গেছে। যে বইগুলো বের হচ্ছে তার দামও তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে।
এবারের মেলার প্রথম দশ দিনে বিক্রির ক্ষেত্রে যে আগ্রহ দেখছি, গেলবার কোভিড থাকলেও তার চেয়ে বেশি ছিলো। ফলে কোভিড উঠে গেলেও বই বিক্রির ক্ষেত্রে আমরা আশানুরূপ চাহিদা লক্ষ্য করছি না। তাও আমরা আশা করছি মেলার মাঝামাঝি সময়ে বিক্রিটা বাড়বে। এমনটা হলেই আমাদের জন্য ভালো।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বইয়ের দাম বাড়িয়েছেন?
উত্তর: কাগজের দাম বাড়ায় বইয়ের দাম আমরা তেমন একটা বাড়াইনি। যে অনুপাতে কাগজের দাম বেড়েছে সেই অনুপাতে আমরা কাগজের দাম বাড়াইনি। আসলে আমরা বইমেলাকে কেন্দ্র করে বই করি না, আমরা সারাবছর ধরে বই প্রকাশ করি। এই কারণে বইমেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যা কম না। আমাদের এ পর্যন্ত বই বেরিয়েছে প্রায় পঁচিশটার উপরে। সেগুলো নতুন বই হিসেবে চলবে, আগামী দিনে আরও বই যুক্ত হবে, আশা করছি আরও বিশ-পঁচিশটা বই বের হবে।
প্রশ্ন: কাগজের দাম বাড়ায় বই প্রকাশের সংখ্যা কমে গেছে কিনা?
উত্তর: আমরা খুব একটা কমাই নি। আমরা শুধু মেলাকে লক্ষ্য করে বই করি না। আমরা সারাবছরই বই করি। প্রতি বছরই কিছু কিছু নতুন বই বের হয়। তবে নতুন বই করলাম কিন্তু তা বিক্রি হলো না। এটা একটা চাপ হিসেবে দেখা দেবে আমাদের জন্য।
প্রশ্ন: বই বা কাগজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে পাঠক-ক্রেতার প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
উত্তর: বই কেন শুধু, যেকোন পণ্য উৎপাদনের যে ব্যয় তার সঙ্গে সমন্বয় করেই তার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আর যার যেটা প্রয়োজন সে সেটা কিনবেই। আমাদের নানা ধরণের বই আছে। তার মধ্যে শুধু টেক্সট-নির্ভর না, নানা ধরনের, যেমন- আলোকচিত্র, চিত্রকর্ম, স্থাপত্য ইত্যাদি বিষয়ের ওপরও বই আছে। সেগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি। আমাদের চার রঙা, এমনকি পাঁচ রঙা বইও আছে। সাধারণভাবে পাঁচ রঙের একটা বই ছাপতে গেলে খরচ বেশি পড়বে। সেটা উদ্দিষ্ট পাঠকেরাও বোঝে। সে্ই কারণে দাম বেশি হলেও তারা বই কেনে। অর্থ্যাৎ যারা সিরিয়াস রিডার তাদের কাছে দাম তেমন কোনও বিষয় না।
প্রশ্ন: এর প্রভাবে বা কোন আশঙ্কা থেকে কোন ধরনের বিক্রয়-কৌশল হিসেবে কোন ধরনের বই বেশি বা কম প্রকাশ করছেন কিনা?
উত্তর: আমাদের জার্নিম্যান বুকস-এ এমনিতেই নন ফিকশন, গবেষণাধর্মী বইয়ের সংখ্যা বেশি। এসবের লেখক যারা তারা অনেক সময় নিয়ে বইগুলো রচনা করে। আমাদের এই ধরনের বইয়ের জন্য বিশেষ ধরনের পাঠক আছে বলে লক্ষ্য করেছি। তারা এসে নতুন বইয়ের খোঁজ করছে। আর যারা জার্নিম্যান বুকসের নিয়মিত পাঠক তাদের আগ্রহ কম লক্ষ করছি না। আমি বিক্রির ক্ষেত্রে একটা ওভারঅল বললাম। আর বইমেলা শুরুর দিকে বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের বেশি দেখা যাচ্ছে। একই মানুষও বারবার আসছে। তারা দেখে যাচ্ছে। আমরা বিগত দিনে লক্ষ্য করেছি—অনেকে শেষের দিকে বই কেনে। তারা শুরুর দিকে বই দেখে, পরিকল্পনা করে নিজেদের মতো করে, পরে শেষে গিয়ে বই কেনে। এবারও লক্ষ্য করলাম, অনেকে বইয়ের তালিকা সংগ্রহ করেছে। তারা যে আর ফেরত আসবে না তা না, তারাই শেষে গিয়ে বই সংগ্রহ করবে। এবার শুধু না, বেশ কয়েকবছর ধরেই মেট্রোরেলের কাজ উপলক্ষে দোয়েল চত্বর বা টিএসসি থেকে হেটে মেলায় ঢুকতে হয়। মাঝ বয়েসি বা বেশি বয়সী মানুষদের জন্য এটা একটা প্রতিবন্ধকতা। সে কারণে বয়স্ক পাঠক আমরা কম পাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিকল্প কোনও ব্যবস্থা যদি করা যায়, বা কোনও পরিকল্পনা যদি নেওয়া যায়। তাহলে তাদেরও আমরা মেলায় আকৃষ্ট করতে পারবো। অনেক সময় দেখেছি যে গাড়ি থামবে না শুধু নামিয়ে দিয়ে চলে যাবে।
প্রশ্ন: মেলার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
উত্তর: এবার মেলার বিন্যাস ভালো হয়েছে। কোনদিক থেকে কোন অসুবিধা নেই। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি। প্রতিবছরই এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অর্থ বইয়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়ে আগ্রহ-উদ্দীপনা নিয়ে মেলায় আসছে। তবে আমি অন্যান্য মেলায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থেকে দেখতে পাচ্ছি, মেলার প্রচার-প্রচারণায় মনোযোগ কম মেলা-কমিটির। আমাদের যারা সংবাদপত্র, টিভি, অনলাইন মাধ্যমগুলো নিজেদের উদ্যোগে মেলার প্রচার করছে। কিন্তু মেলার আয়োজক পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ লক্ষ্য করি না। বাংলা একাডেমি বা পুস্তক প্রকাশ ও বিক্রেতা সমিতি মেলায় লোক সমাগম বৃদ্ধির জন্য, আকৃষ্ট করার জন্য প্রচারণার কৌশল নেয়ার সুযোগ আছে। এতে করে আরও দর্শনার্থী এবং ক্রেতা বৃদ্ধি পাবে। মেলা আয়োজন, স্টল বিন্যাস ইত্যাদি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মার্কেটিংও গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য আমাদের আলাদা বাজেট থাকা দরকার। আমরা যেমন স্টল বা প্যাভিলিয়ন নিতে অর্থ দিই সেসব নিয়ে মেলার টোটাল যে বাজেট তার খানিকটা যদি মার্কেটিংয়ে ব্যয় করা হয়, তাতে সুফল আসতো। বই নিয়ে প্রচারণা, স্টল বা প্যাভিলিয়ন নিয়ে প্রচার প্রচারণা করলে সেসব বিক্রি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করি। সংবাদ মাধ্যমগুলো নিজেদের উদ্যোগে মেলার প্রচার করছেন, নিজেদের তাগিদে। কিন্ত আপনি কি দেখেছেন বাংলা একাডেমি বা সামিতি কোনও বিজ্ঞাপন দিয়েছে? দেয়া দরকার। লেখক, প্রকাশক ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বিজ্ঞাপন দেয়। কিন্তু মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ তরফে ম্যাসিভ প্রচারণা করা উচিত। এটা শুধু এ বছর না, সবসময়ের জন্যই বিজ্ঞাপনে একটা বাজেট নির্ধারণ করে, সেই বাজেট খরচ করে প্রকৃত পাঠক-ক্রেতা টেনে আনতে হবে।