Published : 21 Aug 2025, 07:17 PM
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু কবিতা আছে, যা কেবল সাহিত্যিক সৌন্দর্য বা ছন্দমাধুর্যের কারণে নয়, বরং জাতির মনোজগতকে আলোড়িত করার ক্ষমতার জন্য যুগ যুগ ধরে আলোচিত। গোবিন্দচন্দ্র দাসের ‘বাঙালি’ তেমনই এক সৃষ্টিকর্ম, যা প্রথম পাঠেই পাঠকের মনে বিস্ময়, ক্ষোভ ও অস্বস্তি জাগায়। কারণ, এই কবিতা বাঙালি জাতির প্রতি এক অকপট ও নির্মম আত্মসমালোচনা - যেখানে নেই কোনো আবেগঘন প্রশংসা, নেই কোন বীরত্বগাথার মহিমান্বিত কল্পনা; বরং আছে কাপুরুষতা, আত্মসম্মানহীনতা, নৈতিক শূন্যতা ও ভণ্ডামির নগ্ন চিত্র।
১৩০৩ সনের (১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দ) ৭ আষাঢ়ে ঢাকা জেলার লতপদিতে রচিত এই কবিতা এক গভীর সামাজিক-রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে জন্ম নিয়েছে। ঊনবিংশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের গোড়ায় বাংলার অবস্থা ছিল নানাভাবে সংকটপূর্ণ। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের দমননীতি, দেশীয় রাজনীতির দুর্বলতা, শিক্ষিত শ্রেণির আত্মকেন্দ্রিকতা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিষ্ক্রিয়তা মিলিয়ে জাতি এক প্রকার নিস্তেজ ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এই সময়ে দেশজুড়ে জাতীয়তাবাদের ঢেউ উঠলেও সেই সঙ্গে ছিল অন্তর্দ্বন্দ্ব, আঞ্চলিকতা, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং ভণ্ড নেতৃত্বের ছড়াছড়ি। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ‘বাঙালি’ কবিতাটি এক ধাক্কা দেওয়ার মতো আত্মসমালোচনার রূপে আবির্ভূত হয়।
পুরো কবিতার গঠন লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আটটি স্তবকের প্রত্যেকটি শুরু ও শেষ হয়েছে একই পঙক্তি দিয়ে - “বাঙালি মানুষ যদি, প্রেত কারে কয়?” এই পঙক্তিটি কবিতার মেরুদণ্ডের মতো, যা একদিকে কৌতুক-বিদ্রূপের, অন্যদিকে গভীর হতাশার প্রতিধ্বনি বহন করে। এই পুনরাবৃত্তি কেবল ভাষার ছন্দ তৈরি করে না, বরং পাঠককে একটি চক্রাকার প্রশ্নের মধ্যে আটকে ফেলে - মানুষ হিসেবে বাঙালির পরিচয় কোথায়? যদি মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ হয় আত্মসম্মান, সাহস, ন্যায়বোধ কিংবা মানবিকতা, তবে এসবের অনুপস্থিতিতে বাঙালি কি সত্যিই মানুষ, নাকি কেবল প্রেতাত্মার মতো এক চলমান দেহ?
কবিতার প্রথম স্তবকেই কবি তীব্র ব্যঙ্গ ছুড়ে দিয়েছেন বাঙালির অপমান সহ্য করার ক্ষমতার দিকে-
"বাঙালি মানুষ যদি, প্রেত কারে কয়?
এমন অধম জাতি,
বুকে মার শত লাথি,
মুখে মার শত ঝাঁটা, অনায়াসে সয়!"
শত লাথি-ঝাঁটা খেয়েও এ জাতি প্রতিবাদ করে না, যেন কিছুই ঘটেনি। বাঙালিকে তিনি শুয়োর ও মেড়ার চেয়েও স্থূলচর্ম বলে অভিহিত করেছেন। এই তুলনা পাঠকের মনে এক ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করে—আমরা কি সত্যিই এতটাই অসংবেদনশীল যে আঘাতকেও আর আঘাত বলে মনে হয় না?
"মেড়ার ডলিলে কান,
সে-ও করে অভিমান,
সেও এসে মারে ঢুস্, নাহি করে ভয়;
এগুলা মেড়ার মেড়া,
ছাগলের লোমছেঁড়া
কুকুরের চেয়ে বেশী পদাঘাত সয়!"
দ্বিতীয় স্তবকে কবি নেমে গেছেন আরও গভীরে-
"মানুষের মতো নহে,
এদের শোনিত বহে,
নরক-নর্দমা শিরা পচাগন্ধময়!
কেবলে হৃদপিন্ড উহা,
নীচতার অন্ধগুহা,
পাতিত্যের প্রস্রবণ প্রাণ উহা নয়!"
এখানে তিনি তুলে ধরেছেন বাঙালির রক্তে নর্দমার দুর্গন্ধ, হৃদয়ভরা ঘৃণা ও লজ্জার ক্লেদ, যেখানে মানবিকতার কোনো স্রোত নেই। ফলে ভাষা প্রায় গালি-গালাজের মতো শোনালেও সেটি নিছক রাগ নয়; বরং এটি এক গভীর হতাশার চরম প্রকাশ, যা জাতির নৈতিক মৃত্যুর প্রতি এক তীব্র আর্তনাদ। প্রথম স্তবকের আবহের ধারাবাহিকতায়, কবি এই স্তবকে দৃশ্যপটকে আরও স্পষ্ট ও গভীর করে তুলেছেন। প্রারম্ভিক বর্ণনা থেকে তিনি পাঠককে ধাপে ধাপে নিয়ে গেছেন স্থান, সময় ও মানসিক অবস্থার সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে—আলো থেকে অন্ধকারে, আশা থেকে অনিশ্চয়তায়, অথবা ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে সামাজিক প্রেক্ষাপটে। এভাবে দ্বিতীয় স্তবকটি মূল সংঘাত বা কেন্দ্রীয় আবেগের দিকে নিয়ে যাওয়ার সেতু হিসেবে কাজ করেছে এবং পরবর্তী স্তবকের আবেগের তীব্রতার জন্য পাঠককে প্রস্তুত করেছে।
তৃতীয় স্তবকে কবি কাপুরুষতার নগ্ন রূপ এঁকেছেন-
"কি আছে মানবধর্ম,
কি করে মানবকর্ম,
কি দিয়ে চিনিব বল পশু এরা নয়?
এরি মতো খায় হাগে,
আর কাজে নাবি লাগে,
এদের জীবন শুধু বিষ্ঠামূত্রময়!
নাহি বীর্য নাহি তেজ,
উদরে গুন্ঠিত লেজ,
বিলুন্ঠিত পরপদে সকল সময়!"
তিনি বলেছেন, বাঙালির না আছে বীরত্ব, না আছে তেজ; আছে শুধু গুটানো লেজের মতো ভীরুতা। এখানে “উদরে গুন্ঠিত লেজ” প্রতীকটি কেবল ভয়ের নয়, বরং আত্মসম্মানের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিরও ইঙ্গিত দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারের অক্ষমতা, যেখানে অবিচারকে ন্যায় বলে মেনে নেওয়া এবং অন্যায়ের মুখে চুপ থাকা যেন স্বভাবের অংশ হয়ে গেছে। এই চিত্রকল্পে কবি বাঙালিকে পশুর চেয়েও নিচু অবস্থানে নামিয়ে এনেছেন। এটি শুধু ব্যঙ্গ নয়, উল্টো আত্মজাগরণের এক নির্মম ভাষা। কবি বলেন, “আত্মজ্ঞানে উদাসীন, অবিচারে পরবাক্য করিবে প্রত্যয়”—এখানে তিনি বিচারহীন, পরনির্ভরশীল, কাপুরুষ বাঙালি জাতির এক নিখুঁত প্রতিচিত্র তুলে ধরেছেন। পুরো স্তবকজুড়ে কবি আমাদের আত্মবোধ, নৈতিকতা এবং সাহসের অভাবকে নির্মমভাবে উন্মোচন করেছেন।
চতুর্থ স্তবকে কবি সাম্প্রদায়িক ভণ্ডামি ও জাতিগত বিভাজনের প্রতি তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন-
"যত মোসলমান হিন্দু,
পতনের মহাসিন্ধু,
নাহি ধর্ম এক বিন্দু অতি নীচাশয়!
বৃথা ও তিলক-ফোঁটা,
পাঁচ ওক্ত মাথা-কোটা,
ধুর্তামি ভন্ডামি ওটা নিশ্চয় নিশ্চয়!"
তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে ব্যঙ্গ করেছেন; কেননা এসব বাহ্যিক আচারের আড়ালে লুকিয়ে আছে ধূর্ততা ও অসারতা। কবির মর্মার্থ এখানে স্পষ্ট—যখন ধর্ম নৈতিকতার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল ভণ্ডামি ও বিভেদের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। “পতনের মহাসিন্ধু, নাহি ধর্ম এক বিন্দু”—এই পঙক্তির মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে লুকানো ভণ্ডামি উন্মোচন করেছেন। “ধুর্তামি ভন্ডামি ওটা নিশ্চয় নিশ্চয়!”—এই উচ্চারণে কবি ধর্মের নামে সামাজিক প্রতারণার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, তিলক-ফোঁটা, পাঁচ ওক্ত—সবই যেন এক অভিনয়, এক থিয়েটার সং, যা প্রকৃত ধর্ম নয়, বরং একটি সামাজিক মুখোশ মাত্র।
পঞ্চম স্তবকে কবি বাঙালির রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা, ক্ষমতাবানদের প্রতি অন্ধ আনুগত্য এবং সাহসের অভাবকে তুলে ধরেছেন-
"হেন ঘোর মিথ্যাভাষী,
অনুগ্রহ অভিলাষী,
জগতে ধনীর দাস আর কেহ নয়!
হতে তার কৃপাপাত্র,
কি শিক্ষক কিবা ছাত্র,
উকিল ডাক্তার আদি সম্পাদকচয়"
তিনি বলেন, “জানিয়া নাহিকো জানে, শুনিয়া শোনে না কানে”-এই বলে কবি দেখান, বাঙালি সচেতন হয়েও অচেতন। সে জানে কিন্তু মানে না। তারা ক্ষমতাবানদের প্রশংসা করে, তাদের অন্যায়কে পূণ্য বলে। কবি তখন মনুষ্যত্বের প্রশ্ন তোলেন। বলেন, তারা “পাপেরেও বলে পূণ্য, হেন মনুষ্যত্বশূন্য”। এর পরেই তিনি বাঙালি জাতির বিবেকহীনতার কথা বলেন। একটি জাতির নৈতিক পতনের দলিল হিসেবে তিনি বলেন, “এমন করিয়া করে বিবেক-বিক্রয়, এ নীচ নিরয়গামী, সদা ঘৃণা করি আমি, দেখিলে এদের মুখ মহাপাপ হয়। "
ষষ্ঠ স্তবকে কবি পাশ্চাত্য শিক্ষার অপপ্রয়োগ এবং ইংরেজি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণের প্রতি তীব্র বিদ্রুপ করেছেন এই বলে যে,
"বৃথা ও ইংরাজি শিক্ষা,
বৃথা ও পাশ্চাত্য দীক্ষা,
প্রসবে যে বি এ, এম এ, বিশ্ববিদ্যালয়,
কি বলিব শেম্ শেম্,
রাসকেল ফুল্ ডেম্,
গোল্ড পাম্পকিন্ সব আর কিছু নয়!"
তিনি দেখান, বাঙালি ইংরেজি পোশাক, বিদেশি উচ্চারণ, এবং তথাকথিত “কলেজি ঢং”-এ অভ্যস্ত হলেও, তাদের হৃদয়ে জ্ঞানও নেই, সহানুভূতিও নেই। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত বাঙালি আত্মকেন্দ্রিক, আত্মপর, এবং সমাজবিচ্ছিন্ন বোঝাতে তিনি উচ্চারণ করেন, “আপনার প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন দেশী, দরিদ্র দীনের দুঃখে গলে না হৃদয়, করে না জীবনপণ, উদ্ধারে বিপন্নজন, অত্যাচাদের যদি দেশ ছারখার হয়!”
সপ্তম স্তবকে কবি ফিরে আসেন তার জন্মস্থান ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলে-
"এই যে ভাওয়ালবাসী,
নিত্য অশ্রুজলে ভাসি"
সেখানে তিনি জমিদার শাসক শ্রেণির নারীর প্রতি সহিংসতা, সমাজের নৈতিক পতন এবং প্রতিবেশীর নির্লিপ্ততা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কত যে কুলের বধূ চুলে ধরি লয়!”- এই পঙক্তি শুধু একটি চিত্র নয়, এটি একটি জাতির বিবেকহীনতার দলিল। সমাজে যখন নারী নিপীড়িত হয়, যখন ঘরের কোণে জননী-বোনের রক্ত ঝরে, তখন educated, enlightened বাঙালি চুপ থাকে। তিনি বলেন, “ইহাদেরি একদেশী প্রতিবেশী হয়!” যারা উচ্চশিক্ষিত, তারা ব্যভিচার দেখে না, তারা শোনে না, তারা প্রতিবাদ করে না। কবি দেখান, অপরাধী ও নির্লিপ্ত ব্যক্তি একই সমাজের অংশ। এটি এমন এক সামাজিক প্রতিবাদ, যা আজও প্রাসঙ্গিক।
অষ্টম স্তবকে কবি তুলনা করেছেন তুরস্ক-আর্মেনিয়ার রাজনৈতিক সংকট এবং খ্রিষ্টান জাতির প্রতিবাদী মনোভাবের সঙ্গে-
"কোথায় সাগরপারে,
তুরুকি আর্মানি মারে,
ইংরেজ রুশের তারা কেহই তো নয়,
এক গোষ্ঠী এক জাতি,
নহে তারা এক জাতি,
কেবল খ্রিস্টের সনে এক পরিচয়!
তবু যে আর্মানি-নারী,
ত্যজিল আঁখির বারি,
তাহতে ডুবিল 'আল্প' অণ্প কি বিস্ময়?"
তিনি বলেন, বিদেশি জাতিগুলো যখন অবিচার দেখে, তখন তারা প্রতিবাদ করে, তাদের হৃদয় গলে, তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া জানায়। “আশি বছরের বুড়া তাহারে করিতে গুঁড়া”—এই পঙক্তিতে কবি দেখান, অন্য জাতির সাহস, প্রতিবাদ, এবং নৈতিকতা। অথচ বাঙালি, শত অপমান, শত নিপীড়নের পরেও চুপ থাকে। “জুতা, লাথি, ঝাঁটা, বেতে, এরা না কিছুতে চেতে”—এই পঙক্তি যেন জাতির অচেতনতার চূড়ান্ত রূপ। কবি জাতির আত্মসম্মানহীনতার চিত্র বোঝাতে বলেন, “বেহায়ার তাতে কিবা লোকলাজভয়!”
গোবিন্দচন্দ্র দাসের ‘বাঙালি’ কবিতা প্রচলিত কাব্যিক রীতির বাইরে গিয়ে একটি তীব্র আক্রোশ ও ব্যঙ্গের ভাষায় রচিত। এই কবিতার ছন্দ কঠোর, কটূ ও প্রায়শই গালি-সমতুল্য শব্দে পরিপূর্ণ। “গু মাখিয়া মারি ঝাঁটা”, “ঢুস্”, “উদরে গুন্ঠিত লেজ”, ইত্যাদি শব্দচিত্র পাঠকের মনে অস্বস্তি সৃষ্টি করে, যা কবির উদ্দেশ্যও বটে। তিনি চেয়েছেন, পাঠক ধাক্কা খাক, লজ্জিত হোক এবং আত্মজিজ্ঞাসায় প্রবৃত্ত হোক। কবির বিদ্রূপ ও ব্যঙ্গের সরাসরি ব্যবহার মানুষের মধ্যে লুকানো নিচুত্বকে প্রকাশ করে। পশু-তুলনা যেমন শুয়োর, মেড়া, কুকুরের মাধ্যমে তা আরও প্রকট হয়। এই কটু তুলনা প্রচলিত সৌন্দর্যবোধকে ভেঙে ফেললেও, মনোজগতে গভীর প্রশ্ন তোলে।
যদিও কবিতার ভাষা ও অলংকার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবুও এর প্রভাব অনস্বীকার্য। গোবিন্দচন্দ্র দাস শুধুমাত্র একজন কবি নন; তিনি একজন অসন্তুষ্ট নাগরিক, যিনি জাতিকে আয়নায় দেখিয়ে দিতে চান তার ভাঙাচোরা ও কুৎসিত প্রতিচ্ছবি। এই প্রতিচ্ছবি মুছে ফেলতে হলে প্রয়োজন আত্মসমালোচনা, নৈতিক জাগরণ ও সাহসের।
আজকের প্রেক্ষাপটেও ‘বাঙালি’ কবিতার প্রাসঙ্গিকতা এতটুকু কমেনি। এক শতাব্দী পেরিয়েছে, তবুও সামাজিক উদাসীনতা, ভণ্ডামি, অন্ধ দলবাজি, অন্যায় প্রশ্রয় এবং আত্মসম্মানের অভাব আমাদের সমাজে অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও বিশ্বায়নের অগ্রগতির পরেও আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে কিংবা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে ভয় পাই। তাই কবির প্রশ্ন আজও আমাদের তাড়া করে—“বাঙালি মানুষ যদি, প্রেত কারে কয়?” এই কবিতা আমাদের আত্মপরিচয়ের সংকটকে সামনে এনে দেয়, যা আজও সমাধানহীন রয়ে গেছে।
সূত্র:
দাস, গোবিন্দচন্দ্র। গোবিন্দচন্দ্র দাসের শ্রেষ্ঠ কবিতা । সম্পাদনা: ড. বারিদবরণ ঘোষ, ভারবি, সেপ্টেম্বর ২০০১, কলকাতা। “বাঙালি,” ১৮৯৬, পৃষ্ঠা ১৩২।