অগ্নিবালক ও রৌরব: বাংলাদেশি দুই লেখকের গুরুত্বপূর্ণ দুই অনুবাদ

রাজু আলাউদ্দিন
Published : 22 Nov 2021, 03:20 PM
Updated : 22 Nov 2021, 03:20 PM


রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ যখন নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলো, তখন আমাদের মনে এই ধারণা জন্মেছিল যে ইংরেজি অনুবাদ ছাড়া এই পুরস্কার হয়তো সম্ভবত হতো না। এই ধারণার যৌক্তিকতা অস্বীকার উপায় আমাদের নেই। যদিও জানি শুধু অনুবাদের গুণই যথেষ্ট নয়, মূল লেখকের প্রতিভাই প্রধান ব্যাপার। কিন্তু অইংরেজিভাষী লেখকরা যতই সুন্দর/সুন্দরী হোন না কেন অনুবাদহীনতার অন্ধকারে সেই সৌন্দর্য দেখার উপায় নেই বহির্বিশ্বের পাঠকদের। ঠিক এই কারণে জর্জ স্টেইনার যখন বলেন Without translation, we would be living in provinces bordering on silence. তখন এই কথার তাৎপর্য আমাদের কাছে তার বাস্তব অর্থ ও প্রমাণ নিয়েই হাজির হয়।
রবীন্দ্রপরবর্তী অনেক লেখকের অনুবাদ বিদেশি ভাষায় হলেও তা যথেষ্ট যেমন নয়, তেমনি তা মানের দিক থেকেও অতটা নজর-কাড়া ছিল না গত শতকের পঞ্চাশের দশক পর্যন্তও– তিরিশের একেবারেই অল্প কয়েকজনের অনুবাদের কথা যদি আমরা ধর্তব্যের মধ্যে না নেই। এখন অবশ্য সেই চেহারা অনেকটাই বদলেছে। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া কিংবা অক্সফোর্ড ইন্ডিয়া এই চেহারা বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে– এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তুু এই বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও বিদেশের আরও কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আছে যারা হয়তো বড় নয়, কিন্তু দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা আর সত্যিকারের গুণ-নির্বাচন, অনুবাদের মূলানুগতা আর সাহিত্যিক গুরুত্ববিচারের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী। আমি এখানে দুটো বইয়ের কথা বলবো যেগুলো সাহিত্যিক গুণের পাশাপাশি অনুবাদের অসামান্যতায় গুরুত্বপূর্ণ।

সেজান মাহমুদ দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসী হলেও, তার মূল লেখালেখি এখনও পর্যন্ত মাতৃভাষা বাংলায় এবং সেসব লেখার বেশিরভাগ বিষয়বস্তুও এই ভূখণ্ডই, যদি বিজ্ঞানকল্পকাহিনীগুলোর কথা বাদ দেই। অবশ্য সেগুলোকেও বাদ দেয়া যাবে না. কারণ সেগুলো কখনো কখনো এই ভূখণ্ডকে ছুঁয়ে গেছে, কিংবা বাংলাদেশি কোন চরিত্র তাতে চিত্রায়িত হয়েছে। সে যাইহোক, মূলত বিজ্ঞানকল্পকাহিনি, প্রবন্ধ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কথাসাহিত্য, ছড়া, কবিতা আর গান রচনার জন্য তার পরিচিতি যেমন ব্যাপক, তেমনি বহির্বিশ্বে, প্রধানত মার্কিন মুল্লুকে তার চিকিৎসা-পেশার জন্যও তিনি কৃতবিদ্য এক ব্যক্তিত্ব। আমি তার বিজ্ঞানকল্পকাহিনির যেমন অনুরাগী, তেমনি তার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অপারেশন জ্যাকপট এবং অগ্নিবালক-এরও গুণগ্রাহী। অসামান্য এই বইটি মূল ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৯ সালে সাহিত্য প্রকাশ নামক রুচিশীল প্রকাশনী থেকে। সাধারণত মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় করে অনেকেই লিখেছেন, এবং বেশির ভাগ লেখা প্রধানতই তরল আবেগের ভাষ্য। সেগুলো সাহিত্যিক উচ্চতার অভিমুখী হলেও শেষ পর্যন্ত সমকাল ও দেশজতার সীমাকে অতিক্রম করে মানবীয় সর্বজনীনতার পরিসরে প্রবেশ অক্ষম। সেজান এই উপন্যাসে আমাদেরকে দেশজ হয়েও দেশাতীত আর কালোজ হয়েও কালোত্তর সেই চেতনায় পৌঁছাতে উদ্বুদ্ধ করেন যেখানে যেকোনো দেশের, যেকোনো ভাষার পাঠক আখ্যানটিকে নিজেদের অভিজ্ঞতার সমান্তরাল বলে ভাবতে পারবেন ঘটনার নির্যাসকে মানবীয় আবেদনে উত্তীর্ণ করার কারণে।


সেজানের এই বইটি গত বছর আমেরিকার অস্টিন ম্যাকলি পাবলিশার্স থেকে ডক্টর ফায়েজা হাসানাত( বাংলায় তিনি এই নাম কী বানানে লেখেন আমি জানি না, অতএব পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে ইংরেজি বর্ণে তার নামটি উল্লেখ করছি: Fayeza Hasanat)। ফ্লোরিডা-ভিত্তিক এই অনুবাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে এমএ করার পর ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে মার্কিন মুল্লুকে উচ্চতর পড়াশুনার জন্য পাড়ি জমান। সেখানে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন অনুবাদতত্ত্বের উপর। বর্তমানে তিনি সেখানকার ই্উনিভার্সিটি অব সেন্ট্রোল ফ্লোরিডায় শিক্ষকতা করছেন।
ফায়েজার অনুবাদে ব্রিল পাবলিসার্শ থেকে ২০০৮ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসার রূপজালাল বইটি প্রকাশিত হয়। এই অনুবাদ বেশ প্রশংসিতও হয়েছে। এরপর নিলীমা ইব্রাহিম-এর আমি বিরাঙ্গনা বলছি বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন তিনি যা বাংলা একাডেমি থেকে ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।।
অনুবাদের পাশাপাশি মৌলিক লেখালেখিতেও ফায়েজার প্রতিভার প্রকাশ লক্ষ্য করা যাবে ইংরেজিতে রচিত The Bird Catcher and Other Stories বইটিতে যা ২০১৮ সালে Jaded Ibis Press থেকে প্রকাশিত হয়েছে । তবে অনুবাদের জন্যই তিনি বেশি পরিচিত। নিঃসন্দেহে তিনি অগ্রগণ্য অনুবাদকদের একজন। তার অনুবাদ পড়ে আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে তিনি আমার জানার পরিধির মধ্যে সামগ্রিক পরিচয়ে উপস্থিত না থাকলেও (অনূদিত বইটির কোথায়ও তার পরিচিতি নেই। থাকলে ভালো হতো।) অনুবাদে অসম্ভব রকমের দক্ষ। মূল বইয়ে নেই, কিন্তু বইটির ইংরেজি অনুবাদে তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে এপিগ্রামের মতো ব্যবহার করেছেন বিশ্বসাহিত্যের প্রথম সারির লেখকদের উদ্ধৃতি, এবং তা কেবল অলংকার হিসেবে নয়, প্রতিটি অধ্যায়ের ঘটনা ও নির্যাসের এক চু্ম্বব-উক্তি হিসেবে। এর ফলে অনুবাদে বইটির প্রতি বিদেশি পাঠকদের আকর্ষণকে বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই গ্রন্থের মূল আকর্ষণ তার কুশলী অনুবাদ। কেন কুশলী– সেটা আমরা পরে আলোচনা করবো। তার আগে আসুন একটু পরখ করে দেখা যাক তার অনুবাদের নমুনা। প্রথমেই আমরা মূলের কাছে যাবো:
নূর মোহাম্মদ অনেকদিন পর চরে নতুন-গড়া মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়ে এসে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। সে প্রতিদিন মসজিদে যায় না। নামাজও যে ঠিক নিয়মিত পড়ে তা নয়। তবে তাকে পড়তে হয়। না পড়লে চরের লোকজন কথা শোনায়, মক্তবের মুন্সি সাহেব বাঁকা করে কথা বলেন। তাই ভেরবেলার এই কাঁচা ঘুম ভাঙানোতে সে খুব বিরক্ত হয়। আছিয়া ওদিকে নূর মোহা্ম্মদকে ডেকেই চলেছে–
'ওটেন বাইজান, ওটেন। হোনই চরে দহল নিয়া কাইজ্যা নাইগছে,আপনি খালি হুয়াই থাহেন।'
আছিয়ার ডাকে বিরক্ত হলেও ধীরে ধীরে উঠে বসে নূর মোহাম্মদ। একমাত্র আছিয়াই এই স্বরে কথা বলে তার সঙ্গে, আর কেউ না। ঘুমের মধ্যে ভয়ের কোন স্বপ্ন দেখছিল সে। ঘুমের ঘোর এখনও কাটে নি, কাটে নি বুকের ধরপরানি।
(সেজান মাহমুদ, অগ্নিবালক,পৃ ১০)

Noor Mohammad was not a devout muslim. He was not even regular in following the daily prayer rituals. Waking up every morning at dawn and dragging his body to the mosque was a tedious task. But he still did it just to avoid being reprimanded by the villagers, his tutor at the Masrassa and sometimes, by his conscience. That morning, after coming back from Fajr prayer at the mosque, he was trying to get back to his sleep cycle when Asya started knocking at his door.
"Wake up, wake up, there's been a feud over the possession of Isle Sonai! This is not the time for you to stay in bed."
Noor Mohammad startled and sat up. Asya's knocking had awakened him from a nightmare that was still beating like a hammer in his head.
(Senaz Mahmud, Fire born, Austin Macauley Publishers, 2020, P 15)

সতর্ক পাঠক মাত্রই এই অংশটুকু পড়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন এই অনুবাদ মূল বাক্য-কাঠামোর কতটা অনুগামী। সত্য বটে, মূলের বাক্যকাঠামো হুবহু অনুসরণ তিনি করেননি। কিন্তু তাই বলে এটাও বলা যাবে না যে তিনি মূলের সব রকম ইশারা ও বাক্যের অর্থ-পরম্পরা লঙ্ঘন করেছেন। এখানে আমরা যেটা দেখতে পাই তাহলো, বাক্যবিন্যাসে তিনি সামান্য স্বাধীনতা নিয়েছেন, কিন্তু বাক্যের, এমনকি বাক্যাংশেরও কোন অর্থের বিলোপ কিংবা বিকৃতি ঘটাননি। কিংবা নিজের থেকে এমন কিছু সংযোজনও করেননি যা মূলে নেই। কিন্তু যদি হুবহু মূলের অনুসরণ করতেন, মনে হয় সেটা অনুবাদক হিসেবে সুবিবেচনার হতো না। কারণ মূলে যে বাক্যবিন্যাস তা হুবহু লক্ষ্যভাষায় অনুসরণ করলে কৃত্রিম এবং গতিহীন হওয়ার অভিযোগ যৌক্তিক কারণেই উঠতে পারতো। অনুবাদক এই বিপদগুলো এড়িয়ে সঠিক কাজই করেছেন বলে আমি তাকে অভিননন্দন জানাই। ফায়েজা হাসানাত-এর ভাষায় একটা উচ্ছলতা আছে। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাহিনি ও সংলাপকে ইংরেজি ভাষায় জীবন্ত করে তুলেছেন। অসামান্য এই অনুবাদকর্মের জন্য ফায়েজা হাসানাতকে আমার আন্তরিক অভিবাদন জানাই।


আমাদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদক শবনম নাদিয়া। ইংরেজি এবং বাংলা, দুটো ভাষাতেই শবনমের দখল রীতিমত ইর্ষণীয়। শবনম যখন বাংলা লেখেন তখন তা নিজস্ব মেজাজে ছন্দময় হয়ে ওঠে– তা সে প্রবন্ধই হোক আর কথাসাহিত্যই হোক। ২০১৩ সালে আয়ওয়া রাইটার্স ওয়ার্কশপ-এর Schulze Fellowship গ্রহিতা শবনম তার প্রকাশিতব্য Unwanted উপন্যাসের জন্য সান হোসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Steinbeck Fellowshipও পেয়েছেন ২০১৯ সালে। এইসব বিদ্যায়তনিক অর্জনের পাশাপাশি তার যে-পরিচয়টি প্রবল ও দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়ে উঠেছে তা হলো অনুবাদক পরিচয়টি। বাংলাভাষায় শবনমের লেখা যেমন লালিত্যমধুর, তেমনি তার ইংরেজি রচনাও এই ভাষিক বৈশিষ্ট্যে নজরকাড়া। শবনম ইতিমধ্যেই বাংলাভাষার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন লেখকের অনুবাদ করে বিদ্যানুরাগী ও রসজ্ঞজনের নজর কেড়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এই লেখক-অনুবাদক ইতিমধ্যে মঈনুল আহসান সাবের, শাহীন আক্তার, মশিউল আলম প্রমুখের কথাসাহিত্যি অনুবাদ করে তার দক্ষতার পরিচয় আগেই রেখেছেন। তার একাধিক অনুবাদ বিদেশে পুরস্কারও অর্জন করেছে। শবনম এবার ইংরেজিভাষী পাঠকদেরকে উপহার দিয়েছেন লীসা গাজীর রৌরব নামক উপন্যাসটির অনুবাদ। লীসার উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল এক দশক আগে। এক দশক পরে এটি শবনম নাদিয়ার অনুবাদে Hellfire নামে ভারতের Eka প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হলো। আসুন একটু মিলিয়ে দেখা যাক অনুবাদের মুনশিয়ানা। প্রথমেই আমরা নজর বুলিয়ে যাবো মূলে:

রাস্তায় আবোল তাবোল ঘুরতে লাভলীর খুব ভালো লাগে। কিন্তু বাসা থেকে বের হওয়াটা পুল সিরাত পার হওয়ার মতো কঠিন এবং জটিল। আজ অবশ্য ঘটনা অন্য রকম, আজ সে সম্পূর্ণ একা বের হয়েছে। কীভাবে এই অসম্ভব সম্ভব হলো তা একমাত্র খোদা'তায়ালাই বলতে পারেন।
তাই বলে একেবারেই যে বাইরে যাওয়া হয় না, তা না। তবে যখন যায় মায়ের সাথেই যায়, দু'একবার অবশ্য বিউটির সাথেও গেছে। সেও যাকে বলে মনে রাখবার মতো ঘটনা। কিন্তু আজ শেলওয়ার কামিজের কাপড় কেনার উদ্দেশ্যে ও একাই বেরিয়েছে। অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্যি।

এবার দেখা যাক শবনমের ইংরেজি সংস্করণ:
Lovely adored wandering random streets without purpose. Getting out of the house, however, was a task as hard and complicated as crossing pulserat, that final bridge of the afterlife spanning the fires of hell. But today was different; today she had left home all by herself, alone. Only Allah ta'ala Himself knew how this impossible had become possible today.
It wasn't as if she never went out.But it was always with their mother; though once or twice, she had gone out with just Beauty.Those were memorable days.Today she had come out all by herself to buy fabric ofr shalwar-kameez. Incredible, but true.
( Leesa Gazi, Hellfire,Eka publishers, 2020,P 1)
ফায়েজার তুলনায় এই অনুবাদ একটু ভিন্ন। এই ভিন্নতা এসেছে দুই অনুবাদকের ক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অবশ্যই। ফায়েজা খানিকটা স্বাধীনতা নিয়ে লক্ষ্য ভাষায় অনূদিত রচনাকে পাঠকবান্ধব করার পক্ষে। পাঠকের পাঠের আরামের ব্যাপারে শবনমও নিশ্চয়ই কম চিন্তিন নন, কিন্তু শবনব প্রায় স্বাধীনতা না নিয়েই মূলের ব্যাঞ্জনা ও অর্থের ঐশ্বর্যকে তুলে দিতে চান পাঠকের হৃদয়ে।
শবনমের অনুবাদ ইংরেজিভাষী পাঠকদের কাছে যে আদরণীয় হয়ে উঠবে এতে আমার সন্দেহ নেই। ফায়েজার অনুবাদও একইভাবে সুপাঠ্য।

অনুবাদকদের পরিশ্রম ও উদ্বেগগুলো সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ ধারণা নেই বলে আমরা তাদের প্রতিবন্ধকতাগুলো সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ। ভিন্ন সংস্কৃতির ঘটনা, আবহ, সংলাপ ও পরিস্থিতিকে অন্য ভাষায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা –কোন রকম পরিবর্তন বা বিকৃতি না ঘটিয়ে– এক কঠিন কাজ। আমরা ধরেই নেই যে কেবল অন্য আরেকটি ভাষা জানলেই বুঝি অনুবাদ করে ফেলা সম্ভব। পুরো বিষয়টা যে কেবল ভাষা জানার উপর নির্ভর করে না তা ইংরেজ লেখক–হায়, এবারও আরেক ইংরেজ লেখকের কাছেই হাত পাততে হচ্ছে– এন্থনি বার্জেস-এর একটা উক্তি থেকেই বুঝা যাবে:
Translation is not only matter of words only; It is a matter of making intelligible a whole culture. সুতরাং একজন অনুবাদক ভিন্ন ভাষায় কেবল অনূদিত লেখকেরই প্রতিনিধিত্ব করেন না, তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন মূল লেখকের গোটা সংস্কৃতির। আর প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে সংস্কৃতিকে intelligible করার এক দুরূহ ও পরিশ্রমসাধ্য কাজে নিয়োজিত হন। কিন্তু আমরা অনুবাদকদের এই ভূমিকার কথা কজনই বা স্বীকার করি বা উপলব্ধি করি? এই অর্থে প্রত্যেক অনুবাদকই হচ্ছেন অঘোষিত ও অস্বীকৃত কিন্তু সবচেয়ে অন্তর্লীন এক সাংস্কৃতিক দূত এবং নির্মাতা। আমাদের এই দুই অনুবাদকেই অভিনন্দন জানাই তাদের এই দুতিয়ালির জন্য এবং একইসাথে তাদের অনুবাদের সাফল্যের জন্য।
বই দুটি সম্পর্কে জ্ঞাতব্য তথ্য নিচে দেয়া হলো:
Sezan Mahmud
Fire Born
Translated by Dr. Fayeza Hasanat
Austin Macauley Publishers, USA
First Published 2020
Page 161

Leesa Gazi
Hellfire
Translated by Shabnam Nadiya
Eka publishers
First publised 2020
Page 198

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক