১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রিয় দলের জার্সিতে নিজের নাম লেখানোর ধুম!

নতুন জার্সির জন্য গুলিস্তানে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড়, নাম-নম্বর প্রিন্ট করার আদ্যোপান্ত।

প্রিয় দলের জার্সিতে নিজের নাম লেখানোর ধুম!
ঢাকার গুলিস্তানে ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের জার্সি, যেগুলো বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে হাজার টাকায়। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন

বিডিনিউজ২৪

আহমেদ ফেরদৌস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jun 2026, 07:48 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:23 PM

গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটের সামনে পৌঁছাতেই কানে আসে হাঁকডাক, ‘আর্জেন্টিনার নতুন জার্সি, মেসির জার্সি নিয়া যান।’

ফুটপাথে, গলির দুপাশে সারি সারি দোকান, সামনে ঝুলছে রঙিন জার্সির থোকা। আকাশি-সাদা, হলুদ-সবুজ, লাল-নীল।

স্টেডিয়াম মার্কেটের ভেতরে ঢুকলেই প্রথমেই চোখে পড়ে ছোট ছোট স্টল। বেশিরভাগেই ঝুলছে আর্জেন্টিনার নতুন জার্সি। অ্যাডিডাস এবার ২২টি জাতীয় দলের জার্সি একসঙ্গে উন্মোচন করেছে। আর্জেন্টিনার এবারের ডিজাইনে তিন বিশ্বকাপ জয়ের স্মরণে তিন ধরনের আকাশি নীলের ছোঁয়া, ঘাড়ের পেছনে লেখা '১৮৯৩', বুকে সোনালি প্যাঁচ। দেখতে সত্যিই চমৎকার।

ফুটপাথের দোকানদার আরিফ বলেন, “আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ব্রাজিলেরটাও বিক্রি হচ্ছে, তবে এখন মেসিভক্তরাই বেশি আসছেন।”

সাধারণ মানের জার্সির দাম এখানে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। ভালো মানের থাই রেপ্লিকা চাইলে গুনতে হবে ৮০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। দাম নিয়ে দরাদরি করার সুযোগ আছে, একটু কথা বললেই কিছুটা কমে।

যেখানে নাম লেখানো হয়

জার্সি কিনে পিঠে নিজের নাম লেখাতে চাইলে বেশিদূর যেতে হয় না। স্টেডিয়াম মার্কেটের উল্টা দিকের স্পোর্টস মার্কেটে অনেকগুলো দোকান। ভেতরেই বসেন ‘স্মার্ট স্পোর্টস প্রিন্ট হাউজের’ স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ উল্লাহ।

ছোট্ট একটা টেবিল, সামনে হিট প্রেস মেশিন, পাশে রঙিন অক্ষরের রোল।

কত লাগবে?

মোহাম্মদ উল্লাহ হাসিমুখে বললেন, “নামের অক্ষর আর নম্বর মিলিয়ে ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে। সাধারণ প্রিন্ট হলে কম, ফ্লেক্স বা ফয়েল হলে একটু বেশি।”

কতক্ষণ লাগে? তার এক কথায় উত্তর, “পাঁচ থেকে বিশ মিনিট।”

দেখা গেল কয়েকজন শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের নাম লেখাবেন।

তাদের মধ্য থেকে সোহেল বললেন, “মেসির নাম দিয়ে কী লাভ, নিজের নামটাই থাকুক।”

শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভনিউ (বঙ্গবন্ধু অ্যাভনিউ) বা সমবায় মার্কেটেও একই ব্যবস্থা আছে। সেখানেও রেডিমেইড জার্সিতে নাম ও নম্বর প্রিন্ট করে দেওয়া হয়।

দল বেঁধে কিনলে সুবিধা

স্টেডিয়াম মার্কেটে দেখা গেল, একদল তরুণ একসঙ্গে এসেছেন। সবাই ব্রাজিলের জার্সি কিনবেন, পিঠে যার যার নাম থাকবে।

দোকানদারকে বলতে শোনা গেল, “দশজনের বেশি অর্ডার হলে দামে ছাড় দেওয়া যাবে।”

পাড়ার দল, বন্ধুমহল বা অফিসের সহকর্মী মিলে একসঙ্গে অর্ডার দিলে, অনলাইনেও বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। রং এক, ডিজাইন এক, শুধু নাম আলাদা আলাদা।

অনলাইনে অর্ডার করতে চাইলে

‘ডেকোরা বিডি’-র ওয়েবসাইটে জার্সি বেছে নিজের নাম ও নম্বর দিয়ে সহজেই অর্ডার করা যায়। ‘ফ্যাশনেট বিডি’-তে আছে আরেকটু বেশি সুবিধা— এখানে নিজের ডিজাইনে লোগো পর্যন্ত যোগ করা যায়।

এছাড়া ফেইসবুক পেজগুলোর মধ্যে ‘ফ্যানলেট বিডি’, ‘খেলবেই’, কিংবা ‘জার্সি ফ্রিক বিডি’-তেও অফিশিয়াল ফন্টে নাম লেখানোর প্রি-অর্ডার সুবিধা আছে।

মেসেজ করলেই তারা অর্ডার নিয়ে নেয়, তবে কেনার আগে পেইজের রিভিউগুলো একটু দেখে নেওয়া ভালো।

কোনটা কিনবেন?

শুধু বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে গায়ে দেবেন, তাহলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার লোকাল বা রেপ্লিকা জার্সিই যথেষ্ট। আরামদায়ক, দেখতেও ভালো।

সংগ্রাহক হলে বা সত্যিকারের জার্সি-প্রেমী হলে প্রিমিয়াম ভার্সন কেনা যেতে পারে। দাম এক হাজারের ওপরে, তবে কাপড়ের মান আর ফিনিশিং অন্যরকম।

পান্থপথ, বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভনিউ বা মিরপুরের স্পোর্টস দোকানগুলোতে এই মানের জার্সি পাওয়া যায়।

গুলিস্তান থেকে বের হওয়ার সময় দেখা গেল, মোহাম্মদ উল্লাহ তখনও মাথা নিচু করে প্রিন্ট করছেন। একটার পর একটা জার্সিতে উঠে যাচ্ছে নতুন নতুন নাম।

বিশ্বকাপের মাঠে না হোক, গলির চায়ের দোকানে বসে খেলা দেখতে দেখতে পিঠে নিজের নাম নিয়ে বসে থাকার আনন্দটাও কম নয়।