Published : 04 Feb 2026, 07:55 PM
কোনো দলের পক্ষ না নিয়ে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে সাংবাদিকদের কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
সেই সঙ্গে সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা বলি, আপনাদের সমস্ত কার্যক্রম আমাদের পক্ষে না; অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে যেন হয়–এটাই আজকের দিনে আপনাদের কাছে চাওয়া। আমরা আমাদের পক্ষে কাজ করার জন্য আপনাদের আবেদন জানাচ্ছি না। আবেদন জানাচ্ছি যে ধরনের একটা নির্বাচনের জন্য আমরা এত বছর ধরে লড়াই করেছি, সেই ধরনের নির্বাচন যেন বাংলাদেশে হয়।”
তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদেরকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার জন্য সব প্রার্থীকে বলা হয়েছে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসলাম জবিউল্লাহ। সভার উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

‘চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দরকার অভিজ্ঞতা’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাজনীতি, ব্যবসা, সাংবাদিকতা বা শিক্ষকতা– কোনো ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।
“অভিজ্ঞতার বেশি প্রয়োজন হয় তখন, যখন সংকট মোকাবেলা করার দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্ন আসে।”
নজরুল ইসলাম খান বলেন, পৃথিবীর বহু দেশ আছে যেখানে সরকার পরিবর্তনে বড় কোনো সমস্যা হয় না।
“কিন্তু বাংলাদেশের মত দেশে, ভাবুন একবার যে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যে স্বাভাবিক অবস্থা, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের বিভিন্ন বিষয়ে যে আকাঙ্ক্ষা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের, এটা পূরণ করা খুব সহজ কি? আমার বিবেচনায় খুব কঠিন।”
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে এই বিএনপি নেতা বলেন, “৭৫ পরবর্তী সরকারদের জন্য এটা চ্যালেঞ্জ ছিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানের পরে যে সরকার, তাদের জন্যও চ্যালেঞ্জ ছিল। বিভিন্ন সময়ে এই চ্যালেঞ্জ ছিল।
“এবারের চ্যালেঞ্জ সম্ভবত আরও বেশি জটিল, আরও বেশি কঠিন। এরকম একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য যোগ্য মানুষদের নির্বাচিত করা, যোগ্য মানুষদের হাতে দায়িত্ব দেওয়া খুবই দরকার। অভিজ্ঞতা এখানে বড় কাজ করবে। আমার বিশ্বাস, সেটা জনগণ বিবেচনা করবে।”
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “নির্বাচনে জেতার চেষ্টা তো থাকবে, সবাই করবে–এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এর মধ্যে যদি নৈতিকতা না থাকে …। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের এখানে নানাভাবে চেষ্টা চলছে। অনৈতিকভাবে, অন্যায়ভাবে জেতার চেষ্টা যদি কেউ করে, এটাকে নজরে রাখতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, “জাল ভোট দেওয়া অপরাধ। কিন্তু কাউকে ভোট দিতে না দেওয়াটাও জাল ভোট দেওয়ার মতই অপরাধ।”
সেদিকেও সাংবাদিকদের খেয়াল রাখার আহ্বান জানান নজরুল ইসলাম খান।