Published : 27 Jan 2026, 05:35 PM
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের ‘নির্বাচনি কার্যালয়ে’ হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন শাখার আমির মোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে উত্তর বেলাই গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। এতে তাদের তিন কর্মী আহত হন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মোফাজ্জল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিএনপি সমর্থিত একদল দাঙ্গাবাজ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কিচক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. শাহ জালাল, সমর্থক মো. রশিদুল ইসলাম ও মো. আবু তাহের গুরুতরভাবে আহত হন। তাদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার পর পরই পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠছে, স্থানীয় প্রশাসন কি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না? বিষয়টি গণতন্ত্র, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন অভিযোগ করেন, “জামায়াত প্রার্থীর ব্যানার এবং ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসন এখনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে পারেনি।”
সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, “বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য জামায়াত এই বায়বীয় অভিযোগ এনেছে।”
শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, “যে স্থানের কথা বলা হচ্ছে তা সরকারি জায়গা। সেখানে কোনো নির্বাচনি কার্যালয় ছিল না। তবে জামায়াত সেখানে কার্যালয় তৈরির কাজ করছিল। তখন বিএনপির তিন-চারজন গিয়ে বাধা দিলে হাতাহাতি হয়।
“পরে তারা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাতে কিছু অসংগতি ছিল। তা সংশোধন করে নতুন করে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনও তা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”