Published : 15 Feb 2026, 12:56 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ৩০টি আসনে নতুন করে ভোট গণনার দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
শনিবার ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নানা অভিযোগও তুলে ধরেন জোটের নেতারা।
জামায়াতের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রে কারচুপি, জালিয়াতি, ভোটদানে বাধা, এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
“আমরা ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, রেজাল্ট শিটে ওভার রাইটিং ও ঘষামাজা হওয়ার কথা নির্বাচনের দিনেও রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছিলাম। কিছু কিছু আসনে ফল প্রকাশে অনেক দেরি হয়েছিল, আবার কোনো কোনো আসনে বিদ্যুৎ গতিতে দেওয়া হয়েছে। এভাবে অনেক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হয়েছে।“
তিনি বলেন, “যেসব আসনে এ ধরনের নির্বাচনি অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও আচরণবিধি মানা হয়নি, সেই আসনগুলোর ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ভোট পুনর্গণনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান আমরা জানিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আমরা জানাব এবং সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেব।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযাম হোসেন হেলাল, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রোটারি ড. আব্দুল মান্নান, পাবনা-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলি উল্লাহ নোমান।
জুবায়ের বলেন, “নির্বাচনের পর বিভিন্ন জায়গায় হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি তারা তড়িৎ পদক্ষেপ নেবেন।”
৩০ আসনে নতুন করে ভোট গণনার দাবি জানিয়ে মুয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, “এসব আসনে ভোট পুনর্গণনা হলে সত্য প্রকাশিত হবে এবং যাদের পরাজিত করা হয়েছে, তারা বিজয়ী হয়ে আসবেন।”
জুবায়েরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানানো আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০ , ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫,বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।