Published : 12 Feb 2026, 02:02 PM
সকাল সকালই ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে হাজির হয়েছেন ষাটোর্ধ হাজেরা বেগম।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার সুযোগ এসেছে, তাই দেরি করিনি। একসঙ্গে দুইটা ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।”
সারাদেশের মতোই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ময়মনসিংহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
সকালে ভালুকা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন নারী।
তারা জানান, দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতেই পারেননি। তাই সকাল সকাল কেন্দ্রে চলে এসেছেন।
পরে ভোট দিয়ে তহুরা খাতুন নামের ভোটার জানান, তিনি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছেন।
তার ভাষায়, “ ভোটের পরিবেশ ভালো। শান্তিতে ভোট দিতে পারছি।”
পুরুষ ভোটারদের লাইনেও দেখা গেছে একই রকম উৎসাহ।
ঝামেলা এড়াতে সকালেই চলে এসেছেন ভোটার সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হোক।”
কথা হয় ভোট দিয়ে বের হওয়া তরিকুল ইসলামের সঙ্গে। ২০২২ সালে ভোটার হলেও এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছেন তিনি।
তাই ভোট দেওয়ার আনন্দকে ইদের আনন্দের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন বলেন, “দুইটা ভোট দিতে কষ্ট হবে ভাবছিলাম, কিন্তু সহজেই দিতে পারলাম।”

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, “এ কেন্দ্রে তিন হাজারের বেশি ভোটার। সকালটা তুলনামূলক শান্ত হলেও বেলা বাড়লে উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছি।”
তবে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
ভোট নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়েছে। এর আগে একটি অভিযোগের পর বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা তখন বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান।
ময়মনসিংহের ১১টি আসনে মোট ১ হাজার ৩৬৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে ৫৮৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৭ জন প্রার্থী।
জেলায় মোট ভোটার ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২, নারী ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ এবং হিজড়া ভোটার ৪১ জন।
নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে ৩ হাজার ২১৭ জন পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন উপজেলায় সেনাবাহিনী, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির একাধিক প্লাটুন, আনসার-গ্রাম পুলিশ, র্যাবের ২১টি টিম এবং ৭৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।