Published : 23 Jan 2026, 10:42 AM
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই স্বাধীনতা চব্বিশে রক্ষা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় দলমত, ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ অংশ নেয়। কোনো ভেদাভেদ ছিল না। চব্বিশেও সবাই মিলে নেমেছে। রিকশা চালক, ভ্যান চালক থেকে শুরু করে শিশু-বৃদ্ধ সবাই আন্দোলন করেছে।”
বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ার মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মঞ্চে উঠেন তারেক রহমান। কিন্তু সাথে সাথে নেমে মঞ্চের সামনে যারা ছিলেন তাদের সঙ্গে হাত মেলান তিনি। পরে ১০টা ৩৪ মিনিট থেকে তিনি বক্তব্য শুরু করে ১৯ মিনিট বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। অতীতে আমরা দেখি অন্য ধর্মের মানুষের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। কিন্তু এর একটারও বিচার হয় নাই।”
তিনি বলেন, “নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মিডিয়ায় খবর এসেছে কিভাবে বিদেশি ভাইদের ব্যালট পেপার একটি দল দখলে নিয়েছে। এমন ষড়যন্ত্র দেশেও হচ্ছে।
“আগে যে নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছিল সেটা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই আপনাদেরকে তাহজ্জুদের নামাজ আদায় করতে হবে। আর ফজরের পরই ভোটকেন্দ্রে চলে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা কৃষি কার্ড করতে চাই। আমরা ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। ইমাম-মোয়াজ্জেনদের বেতন দিতে চাই। আমরাসহ জোটের যে প্রার্থী আছে তাদেরকে নির্বাচিত করতে হলে আপনাদেরকে ভোট দিতে হবে।”
তারেক বলেন, “অতীতে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কথা বলার অধিকার ছিল না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে আমরা এর জবাব দিতে চাই। এজন্য আপনাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
বিএনপির মনোনীত জোট প্রার্থীদের নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ”বিএনপি হিসেবে ধানের শীষের যত ভাইয়েরা আছে এই মানুষগুলো আন্দোলনে ছিল, দেশের গণতান্ত্রিক রাজপথে ছিল। তাদের জিতিয়ে আনতে হবে। তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাস্তা ঠিক হবে, স্কুল মেরামত হবে।

“তাছাড়া তরুণ সমাজ যে বেকার রয়ে গেছে। ধানের শীষ সরকার গঠন করলে তাদের ট্রেনিং দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এদিন সিলেট থেকে শুরু করে একাধিক নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিয়ে তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন। এখানে সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ার মিনি স্টেডিয়ামে ছিল তার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর দিনের চতুর্থ জনসভা।
এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম।
জনসভায় খালেদ মাহবুব শ্যামল ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন আসনের বিএনপি ও জোট মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমান, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী, জুনায়েদ আল হাবিব, আব্দুল মান্নান, এম এ হান্নান উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন।
এছাড়া বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর থেকেই জেলার নয়টি উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভার মাঠে উপস্থিত হতে থাকেন। তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার জন্য দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করেন।