ইথিওপিয়ার আমহারায় লড়াইয়ে নিহত অন্তত ১৮৩: জাতিসংঘ
প্রথমদিকে স্থানীয় যোদ্ধারা সরকারি বাহিনীগুলোকে হটিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু পরে তারা ওই অঞ্চলের প্রধান শহরগুলো ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক যোদ্ধাদের মধ্যে লড়াইয়ে অন্তত ১৮৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, সহিংসতা দমনে সরকারের জারি করা জরুরি অবস্থার অধীনে দেশব্যাপী হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এদের অনেকেই আমহারা অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীর তরুণ সদস্য বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইথিওপিয়া সরকারের মুখপাত্রের মন্তব্য জানার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিভাবে সাড়া দেননি, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আমহারা ইথিওপিয়ার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল অঞ্চল। সরকার এ অঞ্চলের নিরাপত্তা দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ অধিকাংশ আমহারাবাসীর। সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও এটিই সংঘাতে ইন্ধন যুগিয়েছে।
মাসব্যাপী চলা লড়াইয়ের প্রথমদিকে স্থানীয় বেসামরিক যোদ্ধারা সরকারি বাহিনীগুলোকে হটিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু পরে তারা ওই অঞ্চলের প্রধান শহরগুলো ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
“ফেডারেল বাহিনীগুলো নির্দিষ্ট শহরগুলোতে তাদের উপস্থিতি ফের জোরদার করেছে আর ফানো মিলিশিয়ারা গ্রামীণ এলাকাগুলোর দিকে পিছু হটেছে বলে জানা গেছে। আমরা এদের সবাইকে হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অন্যান্য অপব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি,” বলা হয়েছে জাতিসংঘের বিবৃতিতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই জন চিকিৎসক জানিয়েছেন, রোববার ডেব্রে টাবর শহরে এক লড়াইয়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে একজন জানান, এক সপ্তাহ আগে ইথিওপিয়ার সামরিক বাহিনী শহরটিতে প্রবেশ করার পর থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।
তিনি সংঘর্ষে নিহত চার ব্যক্তির মৃতদেহ ও বহু আহতকে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন, এদের মধ্যে তার নিজের শ্বশুরও আছেন; তার বাড়ির কাছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা তার বুকে গুলি করে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অপর চিকিৎসক জানান, অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, এদের মধ্যে তিনজন বেসামরিক ও চারজন পুলিশ কর্মকর্তা; এরা সবাই সামরিক বাহিনীর সমর্থনে লড়াই করছিলেন।
