০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

গোলের পরের কান্নার কারণ জানালেন ইব্রাহিম

ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, বললেন এই ফরোয়ার্ড।

গোলের পরের কান্নার কারণ জানালেন ইব্রাহিম

ছবি: শামছুল হক রিপন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Nov 2026, 08:00 PM

Updated : 06 Nov 2026, 08:21 PM

একটা সময় জাতীয় দলে নিয়মিত মুখ ছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। কিন্তু গত দুই বছরে চোট, অফ-ফর্ম মিলিয়ে হয়ে পড়েন অনিয়মিত। দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন তিনি। অনেক সময় দলে থাকলেও ‘দর্শক’-এর ভূমিকায় বেঞ্চে পার হতো সময়। ভুটানের বিপক্ষে বদলি নেমে গোল করার পর তাই অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি ২৯ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড। সেই কান্নার কারণ জানাতে গিয়ে ইব্রাহিম বললেন, ওই মুহূর্তে তার কেবল দুঃসময়ের কথা মনে পড়ছিল।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বুধবার ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে ভুটানকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচেও তিনি শুরুতে ছিলেন বেঞ্চে। সেখানে বসে দেখছিলেন একের পর এক নষ্ট হওয়া সুযোগগুলো।

দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বনাথ ঘোষকে তুলে ইব্রাহিমকে নামান কোচ টমাস ডুলি। বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যে গোল করে কোচের আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। এরপর সতীর্থদের বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার ফাঁকে তার চোখ চিকচিক করে ওঠে অশ্রুতে।

আগামী বুধবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। শুক্রবার তাই ডুলি কোনো অনুশীলন করাননি দলকে। এবিজি ফুটবল স্পোর্টস গ্রাউন্ডে রিকভারিতে মনোনিবেশ করেন জামাল-ইব্রাহিমরা। এক ফাঁকে ইব্রাহিম জানালেন, গোলের পর আবেগ পেয়ে বসে তাকে।

“এটা (কান্না)…অনেকদিন ধরে আমি দলে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলাম, মাঝে মধ্যে দলে থাকলেও খেলতে পারতাম না। আসলে গোল করার পরে ওই খারাপ মুহূর্তগুলো বেশি মনে পড়ছিল। কী খারাপ সময়ের মধ্যে গেছি, গোলের পরের ওই সময় ওইটাই কাজ করছিল (মনের ভেতরে)।”

“আসিয়ান কাপে বাদ পড়ার…এটা তো কোচের সিদ্ধান্ত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় কোচই নেয়। বাদ পড়াটা অবশ্যই খারাপ লেগেছিল। তারপরেও চেষ্টা করছি যেহেতু আমার তখন (সামনে) সাফ ছিল; চেষ্টা করেছিলাম ক্লাবে যদি ভালো করতে পারি, অবশ্যই দলে সুযোগ পাব। আর সুযোগ পেলে সেটার সৎ ব্যবহার করব।”

বেঞ্চে বসে থাকা সময়ের ভাবনা জানাতে গিয়ে ইব্রাহিম বললেন, সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তিনিও।

“গোল করার জন্য কিছু মুহূর্ত দরকার হয়। ওগুলো আগে থেকেই পড়তে হয়। আমি যখনই বুঝতে পেরেছি আমাদের ডি-বক্সে বল যাচ্ছে, কিন্তু ফিনিশিং হচ্ছে না; আমার লক্ষ্য ছিল আমি যদি ওইখানে থাকি, ওই মুহূর্তে থাকি, যেকোনো সময় আমি একটা বল পাব, একটা-দুইটা বল পাব। আর ওইটা যদি ভালোভাবে ফিনিশ করতে পারি, আল্লাহর রহমতে গোল করতে পারব। আমি ওই চেষ্টাই করেছি; বল রিড করছিলাম যে, কখন সেটা আমার কাছে আসবে ডি বক্সের ভিতরে।”

গোলের ওই মুহূর্তে বিশ্বনাথের বক্সে থাকার কথা ছিল না। সেখানে থাকার কথা ছিল শমিত সোমের। ইব্রাহিম জানালেন, সুযোগসন্ধানী চোখে শমিতের পেছনের ফাঁকা জায়গাটুকু দেখেছিলেন তিনি।

“আমি যখন নামি, কোচ আমাকে বলেন নাম্বার টেন শমিতকে নাম্বার নাইন পজিশনে দিতে। এরপর শমিত যখন ওই বলে সংযোগ করার জন্য যায়, দেখি যে ওর পিছনে একটা স্পেস আছে। আমি ওই বলটায় রান করি। অবশ্য বদলি নামার আগেই কোচ আমাকে বলছিল ডি বক্সের আশেপাশে থাকতে ওই মুহূর্তে, মানে বল পেলে যেন পোস্টে শট নিতে পারি।”