Published : 24 Aug 2022, 07:32 PM
জাপানে নতুন নতুন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।
বিবিসি জানায়, ২০১১ সালে ফকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিপর্যয়ের পর জাপানের বেশিরভাগ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হয়।
কিন্তু এখন বিশ্ব পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ইউক্রেইন যুদ্ধ এর জেরে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে পুরো বিশ্বেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে বৈচিত্রময় উৎস থেকে এর যোগান আসা জরুরি বলে মত কিশিদার।
এছাড়া, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ দেশ হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা জাপান ঠিক করেছে তা পূরণেও পরমাণু শক্তির উপর নির্ভরশীলতা বড়ানো প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন কিশিদা।
বুধবার জ্বালানি বিষয়ক কৌশল নির্ধারণী একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কিশিদা বলেন, (দুর্ঘটনা এড়াতে) অত্যাধুনিক পরমাণু চুল্লি নির্মাণের লক্ষ্যে যেমন কাজ করা হচ্ছে তেমনি জাপান সরকার যেসব পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে অচল আছে সেগুলো পুনরায় সচল করার এবং সেগুলোর আয়ুষ্কাল বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
২০১১ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে জাপানের পূর্ব উপকূলের ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্লাবিত হয়েছিল। পরমাণু চুল্লিগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় এবং সেগুলো থেকে তেজষ্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ায় জাপান জুড়ে ‘নিউক্লিয়ার এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করা হয়। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছিল আশেপাশের দেড় লাখের বেশি মানুষকে।
আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, জাপানে মোট ৫০টি সক্রিয় পরমাণু চুল্লি রয়েছে। ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর সেগুলোর মধ্যে ৪৬টিরই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
২০২১ সালের এপ্রিলে নয়টি চুল্লি পুনরায় সচল করা হয়। আরো ১৪টি চুল্লি সচল করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।