জাওয়াহিরি হত্যায় বিশ্বের প্রতিক্রিয়া, তালেবানের নিন্দা

আল কায়েদা নেতা জাওয়াহিরিকে হত্যা করে ন্যায়বিচারই করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তবে আফগান তালেবান বলছে, এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক নীতি এবং দোহা চুক্তির লঙ্ঘন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 02:58 PM
Updated : 2 August 2022, 02:58 PM

আফগানিস্তানে সিআইএ’র ড্রোন হামলায় জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি হত্যার ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

তার মৃত্যুতে বিশ্বকে নিরাপদ বলছে কেউ; আবার কেউ বলছে ন্যায়বিচার হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান জাওয়াহিরি হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এর আগে ২০১১ সালে আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে অভিযান চালিয়ে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের নেভি কমান্ডোরা।

এরপর আল কায়েদার হাল ধরেছিলেন জাওয়াহিরি। এবার তাকেও হত্যা করল যুক্তরাষ্ট্র। লাদেনের মৃত্যুর পর আল কায়েদার জন্য এও এক বড় ধাক্কা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য বড় ধরনের জয়।

জাওয়াহিরি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কয়েকটি দেশের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে রয়টার্স বার্তা সংস্থা:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউজ থেকে এক মন্তব্যে বলেছেন, “জাওয়াহিরি হত্যা অভিযানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসী নেতা আর নেই; তা তাকে মারতে যত দেরিই হোক না কেন। আপনি আমাদের জনগণের জন্য হুমকি হলে যুক্তরাষ্ট্র আপনাকে খুঁজে বের করে সরিয়ে দেবে।”

ওদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক টুইটে বলেছেন, “জাওয়াহিরির মৃত্যু বিশ্বকে নিরাপদ করেছে। তার মৃত্যু মানে নিরাপদ বিশ্বের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া। সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলা, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অংশীদারদের সঙ্গে কানাডা কাজ করে যাবে। এতে বিশ্বজুড়ে দেশে এবং বিদেশে মানুষ নিরাপদ থাকবে।”

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসী নেতাদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হত জাওয়াহিরিকে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবে জঘন্য সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ও অভিযান বাস্তবায়ন করতেন এই নেতা।”

জাওয়াহিরির মৃত্যুতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টুইটে বলেছেন, আজকের (জাওয়াহিরি হত্যা) খবর প্রমাণ করেছে যে আফগানিস্তানে যুদ্ধে না থেকেও সন্ত্রাসের মূলোৎপাটন করা সম্ভব। আশা করি, তার মৃত্যু ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলায় যেসব মানুষ নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের কাছে কিছুটা স্বস্তির হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও জাওয়াহিরি নিহতের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ২০০১ সালের সেই সন্ত্রাসী হামলা ও অন্যান্য হামলায় অনেকের প্রাণহানি ও রক্তপাতের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। হামলার শিকার সবার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনিও ওবামার মতো বলেছেন, জাওয়াহিরির মৃত্যু তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হবে। অস্ট্রেলিয়া সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ স্বর্গ নয় বলেও স্পষ্ট করে জানান তিনি।

ওদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জাওয়াহিরি হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আফগানিস্তানে গত ২০ বছরের ব্যর্থ অভিজ্ঞতারই পুনরাবৃত্তি এবং তা যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তান এবং গোটা অঞ্চলেরই স্বার্থ পরিপন্থি।

তাছাড়া, এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২০ সালে তালেবানের সই করা দোহা চুক্তির লঙ্ঘন বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি।

ওই চুক্তিতে মার্কিন সেনাদেরকে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল। বিনিময়ে তালেবান কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জঙ্গি হামলা ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছিল।

কিন্তু ওই অঙ্গীকার করলেও তালেবান কখনও প্রকাশ্যে জাওয়াহিরিসহ অন্যান্য আল কায়েদা নেতাদের মতো জিহাদিদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি হয়নি, যে নেতারা তালেবান নেতা বা আমির হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদার আনুগত্য স্বীকার করেছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক