১৫ তলা থেকে দুই শিশুসন্তানকে ছুড়ে খুন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চীনা যুগলের

নৃশংস এ ঘটনায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় শিশু দুটির বাবা এবং তার বান্ধবীর।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Feb 2024, 12:50 PM
Updated : 2 Feb 2024, 12:50 PM

নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে দুই শিশু সন্তানকে ১৫ তলা ভবন থেকে নীচে ছুড়ে ফেলার মতো ভয়ানক কাজই করেছিলেন এক চীনা যুগল।

নৃশংস এ ঘটনায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ওই যুগল ঝাং বো ও ইয়ে চেংচেনের। ঘটনাটি ঘটেছে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নগরী চংকিংয়ে।

শিশুসন্তান খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালে। নিহত দুই শিশুর একটি ছেলে, অন্যটি মেয়ে। ছেলে শিশুটির বয়স ছিল এক বছর। আর মেয়ে শিশুটির বয়স ছিল দুই বছর।

এই শিশুদের বাবা ছিলেন ঝাং বো। আর ইয়ে চেংচেন ছিলেন তার বান্ধবী। ঘটনার এক বছর আগে ইয়ে চেংচেন-এর সঙ্গে বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ঝাং বো। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের শুরু থেকে নিজের বিবাহিত জীবন ও দুই সন্তানের কথা চেংচেনের কাছে গোপন করেছিলেন ঝাং। তবে পরে সত্য জানার পরও ঝাংয়ের সঙ্গে দেখা করতেন ইয়ে চেংচেন।

শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে ছেড়ে চেংচেনের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন ঝাং বো। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু ইয়ে চেংচেন এরপরও ঝাং এর দুই সন্তানকে তার সঙ্গে বিয়ে এবং ভবিষ্যৎ জীবনের পথে বাধা মনে করতেন।

একারণে তিনি দুই শিশুকে হত্যা করতে ঝাংকে প্ররোচিত করেন। খুনের জন্য বার বার ঝাংকে জোর করতে থাকেন তিনি। এরপরই দুইজনে মিলে পরিকল্পনা করেন, বহুতল থেকে শিশুদের ফেলে দিয়ে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার।

২০২০ সালের ২ নভেম্বরে ঝাং তার সন্তানদের ১৫ তলা অ্যপার্টমেন্টের জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন। এই খুনের ঘটনায় ঝাং এবং ইয়ের মৃত্যুদণ্ড হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে।

চীনের সুপ্রিম কোর্ট এই যুগলের খুনের উদ্দেশ্য ‘চরম বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছে এবং তাদের খুনের পদ্ধতি নৃশংস আখ্যা দিয়েছে। ঝাং এবং ইয়ের মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে তা স্পষ্ট জানা যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

তবে চীনে বেশিরভাগ সময়ই লেথাল ইঞ্জেকশন কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ঝাং এবং ইয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর চীনের স্যোশাল মিডিয়ায় উইবোতে ছড়িয়ে গিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অনেকেই মন্তব্যে লিখছেন, “তারা তাদের অপরাধের উচিত শাস্তি পেয়েছে”। কেউ কেউ লিখছেন, “খুবই সন্তষজনক ব্যাপার।”

নিহত দুই সন্তানের মা চেন মেইলিন বলেছেন, আমাদের পরিবার তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে যে দুঃস্বপ্নের যন্ত্রণা ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত তার অবসান হল।