কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে ৪ মৃত্যু, আহত বহু
দেশটির প্রধানমন্ত্রী এটিকে ‘কানাডার মাটিতে সামরিক বাহিনীর জন্য শান্তিকালীন সময়ে ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
কানাডার অ্যালবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সামরিক বাহিনীর চার সদস্যের মৃত্যু ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
রোববার রাজধানী অটোয়া থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এটিকে ‘কানাডার মাটিতে সামরিক বাহিনীর জন্য শান্তিকালীন সময়ে ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ শোচনীয় ঘটনাগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেন।
বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর ওয়েনরাইট ঘাঁটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই ঘাঁটিটি দেশটির অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
রোববার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধোঁয়া ওঠা ঘাস থেকে সূত্রপাত হওয়া আগুন দ্রুত ঘাঁটির প্রশিক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে সেনারা মহড়া চালাচ্ছিলেন। ঘটনাটি কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ দিন সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যালবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানান, আহত ৩৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা সংকটজনক।
ওয়েনরাইটের মেয়র ব্রুস পিউ বিবিসিকে জানিয়েছেন, আগুন নতুন করে জ্বলে ওঠার সম্ভাবনা থাকায় দমকল ও উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে কানাডার সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড জানান, পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা একটি গ্রেনেড রেঞ্জ ও অ্যাটাক রেঞ্জে ‘সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করে তীব্রতর যুদ্ধ প্রশিক্ষণ’ নিচ্ছিলেন, সেখানে ১০ জন সেনা এক কাল্পনিক শত্রুর ওপর আক্রমণ অনুশীলন করছিলেন।
তিনি বলেন, “ওয়েনরাইটের প্রশিক্ষণ এলাকার মধ্য দিয়ে প্রচুর সমরাস্ত্র আনা-নেওয়া করা হচ্ছিল। যার মধ্যে গ্রেনেড লঞ্চার, গ্রেনেড, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল।”
তিনি আরও জানান, এর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঘাসে আগুন লাগে আর প্রবল বাতাসের মধ্যে তা দ্রুত অ্যাটাক রেঞ্জের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
মেয়র পিউ বিবিসিকে জানান, শনিবার ওই ঘাঁটিটি থেকে কামান থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তা থেমে যায়। ঘাঁটিটি থেকে কামানের গোলার আওয়াজ পাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
