ভেঙে গেছে ড্রিলিং মেশিন, সুড়ঙ্গে আটকা শ্রমিকদের উদ্ধারে হাতই ভরসা

ভারতে উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ৪১ শ্রমিককে উদ্ধারে এবার শাবল, গাঁইতি নিয়েই হাতে হাতে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু হবে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Nov 2023, 11:59 AM
Updated : 26 Nov 2023, 11:59 AM

শেষ মুহূর্তে গিয়ে ফের আটকে গেছে উদ্ধারকাজ। ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের উত্তরকাশীতে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিকল অগার ড্রিলিং মেশিন। উদ্ধারকারীদের এখন মেশিন নয়, হাতই ভরসা।

ম্যানুয়াল ড্রিলিংয়ের পথে হেঁটেই ফের শুরু হবে উদ্ধারকাজ। রোববার থেকে শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য শাবল, গাঁইতি নিয়েই হাতে হাতে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু হবে।

সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪১ জন শ্রমিককে উদ্ধারে প্রতি পদক্ষেপেই বাধা এসেছে।এতদিন পর্যন্ত তা কাটিয়ে উঠাও গেছে। কিন্তু শুক্রবার সবচেয়ে বড় বাধা এসেছে। শুক্রবার রাতে ভেঙে চৌচির হয়েছে ড্রিলিং যন্ত্র।

 মোট ৫৭ মিটার সুড়ঙ্গ কেটে সেখান থেকে পাইপ ঢুকিয়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর কথা উদ্ধারকারী দলের। কিন্তু ৪৭ মিটার মত কাটার পরই মেশিন বিকল হওয়ার জেরে বৃহস্পতিবার রাতে বেশ খানিকক্ষণ বন্ধ থাকে উদ্ধারকাজ। শুক্রবার খনন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙেচুরে ভেতরে আটকে যায় অগার মেশিন।

একারণে নতুন করে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে উদ্ধারকাজ। উদ্ধারকারীরা বলছেন, এবার আর নতুন মেশিনের জন্য অপেক্ষা না করে হাতেই কাজ করা ভাল হবে। আন্তর্জাতিক সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান আর্নল্ড ডিস্কও হাতে হাতেই কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। মেশিন আর মেরামত করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

টানা ১৪ দিন ধরে সুড়ঙ্গে আটকে আছেন ৪১ জন শ্রমিক। তাদের বের করে আনতে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে চওড়া পাইপ ঢুকিয়ে শ্রমিকদের বাইরে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু একের পর এক বাধার কারণে তাতে বিলম্ব হচ্ছে।

এলাকাটি পার্বত্যময় হওয়ায় এবং ভূমিধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকার কারণেও উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গত ১২ নভেম্বর নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গটিতে ধস নামে। ৮ মিটার প্রশস্ত ওই সুড়ঙ্গে আটকা পড়া শ্রমিকরা ভারতের ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। জীবিকার জন্য তারা এ কাজে এসেছিলেন।

বিভিন্ন ধরনের চওড়া পাইপ ধ্বংসস্তুপের দেয়ালের ভেতর দিয়ে আনুমানিক ৬০ মিটার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাতে একটি মাইক্রো টানেল তৈরি করা যায়, যার ভেতর দিয়ে শ্রমিকরা হামাগুড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন।

একবার সর্বশেষ পাইপ যেটি দিয়ে শ্রমিকরা বের হবেন, সেটি তাদের পৌঁছে গেলে তাদের শারিরীক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য একজন চিকিৎসককে সেখানে পাঠানো হবে।

আর সুড়ঙ্গের বাইরে প্রস্তুত রাখা হবে অ্যাম্বুলেন্স। কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রমিকদেরকে নিরাপদে বের করে আনা হবে এবং এরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদেরকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।