অস্ত্র দিয়ে শান্তি আনা যায় না: ইস্টার বার্তায় পোপ

গাজা ও ইউক্রেইনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। শান্তি আনা যায় দু’হাত বাড়িয়ে দিয়ে এবং খোলা মনে, বলেছেন তিনি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 March 2024, 04:04 PM
Updated : 31 March 2024, 04:04 PM

ঐতিহ্যবাহী ইস্টার সানডে’র বার্তায় গাজা ভূখন্ড এবং ইউক্রেইনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেন, অস্ত্র দিয়ে শান্তি আনা যায় না।

ভ্যাটিকানে ইস্টার সানডে’র সমাবেশে দেওয়া ভাষণে পোপ বিশ্বব্যাপী সংঘাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, “দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে এবং খোলা মনে শান্তি আনা যায়; অস্ত্র দিয়ে তা কখনও আনা যায় না।”

পোপের ভাষণ শুনতে এ সময় সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সমবেত ছিল হাজার হাজার মানুষ।

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে মিশরের রাজধানী কায়রোয় নতুন করে আলোচনা শুরু হচ্ছে। পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, আমি আবারও গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে গতবছরের ৭ অক্টোবরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের হাতে যারা জিম্মি হয়েছিল তাদের আশু মুক্তিরও আহ্বান জানিয়েছেন পোপ।

বিবিসি জানায়, সাধারণ মানুষ, বিশেষত শিশুদের ওপর যুদ্ধের প্রভাবের কথা তুলে ধরে পোপ বলেছেন, “তাদের চোখে আমরা কতটা দুর্ভোগ দেখছি! ওই চোখ দিয়ে তারা আমাদেরকে জিজ্ঞেস করছে কেন? এতসব মৃত্যু কেন? এতসব ধ্বংস কেন? যুদ্ধ সবসময়ই অযৌক্তিক এবং একটা পরাজয়।”

বিশ্বের দেশগুলোকে নতুন করে অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত না হওয়ার বিষয়েও সতর্ক করে দেন পোপ। ইউক্রেইনে দুইবছর আগে রাশিয়ার শুরু করা যে যুদ্ধ আজও চলছে তা নিয়েও কথা বলেন তিনি।

পোপ বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের নীতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে আমি রাশিয়া এবং ইউক্রেইনের মধ্যে সাধারণ সব বন্দি বিনিময়ের আশা প্রকাশ করছি।”

ইস্টার খ্রিস্টানদের জন্য একটি প্রধান উত্সব। তারা যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের স্মরণে এ দিনটি উদযাপন করে। খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে, যিশুর পুনরুত্থান পাপ এবং মৃত্যুর উপর তার বিজয়ের প্রতীক।

গুড ফ্রাইডেতে রোমানরা যিশু খ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করার তিন দিন পর ইস্টার হয়েছিল বলে মনে করা হয়। খ্রিষ্টের মৃত্যুর তৃতীয় দিবস অর্থাত্‍,রোববার তিনি জেগে উঠেছিলেন।

বড়দিনের মতো ইস্টার সানডে নির্দিষ্ট কোনও তারিখে পালিত হয় না। বলা হয় , ২১ মার্চের পর যখন আকাশে প্রথম দেখা যায় পূর্ণ চাঁদ , তার পরের রোববার পালন করা হয় ইস্টার।

মূলত গ্রেগরিয়ান এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডারসহ বেশ কয়েকটি দিনপঞ্জিকার হিসাব মিলিয়ে বের করা হয় ইস্টারের তারিখ, যা মার্চের শেষদিক এবং এপ্রিলের শুরু থেকে ৮ মে’র মধ্যে যে কোনও সময় হতে পারে।